স্ত্রীকে তালাক আদালতে বিয়ের ব্যবস্থা, অতঃপর…

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
237

মাওলানা আমজর শাহ (৪৩), তিন সন্তানের জনক। পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক আমজর শাহ আকলিমাকে রেখে আরেক বিয়ে করেন। এরই মধ্যে যৌতুকের দাবিতে আকলিমাকে মারধরের ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। এক পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে আকলিমাকে তালাক দেন ডবলমুরিং থানার পশ্চিম নাসিরাবাদ এলাকায় বসবাসকারী আমজর। কিন্তু স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ। একমাসের মধ্যে উভয়ে আবার সংসার করবে এ শর্তে আমজরের জামিন দেন আদালতের বিচারক। আদালতের বেঁধে দেয়া শর্ত অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় গতকাল বুধবার দুপুরে মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আকবর হোসেন মৃধা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আমজরের কারাগারে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আদালতের ভেতরে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, একমাসের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আপোসের শর্তে জামিনে ছিল মাওলানা আমজরের। গতকাল আদালতে এসে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক আকলিমাকে বিয়ে করেছে কিনা জানতে চান তার কাছে। এ সময় তিনি আদালতকে না সুচক উত্তর দিলে আদালতের বিচারক বলেন, এখনই বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তা না হলে কারাগারে যেতে হবে। এ বিষয়ে আকলিমার আইনজীবী এডভোকেট হাবিবুর রহমান আজাদ জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আদালতের ভেতরেই বিয়ে হবে। কাজী ডাকা হল। কাজী বালাম নিয়ে উপস্থিত দুপুর ১টার দিকে। সবকিছু ঠিকঠাক। মোক্ষম মুহূর্তে বেঁকে বসেন আমজর। তিনি এসময় আদালতকে বলেন, হুজুর আমি ওকে (স্ত্রী আকলিমা) তালাক দিয়েছি। আবার বিয়ে করতে পারব কিনা? এসময় আদালতের মন্তব্য ছিল, ‘আপনি (আসামি) বাটপার’। আদালতের কাছে দেয়া কথা ভঙ্গ করেছেন’। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক। মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দু‘জনের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিন ছেলে-মেয়ে। বড় ছেলে কোরানের হাফেজ। সম্প্রতি আরেকজনকে বিয়ে করে আকলিমার স্বামী মাওলানা আমজর। পরে গত ২৯ জানুয়ারি ২ লাখ টাকার যৌতুকের দাবিতে আকলিমাকে মারধরের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এ তিনি স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালতে বিচারক মামলাটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহন করার আদেশ দেন হালিশহর থানা পুলিশ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের হাজির করলে বিচারক স্ত্রীর সাথে একমাসের মধ্যে আপোসের শর্তে তাকে জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু জামিনের সেই শর্ত প্রতিপালন না করে গতকাল আবারো আদালতের কাছে জামিন চান আমজর শাহ। আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে আকলিমাকে তালাক দেন তার স্বামী। এ বিষয়ে আকলিমা বেগমের আইনজীবী এডভোকেট হাবিবুর রহমান আজাদ বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি আমার মক্কেলকে আসামি মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন। এ কারণে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এর ১১ (গ)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

x