সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের ‘নতুন চর্যাপদ’ চর্যাপদ গবেষণায় মাইল ফলক

মাহবুবুল হক

শুক্রবার , ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
350

চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। আনুমানিক হাজার বছর আগে বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাধকরা তাদের ধর্মসংগীত হিসেবে এগুলি রচনা করেছিলেন। সাধন-ভজন হিসেবে তা গাওয়া হতো। অনেকেই ধারণা করেছেন, নানা কারণে বৌদ্ধ ধর্ম এ দেশে লুপ্তপ্রায় হলে জনমানস থেকে এসব হারিয়ে যায়। ১৯০৭ সালে নেপালে গিয়ে সেখানকার রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চারটি পুঁথি উদ্ধার করেন ভারততত্ত্ববিদ মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। তিনি ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটির পক্ষে বাংলা পুঁথি সংগ্রহের দায়িত্বে। তিনি যে চারটি পুঁথি উদ্ধার করেন সেগুলি হলো চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সরোজবজ্রের (সরহের) দোহাকোষ. কৃষ্ণাচার্য বা কাহ্নপার দোহাকোষ ও ডাকার্ণব। এ চারটি পুঁথিকে প্রাচীন বাংলা ভাষার নিদর্শন বিবেচনা করে সেগুলিকে একত্রে তিনি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধ গান ও দোহা নাম দিয়ে প্রকাশ করেন। এর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় ছিল তালপাতার পুঁথিতে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত একটি গানের সংকলন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ চারটি পুঁথির মধ্যে কেবল চর্যাচর্যবিনিশ্চয় নামের পুঁথিটিই বাংলা। এ পুথিতে সংকলিত রচনাগুলি চর্যাপদ বা চর্যাগীতি নামে বহুল পরিচিত। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস পুনর্গঠনে এই আবিষ্কার একটি মাইল ফলক হয়ে আছে। ভারতীয় বৌদ্ধ ধর্মের যেসব গ্রন্থের তিব্বতি অনুবাদ হয়েছিল তার মধ্যে চর্যাপদও ছিল। প্রবোধচন্দ্র বাগচী তিব্বতি অনুবাদের সাহায্য নিয়ে চর্যাপদের পাঠ উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন তিব্বত থেকে ২০টি চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। ১৯৫৪ সালে সেগুলো এলাহাবাদ থেকে প্রকাশিত হয়।
শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে নেপাল ও তরাইভূমি থেকে ২৫০টি পদ আবিষ্কার ও সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৯৮টি পদকে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করায় সে উদ্যোগ সফল হয়নি। তাঁর সংগৃহীত চর্যাপদগুলো ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নব চর্যাপদ নাম দিয়ে সংকলিত ও প্রকাশিত হয়। নবচর্যাপদ গ্রন্থের ৯৮টি পদের মধ্যে ৬টি আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। এগুলোর রচনাকাল বারো থেকে ষোলো শতকের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়।
