স্থুলতা যখন একটি রোগ

রাশেদা আফরিন মেরিনা

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
80

আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েসন (AMA) ২০১৩ সালে স্থুলতাকে একটি রোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব স্থুলতা ফেডারেশন, কানাডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশন ও এক্ষেত্রে একমত পোষণ করেন। এই সমস্যাটি মূলত শরীরের নিজস্ব প্রক্রিয়া থেকে উদ্ভুত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফ্যাট বা চর্বি জমা করে, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

স্থুলতার কারণ

;শরীরের ওজনে জেনেটিক, আচরণগত এবং হরমোনের প্রভাব থাকলেও অপর্যাপ্ত ইচ্ছাশক্তি, শৃংখলার অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ওজন বৃদ্ধির প্রধান কারন। এছাড়া অন্যান্য কারণগুলো হল-
;স্বাভাবিক দৈনিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে বার্ন করার চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণে।
;উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং পানীয় পাশাপাশি দ্রুত খাবার গ্রহণে ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
;পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব অথবা অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ক্ষুধা বাড়ায় এমন হরমোনের পরিবর্তন হতে পারে,ফলে উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ে যা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
;সন্ধ্যা ৫ টার পর ভারী খাবার গ্রহণে।
;গর্ভাবস্থায় বর্ধিত ওজন সন্তান প্রসবের ১ বছরের মধ্যে না কমানোর ফলে।
;পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে একইরকম খাওয়া এবং কার্যকলাপের অভ্যাস মিল থাকায় বাবা-মার ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্তানদেরও ভবিষ্যতে স্থুলতার ঝুঁকি থকতে পারে।

স্থুলতার ফলে জটিলতা

;স্থুলতার কারণে সম্ভাব্য কিছু সমস্যা হবার সম্ভাবনা আছে। যেমন-
;উচ্চ রক্তচাপ, হ্রদরোগ, মেটাবলিক সিনড্রোম, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, গলব্লাডার রোগ, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কম উচ্চ ঘনত্ব লিপোপ্রোটিন (ঐউখ) কোলেস্টেরল, স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা, যেমন- প্রজনণ এবং অনিয়মিত সময়কাল ও নন এলকোহলযুক্ত ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ইত্যাদি।
স্থুলতা প্রতিরোধে করণীয়

;প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম অথবা ৪০-৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা।
;সাদা চাউল বা রুটির পরিবর্তে জটিল কার্বোহাইড্রেট যুক্ত লাল চাল, ব্রাউন পাউরুটি বা রুটি খাওয়া।
;মিষ্টি এবং তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা
;ফাস্টফুডের পরিবর্তে ফাইবার জাতীয় যেমন শাক-সবজি, ফল এবং বীজ জাতীয় কাবার খাওয়া।
;বাজারের সোডা জাতীয় পানীয় পরিহার করা।
;নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমান খাবার গ্রহনের অভ্যাস করা।
;প্রতিদিন ২.৫-৩.০০ লিটার পানি পান করা।
;সপ্তাহে অন্তত একবার নিজের ওজন চেক করা।

অতিরিক্ত কম ওজন বা বড়তি ওজন কোনটাই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল না। তাই স্বাস্থ্যকর উপায়ে সারাদিনের ক্যালরি হিসাব করে ওজন কমাতে অবশ্যই নিকটস্থ কোন পুষ্টিবিদ থেকে পরামর্শ নেয়া উচিত।
লেখক
পুষ্টিবিদ, শিওরসেল মেডিকেল, চট্টগ্রাম

x