স্তন্যপায়ী তিমি

অর্ক রায় সেতু

বুধবার , ১ আগস্ট, ২০১৮ at ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
84

তিমি নিয়ে মানুষের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। বিশাল গড়ন ওয়ালা এই অদ্ভুত প্রাণীকে নিয়ে বানানো হয়েছে সিনেমা ফিচার ইত্যাদি। ঠিক, এদের নিয়ে মানুষের কাছে প্রচলিত আছে নানা রকম ভুল ধারণা। অনেকেই তিমিকে মাছ হিসেবে চিনে থাকে, মাছের প্রজাতির সাথে এদের বৈশিষ্ট্য শ্বাসতন্ত্র সম্পুর্ণ ভিন্ন। এদের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য মাছেদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। তারা মস্তবড় ফুসফুস দিয়ে মানুষের মতো শ্বাস নেই। তিমিদের কিছু গুণ মানুষের সাথে মিল পাওয়া যাই। তবে মানুষ তিমিদের মতো পানির নিচে বেশিক্ষণ দম আটকে থাকতে পারেনা। এরকম অনেক কিছু মানুষপ্রাণীদের মধ্যে সাদৃশ্য বৈশাদৃশ্য তৈরী করে রেখেছে। বাচ্চা অবস্থায় তিমিরাও মানুষের মতো মায়ের দুধ খেয়ে বড় হয়। মাছেদের বেলায় এটা উলটো। মাছ অনেক দিন পানির নিচে কাটিয়ে দেয়। তিমিদের অক্সিজেন ফুরিয়ে গেলে পানির উপরে ভেসে আসে। নাকের ফুটো দিয়ে বাতাস থেকে অক্সিজেন নিয়ে আবার পানির নিচে চলে আসে প্রায় ত্রিশ মিনিটেরও মতো দম না নিয়ে পানির নিচে আনায়াসে কাটিয়ে দেয়। তিমিরা ও বিশ্রাম নেয়, ঘুমায়, তবে ঘুমানোর অবস্থায় এদের মস্তিষ্ক অর্ধেক সক্রিয় থাকে। শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজন হলে এরা আন্দাজ করতে পারে, তখন তিমিদের পানির উপরে ভেসে আসতে হয় অক্সিজেনের জন্য। তিমিরা বিশাল লেজওয়ালা পাখনা দিয়ে পানিতে খেলা করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে, এই যোগাযোগ প্রায় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। তিমিরাও গান করে । কেউ যখন বিশাল আকৃতির তিমিকে কূলে বা মাঝ সমুদ্রে ভেসে আসতে দেখে তারা মনে করে সমুদ্রের বুকে চর জেগে উঠেছে। এতে করে অনেকেই আঁতকে যায়। উত্তর আটলান্টিকে রাইড করতে দেখা যায় এই অদ্ভুত প্রাণীকে। তবে পৃথিবীর প্রায় সকল সমুদ্রে এরা ঘুরে বেড়ায়। তিমিদের অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তির পথে। মানুষের নানা প্রয়োজনে এদের শিকার বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশে গাভী ষাঁড়ের নামে স্ত্রী তিমিদের গাভী, পুরুষদের ষাঁড়, আর বাচ্চাদের বাছুর ডাকা হয়। স্ত্রী তিমিরা মাত্র একটি বাচ্চা প্রসব করে আর বাচ্চা তিমিরা প্রায় ছয়মাস মায়ের দুধ খেয়ে থাকে। বাচ্চা অবস্থায় তিমিরা বড় হওয়া পর্যন্ত মায়ের খেয়ালে থাকে। তিমি মায়েদের দুধে রয়েছে ৫০ শতাংশ ফ্যাট থাকে যা একটা বাচ্চা তিমির শরীরের কাঠামো গঠনে যথেষ্ট। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নীল তিমি যার দৈর্ঘ্য ত্রিশ মিটার ওজনে একহাজার কেজি বেশ কয়েকটা হাতির সমান। অনেকে অবাক হয়ে থাকে তিমিদের খাবারের সংখ্যা শুনলে। আরেকটা প্রশ্ন আসতে পারে তিমিরা এত্ত এত্ত খাবার কিভাবে পেয়ে থাকে । প্রতিদিন একটা বড় তিমি সাড়ে তিন মেট্রিক টনেরও বেশি খাবার খায়। সমুদ্রের কোটি কোটি ক্রিল এরা আহার হিসেবে গ্রহণ করে।

x