পাশাপাশি বাংলা ভাষার এই প্রাচীন নিদর্শন নিয়ে নানা গবেষণা চলে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বিধুশেখর শাস্ত্রী, সুকুমার সেন, তারাপদ মুখোপাধ্যায়, নীলরতন সেন প্রমুখ পণ্ডিত এ গ্রন্থের নাম, রচনাকাল, ভাষা ইত্যাদি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন। তাঁরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় বা চর্যাপদ পুথিটিই বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্য নিদর্শন।
চর্যাপদ প্রকাশের পর গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে ও বাংলার বাইরে চর্যাপদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও তা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। এই ধারায় সর্বশেষ কাজটি আমরা পেয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও ফোকলোর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের কাছ থেকে। ২০১৭ সালের একুশের বইমেলায় প্রকাশিত এই বইটির প্রকাশক হলেন কথাপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন। রয়াল আকৃতির এই বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৬+৬৯৬। উৎসর্গপত্রে লেখা হয়েছে, ‘এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮০ বছর পূর্তিতে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য।’
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সংগৃহীত চর্যাপদগুলো সুপ্রাচীন। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, এগুলোর রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতক। অন্যদিকে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, এগুলো সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে রচিত। পক্ষান্তরে নতুন চর্যাপদে যেসব চর্যাপদ সংকলিত হয়েছে সেগুলোর রচনাকাল অষ্টম থেকে বিশ শতক পর্যন্ত। সুতরাং নতুন চর্যাপদগুলোর এই সংগ্রহ এ কথাই প্রমাণ করে যে, এগুলো কেবল প্রাচীন সাহিত্যের নিদর্শন নয়, মধ্যযুগেও এগুলোর রচনা অব্যাহত ছিল। এমনকী বিশ শতকেও চর্যাপদ রচিত হয়েছে।
নতুন চর্যাপদ গ্রন্থের ‘প্রসঙ্গকথা’ থেকে জানা যায়, চর্যাপদ সম্পর্কে এই গবেষকের বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে ড. আহমদ শরীফের কাছে চর্যাপদের পাঠ নিতে গিয়ে। আশির দশকে ডক্টর আনিসুজ্জামানের কাছ থেকে শশিভূষণ দাশগুপ্ত সংগৃহীত নবচর্যাপদ সম্পর্কে জানতে পেরে তাঁর ঔৎসুক্য আরও বাড়ে। নব্বইয়ের দশকে জাপানের নাগোইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পি-এইচ ডি-উত্তর গবেষণার সুযোগে সেখানকার বৌদ্ধ চর্চা ও তিব্বত-নেপাল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাসাশি তচিকাওয়ার সংগ্রহ থেকে চর্যাপদের তিনটি পুথির পাঠ তিনি কপি করে আনেন। ২০০৮ সালে তিনি নেপালের জাতীয় আর্কাইভে চর্যাপদের পুথি সন্ধান করে বিফল হন। তবে কাঠমুন্ডু ও আশে পাশের বজ্রযানী বিভিন্ন মন্দিরে পুথি সংগ্রহ করতে গিয়ে জনৈক রত্নকাজী বজ্রাচার্যের কাছ থেকে চর্যা পুস্তকের দুটি সংকলন পেয়ে যান। নেওয়ারি মিশ্রিত