স্বতন্ত্র লিভার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা জরুরি

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
26

গত সোমবার দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত একটি সংবাদ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেটি হলো : ‘দেশে প্রতি তিনজনে ১ জন লিভার রোগে আক্রান্ত’। প্রকাশিত সংবাদে ঢাকায় হেপাটোলজি সোসাইটি আয়োজিত পঞ্চম আন্তর্জাতিক লিভার সম্মেলনে লিভার বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১ কোটি ক্রনিক হেপাটাইটিস এবং সাড়ে ৪ কোটি মানুষ ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত। অর্থাৎ প্রতি তিনজনে একজন কোনো না কোনোভাবে লিভার রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি, সি ও ফ্যাটি লিভার ছাড়াও সারা বছর হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলতে থাকে। চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাই মাসে চট্টগ্রামে হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করে। গবেষণায় দেখা যায়, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে লিভার রোগের প্রাদুর্ভাবেরও বিবর্তন হচ্ছে। লিভার-সংক্রান্ত সংক্রামক ব্যাধির প্রবণতা থেকে অসংক্রামক ব্যাধির উচ্চ প্রাদুর্ভাবে বিবর্তিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে উভয় প্রকার লিভার রোগের প্রবণতার মুখোমুখি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
বর্তমানে ক্যান্সার, কিডনিরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব রোগ প্রতিরোধে মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের দায়িত্ববোধ বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
পৃথিবীর সব দেশেই নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নিমিত্তে বিভিন্ন রকম নীতিমালা ও কর্মপদ্ধতি বিরাজমান। এটি প্রধানত ওই নির্দিষ্ট রাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। এতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো বিরাজমান। সামগ্রিকভাবে উন্নত দেশগুলোতে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের অনেক রকম কার্যকরী ও ফলপ্রসূ কাঠামো প্রতিষ্ঠিত আছে। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোতে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক কাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। সারা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পেতে ব্যর্থ। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রতিটি মানুষেরই তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার আছে এবং যে কোনো বিবেচনাতেই এর ব্যত্যয় করার সুযোগ নেই। কোনো কোনো দেশে বিত্তবানদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নাগালের মধ্যে আছে বা যারা স্বাস্থ্যসেবা কিনতে পারছে, তারাই আদর্শমানের স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ অনেক সময়ই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে ব্যর্থ হয়।
সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বলতে সব মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বুঝায় যাতে করে তাকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে না হয়। একই সঙ্গে এটি সব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রাপ্তির বিষয়টি বুঝায় না। এটি আসলে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা নীতিকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে উৎসাহ দেয়া হয় যাতে করে যে কোনো রাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যেই জনগণের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। এখানে স্বাস্থ্যসেবা বলতে শুধু ওষুধ প্রদানকে বুঝায় না, বরং বর্তমানের সব রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সম্ভাব্য সব অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনা, মৌসুমভিত্তিক সংক্রামক রোগের সময়োচিত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, এবং জীবনব্যাপী সব মানুষের আদর্শ সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখা সব প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করাকে বুঝায়।
হেপাটোলজি সোসাইটি আয়োজিত পঞ্চম আন্তর্জাতিক লিভার সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নগর হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের সাময়িক মহামারির ঝুঁকিতে আছে। তবে সেটা মোকাবেলা করার জন্য তেমন প্রযুত্তিগত প্রস্তুতি নেই। তাই লিভার রোগের এমন প্রবণতা মোকাবেলা করতে অনতিবিলম্বে দেশে একটি স্বতন্ত্র লিভার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা জরুরি এবং প্রয়োজন এক হাজার লিভার বিশেষজ্ঞ।
জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতদের দায়িত্ববোধ বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

x