স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ডা. আকাশের আত্নহত্যা

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
217

চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সাড়ে সাত মাসের মাথায় আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আসল আদালতে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের গত সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এরপর সেখান থেকে যায় মহানগর হাকিম আদালতে।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন, চিকিৎসক আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার মা শামীমা শেলী, বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং মিতুর কথিত বন্ধু ডা. মাহবুবুল আলম।
মামলার ছয় আসামির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় নাগরিক উত্তম প্যাটেল নামের একজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, ডা. আকাশকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মিতু, তার বাবা-মা ও বোন এবং ডা. মাহবুবুল আলমসহ মোট পাঁচজনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি সংশ্লিষ্ট আদালতে ‘সিন’ করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রহিমও অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান।
মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১ ফেব্রুয়ারি ডা. আকাশের মা জোবেদা খানম বাদি হয়ে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে ছয়জনকে আসামি করে মামলাটি করেছিলেন। ৩২ বছর বয়সী আকাশ থ্রি ডক্টরস নামে মেডিকেল ভর্তির একটি কোচিং সেন্টারও চালাতেন। তার স্ত্রী মিতু কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন করেন। সেখানেই আকাশের সঙ্গে তার পরিচয় এবং ২০১৬ সালে বিয়ে। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান মিতু। সেখান থেকে গত ১৩ জানুয়ারি দেশে ফেরেন। এরপর ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন আকাশ। আত্মহত্যার আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগ করে যান। এর প্রমাণ হিসেবে মিতুর সঙ্গে তার বন্ধুদের বেশ কিছু ছবিও তিনি ফেসবুকে তুলে দিয়ে যান। গত ৩১ জানুয়ারি রাতে নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মিতুকে আটক করে পুলিশ। আকাশের মায়ের করা মামলায় মাহবুবুল আলম নামে যে চিকিৎসককে আসামি করা হয়, তিনি কুমিল্লা মেডিকেলে মিতুর ব্যাচমেট ছিলেন বলে তখন জানিয়েছিল পুলিশ। অগাস্টের শেষ সপ্তাহে উচ্চ আদালত থেকে এ মামলায় জামিন নেন মিতু। অন্য আসামিরা সবাই পলাতক।
এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক প্যাটেলকে অভিযোগপত্রে বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আসামি প্যাটেল যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় এবং তিনি বাংলাদেশে কোনো অপরাধ সংঘটিত না করায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, আসামিরা মানসিক যন্ত্রণা ও উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে আকাশকে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিজেকে শেষ করে দেয়ার জন্য বাধ্য করেছিলেন। মৃত আকাশ চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আবদুস সবুরের ছেলে। নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়িতে তাদের পরিবার বসবাস করে।

x