দেবনাগরী অক্ষরে মুদ্রিত চর্যাপদগুলোর পাঠ উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি দেবনাগরী অক্ষর আয়ত্ত করায় লেগে যান। এর পর প্রায় দুই বছরের চেষ্টায় পাঠ উদ্ধার ও সম্পাদনা করেন। রত্নকাজী বজ্রাচার্যের সংকলনের ভূমিকাংশের অবোধ্য পাঠ উদ্ধারের জন্য ১৯১৩, ১৯১৪ ও ১৯১৫ সালের গ্রীষ্ম ও শীতের ছুটিতে তিনি কানাডার টরেন্টোবাসী নেওয়ারি বিমল শ্রেষ্ঠার সহযোগিতা নেন।
শান্তিনিকেতনে তিব্বতি ভাষা ও বৌদ্ধধর্ম বিশেষজ্ঞ সুনীতিকুমার পাঠকের কাছ থেকে তন্ত্র চর্চার নানা দিক সম্পর্কে অবহিত হন ড. শাহেদ। সেখানে তিনি ভক্তি দে-র চর্যাসংগ্রহের সৌজন্যকপি হাতে পান। তিনি লক্ষ করেন যে, ভক্তিদে-র চর্যাসংগ্রহে সংকলিত ১৬৫টি পদের মধ্যে তাঁর নিজের সংগ্রহের ১২১টি পদের মিল রয়েছে। তবে সেগুলোতে মাঝে মাঝে পাঠভেদ চোখে পড়ে।
শশিভূষণ দাশগুপ্তের সংগৃহীত চর্যাপদগুলোর তুলনামূলক বিচার করতে গিয়ে ড. শাহেদ তাঁর সংগৃহীত পদের সঙ্গে নিজের সংগৃহীত পদের সাজুয্য লক্ষ করেন। যেসব ক্ষেত্রে পাঠভেদ রয়েছে সেগুলো তিনি নিজের সংগৃহীত পাঠের শেষে সন্নিবেশ করেছেন। এভাবে ভক্তিদে-র সংগ্রহের সঙ্গে যেসব ক্ষেত্রে পাঠভেদ রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত হয়েছে।
নতুন চর্যাপদে সংকলিত পদগুলো মূলত বজ্রযানী দেবদেবীর আরাধনার গীত। এসব পদে তান্ত্রিক নানা দেবদেবীর রূপসৌন্দর্য, মুখ ও বাহুর বর্ণনা, তাঁদের আসন, মুদ্রা ও দেহভঙ্গি, তাঁদের আভরণ ও আয়ুধ ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য ও বর্ণনা আছে। দীর্ঘ শ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে গবেষক এ সবের ঋদ্ধ পরিচয় তুলে ধরেছেন।
এ কাজ করতে গিয়ে গবেষক লক্ষ করেন যে, বিভিন্ন পাঠে কেবল যে পাঠান্তর আছে তা নয়, অনেক পাঠে পুনরাবৃত্তিও রয়েছে। তা ছাড়া অনেক চর্যাপদের পুরোভাগে পদকর্তার নাম থাকলেও বেশ কিছু পদের পদকর্তার নাম পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু চর্যাপদের রচনাকাল নির্ণয় করতে না পারায় সেগুলোর কালানুক্রমিক বিন্যাসও সম্ভব হয়নি। সে জন্যে গবেষক ৩৩৫টি চর্যাপদের পান্ডুলিপি তৈরি করে সেগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সন্নিবেশ করেছেন।


নতুন চর্যাপদের ভূমিকা অংশটি চারটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশে রয়েছে ‘নতুন চর্যার সংগ্রহ ও চর্যাকার পরিচয়’। দ্বিতীয় অংশের বিষয় ‘নতুন চর্যায় বজ্রযানী দেবদেবী’, তৃতীয় অংশে আলোচিত হয়েছে ‘নতুন চর্যার আঙ্গিক, ভাষা ও ভূগোল’ এবং চতুর্থ অংশের আলোচনার শিরোনাম ‘চর্যাপদ ও নতুন চর্যা’।
