স্কুলছাত্রীকে ৮ মাস আটকে রেখে ধর্ষণ

শিকলবাহা থেকে উদ্ধার

আনোয়ারা প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
1734

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় আনোয়ারার এক স্কুল ছাত্রীকে ৮মাস ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ ও মানসিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গতকাল বুধবার কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং এলাকার একটি ঘর থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পিবিআই। তবে এ সময় আসামিদের কাউকে গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৬ আসামির প্রত্যেকের বিস্তারিত নাম ঠিকানা পেয়েছে পিবিআই। আনোয়ারা উপজেলার গুন্দ্বীপ গ্রামের আবদুর রহমান তালুকদার বাড়ির মোহাম্মদ সেলিম (৩০) স্কুলছাত্রীটিকে অপহরণ করে মাসের পর মাস আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছিল। এতে সেলিমের মা সুফিয়া বেগম (৪৯)-সহ আরো ৫ আসামির প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। সেলিম ও ভিকটিম স্কুল ছাত্রী সম্পর্কে মামাত-ফুফাত ভাই-বোন। তাদের বাড়িও একই এলাকায়।
নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের পর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মায়ের জিম্মায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণের বিষয়টি পিবিআইয়ের কাছে জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে সেলিম ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে ওই স্কুল ছাত্রী।
পিবিআই সূত্রে আরো জানা যায়, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীটি গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে অপহৃত হন। উপজেলার গুন্দ্বীপ এলাকার বাড়ি থেকে প্রতিদিন আসা যাওয়া করে সে আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত। সে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। স্কুল যাওয়ার পথে মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ লোকমান (৩৫), মোহাম্মদ তৌহিদ (৩২) তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সেলিম তার মা সুফিয়া বেগম, সেলু (৩০), ও নাসরিন আকতারের (৩১) সহযোগিতায় আটকে রেখে দিনের পর দিন নির্যাতন চালাতে থাকে।
এঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে নানা কৌশল ও মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গতকাল ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মধুসূদন শীল জানান, আসামিদের ধরতে সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। ভিকটিমকে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

x