‘নতুন চর্যার সংগ্রহ ও চর্যাকার পরিচয়’ অংশে গবেষক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ যে বিশদ আলোচনা করেছেন তা থেকে পাঠক চর্যাপদ সংগ্রহের ইতিহাস এবং প্রায় পঁচিশ জন চর্যাকারের পরিচয় সম্পর্কে ধারণা পাবেন। গবেষক জানিয়েছেন, ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কারের সাত বছর পর ১৯১৬ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর চর্যাপদ প্রকাশিত হলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস কেবল পুনর্গঠিত হয়নি, অসমিয়া, উড়িয়া, মৈথিলি, হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। শাস্ত্রীর চর্যাপদে ২২/২৩ জন পদকর্তার ৫০টি গান ছিল। তবে দু জায়গায় পুথি ছেঁড়া থাকায় চর্যাকার ভূসুকুর পদের অর্ধাংশ এবং তন্ত্রী, কুক্কুরী ও কাহ্নের একটি করে পদ পাওয়া যায়নি। পরে পণ্ডিত প্রবোধচন্দ্র বাগচী তিব্বতি অনুবাদ থেকে সেগুলোর ভাবার্থ সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ করেন।
ড. শাহেদ তিব্বতি অনুবাদে প্রাপ্ত চর্যাপদের টীকার পুষ্পিকার উল্লেখ করে বলেছেন যে, মূল আকর গ্রন্থটিতে ১০০টি চর্যাপদ ছিল। কিন্তু তার মধ্যে কেবল ৫০টি চর্যাপদের সন্ধান পাওয়া গেছে। মূল আকর গ্রন্থ না পাওয়ায় বাকি পঞ্চাশটি চর্যার সন্ধান মেলেনি। স্বভাবতই ধারণা করা হয় যে, শাস্ত্রী সংগৃহীত চর্যাপদের সমকালে আরও চর্যা প্রচলিত ছিল। পরবর্তীকালে ১৯২০-এর দশকে ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এই অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন যে, নেপালের বৌদ্ধবিহারের স্থবিরদের মুখে আরও পদ প্রচলিত আছে। ১৯৪০-এর দশকে শশিভূষণ দাশগুপ্তও এই ধারণা করেন যে, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদিত চর্যাপদের বাইরেও চর্যার অস্তিত্ব রয়েছে। এরপর গবেষক ও পণ্ডিতদের চেষ্টায় বেশ কিছু চর্যাপদ সংগৃহীত হয়।
বৌদ্ধধর্মাচারী পণ্ডিত ও ভাষাবিদ রাহুল সাংকৃত্যায়ন ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে কয়েকবার তিব্বত সফর ও সেখানে অবস্থানকালে ২০টি চর্যাগীতি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তিনি ১৯৫৪ সালে তাঁর সরহপাদ কি দোহাকোষ গ্রন্থের পরিশিষ্টে সেগুলো প্রকাশ করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় ভাষা বিভাগের অধ্যক্ষ ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৬৩ সালে ৯৮টি চর্যাগীতি সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে প্রথম ১৯টিকে তিনি শাস্ত্রী সংকলিত চর্যাপদের কালের, পরবর্তী ৪৮টিকে দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতকের এবং শেষ ৩৫টিকে সপ্তদশ শতক ও পরবর্তীকালের বলে অভিমত দেন। তবে এ কালগত বিভাগ পরবর্তীকালের গবেষণায় ত্রুটিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে নবচর্যাপদ সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষকের গবেষণা ও বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে ড. শাহেদ এই ধারণায় উপনীত হয়েছেন যে, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সংকলিত চর্যাপদে বৌদ্ধ ধর্ম সাধনার সহজযানের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা গেলেও নবচর্যাপদ বজ্রযানীদের ধর্মসাধনার পরিচয় বহন করে। এই অংশে ড. শাহেদ ২৫ জন চর্যাকারের পরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন।

ভূমিকার দ্বিতীয় অংশে নতুন চর্যাপদে বিধৃত দেবদেবী সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। নতুন চর্যাপদগুলো বিচার করে ড. শাহেদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, চর্যাপদগুলোর ৯০ শতাংশই দেবদেবীর স্তূতি। তাঁর আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারি, বৌদ্ধ ধর্ম শুরুতে শূন্যের সাধক হলেও ক্রমে তাতে দেবদেবীর উদ্ভব ঘটে এবং তাদের মূর্তি তৈরি হয়। হিমালয় সন্নিহিত তিব্বত, চীন, জাপান প্রভৃতি অঞ্চলে এসব দেবদেবীর মূর্তি দেখা যায়। এদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বজ্রযানী সমপ্রদায়ের মধ্যে।
এই সূত্রে নানা আকরগ্রন্থ অবলম্বনে বৌদ্ধ দেবদেবীর সাধারণ পরিচয় তুলে ধরেছেন গবেষক। তা থেকে জানা যায়, বৌদ্ধ ধারণায় দেহধারী গৌতম বুদ্ধের আগেও আরও ছয়জন মানুষী বুদ্ধ ছিলেন। এঁরা হলেন, বিপশ্যি, শিখী, বিশ্বভূ, ক্রকুচ্ছন্দ, কনকমুনি ও কশ্যপ। শেষের তিনজন ছিলেন ঐতিহাসিক ব্যক্তি। গবেষক জানিয়েছেন, তাঁর সংগৃহীত নতুন চর্যাপদে এঁদের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখ আছে পঞ্চ ধ্যানীবুদ্ধের তথা বৈরেচন, রত্নসম্ভব, অমিতাভ, অমোঘসিদ্ধি, ও অক্ষোভ্যের প্রসঙ্গ। পঞ্চ ধ্যানীবুদ্ধের শক্তি বা সঙ্গিনী পাঁচজন। এঁরা হলেন যথাক্রমে লোচনা, বজ্রধাত্বীশ্বরী, পান্ডুরা, তারা ও মামকী। পঞ্চ ধ্যানীবুদ্ধের মধ্যে নতুন চর্যাপদে অমিতাভের স্তুতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গবেষক আরও জানিয়েছেন, নতুন চর্যাপদে পঞ্চ ধ্যানীবুদ্ধের ষোড়শ বোধিসত্ত্বের উল্লেখ থাকলেও প্রাধান্য পেয়েছে সমন্তভদ্র, রত্নপাণি, পদ্মপাণি, বিশ্বপাণি, বজ্রপাণি, মঞ্জুশ্রী ও অবলোকিতেশ্বর এবং এঁদের বিভিন্ন রূপ।
অন্যান্য দেবদেবীদের মধ্যে নতুন চর্যাপদে রয়েছে হেরুক, সম্বর, কালচক্র, চন্ডরোষণ, যোগাম্বর, জলেন্দ্র, জম্ভল, ত্রৈলোক্যবিজয়, পরমাশ্ব, বজ্রহুংকার, যমারি, হয়গ্রীব ইত্যাদি নানা দেবদেবীর প্রসঙ্গ। এ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠীদেবতার উল্লেখ। দেবদেবীর স্তুতি করতে গিয়ে এসেছে তাঁদের পোশাক ও অলংকারের বর্ননা, এসেছে তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও হাতিয়ার, মুদ্রা ও আসন ইত্যাদির বর্ণনা। শুধু তাই নয়, হিন্দু দেবদেবীর প্রসঙ্গও এসেছে। তাছাড়া নতুন চর্যাপদে বজ্রযানী ধর্মবোধ প্রসূত আদি দেবদেবীরা যেমন আছেন তেমনি তার বাইরেও অনেক প্রতীকায়িত নতুন দেবদেবী উপস্থাপিত হয়েছে। ড. শাহেদ এসব প্রসঙ্গ বিচার-বিশ্লেষণ ও নিরূপণ করেছেন একান্ত আগ্রহ ও গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে। তাঁর এসব আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে হিন্দু ও বৌদ্ধ পুরাণ নিয়ে তাঁর ব্যাপক অধ্যয়ন ও গভীর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়।
ড. শাহেদ নতুন চর্যাপদের ভৌগোলিক দিক সম্পর্কেও নিজের গবেষণার সারাৎসার তুলে ধরেছেন এখানে। তিনি মনে করেন, আদি বৌদ্ধ ধর্মবোধে ত্রিভুবন তথা স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালের ধারণা প্রাধান্য পেলেও নতুন চর্যাপদে ক্রমশ মর্ত্যমুখী ধারণার প্রভাব পড়েছে। মেরুপর্বত, দ্বীপ, উপদ্বীপ, সিংহল দ্বীপ, লঙ্কা, কাঞ্চন দ্বীপ, গঙ্গা, পদ্মা, গোদাবরী ইত্যাদি নদী, সাগর, কৈলাস পর্বত, কামরূপ রাজ্য ইত্যাদির উল্লেখ থেকে এই মর্ত্যমুখীনতার পরিচয় ধরা পড়ে।
ভুমিকার তৃতীয় অংশে ড. শাহেদ নতুন চর্যাপদের আঙ্গিক, ভাষা ও ভূগোল সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। গঠনগত দিক থেকে দেখা যায় নতুন চর্যাপদের অধিকাংশই ৮, ১০ বা ১২ চরণের। তবে ৪, ৫ বা ৬ চরণের ক্ষুদ্রতর চর্যাপদ যেমন আছে তেমনি আছে ১৬, ১৮ বা ২০ চরণের দীর্ঘ চর্যাপদ। এমনকী ২৭ চরণের চর্যাপদও পাওয়া গেছে। এসব চর্যাপদের অধিকাংশই অন্ত্যমিলহীন। কোনো কোনো চর্যায় রয়েছে মন্ত্রসদৃশ ধ্বনি। চর্যাকার রত্নকাজী বজ্রাচার্যের অনেক পদের পাদটীকায় কোন পুজো উপলক্ষে তা গীত হয় তার উল্লেখ রয়েছে। এসব চর্যাপদে বহুু ক্ষেত্রে পুনরুক্তি লক্ষ করা যায়।
ড. শাহেদ নতুন চর্যাপদের শব্দ, লিপি ও ব্যাকরণ সম্পর্কেও প্রসঙ্গত আলোকপাত করেছেন। তিনি লক্ষ করেছেন কাল পরিক্রমায় শব্দরূপের যে পরিবর্তন ঘটেছে নতুন চর্যাপদে তার নিদর্শন বিধৃত। অনেক ক্ষেত্রে নতুন চর্যাপদে সমার্থক শব্দ ব্যবহার করায় এর পাঠান্তর তৈরি হয়েছে। শাহেদ বর্ণগত রূপভেদ নিয়েও বিশদ আলোচনা করেছেন। নতুন চর্যাপদে সংস্কৃত ব্যাকরণের ণত্ব বিধান ও ষত্ব বিধান লঙ্ঘনের রীতি পরিলক্ষিত হয় অনেক শব্দের বানানে। এসব চর্যাপদে লিপিকর বিভ্রান্তি ছাড়াও রয়েছে অর্থবিভ্রান্তি। তিনি আরও লক্ষ করেছেন নতুন চর্যাপদের উত্তরকালে অপ্রত্যাশিতভাবে শব্দ ও বাক্য ব্যবহারে সংস্কৃতের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পালি-প্রাকৃতের প্রভাব চোখে পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুশাসন ব্যাপকভাবে অনুসৃত হয়েছে। তিনি নতুন চর্যাপদের আট হাজার শব্দের ভান্ডার নিরীক্ষা করে এটি লক্ষ করেছেন যে, এদের মধ্যে বেশ কিছু শব্দ বর্তমানে বিলুপ্ত বা অপ্রচলিত। তাছাড়া শব্দার্থ বিচারে দেখা যায়, নতুন চর্যাপদে অনেক শব্দের সাধারণ অর্থের অন্তরালে গূঢ় অর্থ লুকোনো রয়েছে।
ভূমিকার চতুর্থ অংশে ড. শাহেদ ‘চর্যাপদ ও নতুন চর্যা’ শীর্ষক আলোচনায় শাস্ত্রী-সম্পাদিত চর্যাপদের সঙ্গে নতুন চর্যাপদের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যের প্রধান কিছু দিক তুলে ধরেছেন। পদকর্তাদের ব্যাপারে তাঁর একটি পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, নতুন চর্যাপদের পদগুলোতে শাস্ত্রীর সংকলনের অন্তত আটজন পদকর্তার পদ রয়েছে। শাস্ত্রীর সংকলন ও নতুন চর্যাপদের সংকলনে সন্নিবেশিত পদকর্তা গুন্ডুরীর একটি পাঠের তুলনামূলক আলোচনা করে তিনি দেখিয়েছেন যে, প্রায় পাঁচ শো বছরের ব্যবধান সত্ত্বেও সামান্য কিছু রূপভেদ সমেত দুটি পাঠের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। এমনিভাবে হেমচন্দ্রের চীনা অনুবাদের পাঠের সঙ্গে নতুন চর্যার পাঠের তুলনা করে তিনি দেখিয়েছেন, হাজার বছরের ব্যবধান সত্ত্বেও দু-তিনটি পদ ছাড়া দুটি পাঠে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। পুরোনো ও নতুন চর্যাপদ সম্পর্কে ড. শাহেদের পর্যবেক্ষণ এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো :
১. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পাদিত চর্যাগুলোতে রয়েছে শূন্যবাদের প্রভাব। নতুন চর্যাপদের সে ধারা অব্যাহত।
২. শাস্ত্রীর সংকলনের মতো নতুন চর্যাপদেও তা অব্যাহত।
৩. মোহের প্রসঙ্গ রয়েছে শাস্ত্রীর ছয়টি চর্যাপদে, নতুন চর্যাপদে সে সংখ্যা এগারো।
৪. শাস্ত্রীর চর্যাপদে যেমন নির্বাণ লাভের প্রসঙ্গ আছে তেমনি নতুন চর্যাপদেও তার অনুসৃতি ঘটেছে।
৫. শাস্ত্রীর চর্যাপদের মতো নতুন চর্যাপদেও পারিভাষিক শব্দ ও সান্ধ্যভাষা প্রয়োগে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। যেমন : অমিয়, আলিকালি, কমল, গঙ্গাযমুনা, জিনউর, ডোম্বী, তাম্বুল, নাদ, পবন, বিন্দু, মণিকুল, মহারস ইত্যাদি।
৬. শাস্ত্রীর চর্যাপদে বজ্রযানী দেবদেবীর বর্ণনা গৌণ, পক্ষান্তরে নতুন চর্যাপদে রয়েছে তার প্রাধান্য।
৭. শাস্ত্রীর চর্যাপদের মতো নতুন চর্যাপদে বৌদ্ধ দেবদেবীর উল্লেখ আছে। তবে নতুন চর্যাপদে হিন্দু দেবদেবীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ সংকলিত ও সম্পাদিত নতুন চর্যাপদে নব সংগৃহীত ৩৩৫টি পদ সংকলিত হয়েছে। এ ছাড়াও পরিশিষ্ট অংশে রাহুল সাংকৃত্যায়ন সংগৃহীত ২০টি চর্যাপদ, শশিভূষণ দাশগুপ্ত সংগৃহীত ২১টি চর্যাপদ ও জহন্নাথ উপাধ্যায় সংগৃহীত ৩৭টি চর্যাপদ সংকলিত হয়েছে। সেই হিসেবে এই গ্রন্থে সংকলিত নতুন চর্যাপদের মোট সংখ্যা ৪১৩টি।
পরিশিষ্ট অংশের পর সন্নিবেশিত হয়েছে নির্ঘণ্ট। এই অংশে রয়েছে মূল পাঠের শব্দসূচি, তুলনামূলক শব্দসূচি ও রচয়িতা শব্দসূচি।
মূল পাঠের শব্দসূচিতে প্রায় আট হাজার শব্দের বর্ণানুক্রমিক তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই শব্দসূচিতে কোনো শব্দ কোন কোন চর্যাপদে ব্যবহৃত এবং গ্রন্থের কত সংখ্যক পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে শব্দসূচি থেকে তার হদিস পাওয়া যাবে।
নির্ঘণ্টের দ্বিতীয় অংশে রয়েছে তুলনামূলক শব্দসূচি। এতে ভুক্তি শব্দগুলি দুভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভুক্তিশব্দের প্রথম অংশে রয়েছে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সংকলিত চর্যাপদের শব্দ। এর ঠিক পরেই সন্নিবেশিত হয়েছে নতুন চর্যাপদের শব্দ। তবে এ তালিকায় সাধিত শব্দ যুক্ত করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা চোখে পড়ে। তা হলো পরিশিষ্ট অংশে হরপ্রসাদ শাস্ত্রির চর্যাপদের পাঠ সন্নিবেশ না করা। ফলে এই পর্যায়ে তুলনার জন্য আলাদাভাবে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পাঠ যোগাড় করতে হবে।
নির্ঘণ্টের তৃতীয় অংশে রয়েছে রচয়িতাসূচি। এতে নতুন চর্যাপদ গ্রন্থের প্রায় একশো পদকর্তার নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। প্রতিটি পদকর্তার নামের পাশে সংকলনের পদের সংখ্যা ব্যবহার করে তাঁর রচিত পদ বা পদসমূহ নির্দেশ করা হয়েছে। এটি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, এই সংকলনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদ রয়েছে হর্ষনৃসিংহ নামের পদকর্তার। তাঁর পদের সংখ্যা ৩৮টি। অবশ্য কুলিশ বা নামের সঙ্গে কুলিশযুক্ত পদকর্তাদের (যেমন : কুলিশরত্ন, কুলিশাচার্য, কুলিশবজ্র ইত্যাদি) সকলের পদ একত্রে মেলালে তার সংখ্যা হয় সবচেয়ে বেশি; অর্থাৎ ৪০টি। কর্ণপা এবং নামের সঙ্গে কর্ণপা রয়েছে এমন পদকর্তাদের পদসংখ্যা ১৪। ১০টি পদ রচনা করেছেন রত্নবজ্র। ৯টি পদের রচয়িতা সুরতবজ্র। ভাস্পতি রচনা করেছেন ৬টি পদ। যোগমুনী বজ্রাচার্য রচনা করেছেন ৫টি পদ। ৪টি করে পদ রয়েছে ওঙ্কারবজ্র, রসদত্তাচার্য, ভুবনহর্ষ ও রত্নকুলিশের। ৩টি করে পদের রচয়িতা হচ্ছেন অদ্বয়বজ্র, চন্দ্রবজ্র, গুদারি বা গোদরি, পরমাদিবজ্র, বিলাসবজ্র, লীলাবজ্র, শাশ্বতবজ্র, সিদ্ধিবজ্র ও হরুকবজ্র। ১৫ জন পদকর্তা ২টি করে চর্যাপদ রচনা করেছেন আর ৫৬ জন পদকর্তা রচনা করেছেন একটি করে চর্যাপদ। গবেষক জানিয়েছেন ৮৮টি পদের পদকর্তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নতুন চর্যাপদ গন্থের একেবারে শেষে রয়েছে গ্রন্থপঞ্জি। এতে চল্লিশজন পণ্ডিত ও গবেষকের গ্রন্থের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব বইয়ের অধিকাংশই চর্যাপদ নিয়ে গবেষণার জন্য অপরিহার্য।
নতুন চর্যাপদে সংকলিত চর্যাগুলি কালিক পরিবর্তনের চিহ্ন সংবলিত। এসব চর্যাপদ নিয়ে নিত্যনতুন গবেষণার নতুন নতুন দিগন্ত আমাদের সামনে উন্মোচিত। চর্যাপদগুলির প্রতিটির রচনাকাল নির্ণয়, অজ্ঞাত রচয়িতার পরিচয় উদ্ঘাটন, চর্যার ভাষার বিবর্তন নিয়ে যেমন গবেষণা হতে পারে তেমনি বৌদ্ধ ধর্মের তন্ত্রযান, বৌদ্ধযান ও বৌদ্ধ দেবদেবী নিয়েও গবেষণা নতুন মাত্রা পাবে বলে ধারণা করা চলে।
ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ প্রায় আট বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সচেষ্ট ছিলেন নতুন চর্যাপদ সংগ্রহ, সেগুলির পাঠ ও পাঠান্তর নির্ণয় এবং সম্পাদনা ও চর্যাপদ সংক্রান্ত সমস্ত কাজ পর্যালোচনায়। তাঁরই অসামান্য ফসল নতুন চর্যাপদ নামের এই মহাগ্রন্থ। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ওরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ প্রণয়নে এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান সম্পাদনায় যে ধরনের নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন ড. শাহেদের নতুন চর্যাপদ সেগুলির সঙ্গে তুলনীয়। আশা করি, ড. শাহেদ তাঁদের মতোই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এ অসাধারণ কাজের জন্যে। চর্যাপদ সংগ্রহ, সংকলন, সম্পাদনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর জ্ঞানগর্ভ ও শ্রমঘন এই কাজ যে মাইল ফলক হয়ে থাকবে তাতে সন্দেহ নেই।

x