সেগুনবাগানে তুলকালাম, আড়াই ঘণ্টা পর উচ্ছেদ ৩০টি ঘর

রেলওয়ের অভিযানে বস্তিবাসীদের বাধা

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
652

নগরীর পাহাড়তলী সেগুন বাগান এলাকায় রেলওয়ের ক্যারেজ ওয়াগন কারখানার সামনে রেলের জমি থেকে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদ করতে গিয়ে বস্তিবাসীদের বাধার মুখে পড়েছে অভিযান দল। গতকাল সকাল ১০টায় উচ্ছেদ অভিযান শুরুর প্রাক্কালে এ তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। অবৈধ বস্তিবাসীরা বৃষ্টিতে ভিজে বাধা দেয়ায় এবং তাদের বিক্ষোভের কারণে আড়াই ঘণ্টা পর উচ্ছেদ শুরু হয় সাড়ে ১২টায়।
রেলের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় অবৈধ বস্তিবাসীরা আশপাশ থেকে (রেলের বস্তির লোকজন) অসংখ্য লোকজন এনে জড়ো করে রেল কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশ পথে শুয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর এলাকায় মাইকিং করে উচ্ছেদ করার কথা জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনো ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে সকালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে রেলওয়ে। এক পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও র‌্যাব সদস্যরা উপস্থিত হলে বস্তিবাসীরা সরে যায়।
এরপর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানার নেতৃত্বে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান।
বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল) বোরহান উদ্দিন অভিযানের ব্যাপারে আজাদীকে জানান, অভিযানে আমরা সর্বমোট ৩০টি বস্তিঘর উচ্ছেদ করেছি। এরমধ্যে ২২টি সেমিপাকা ও ৮টি টিনশেডসহ ঘর ছিল। এতে মোট দখলে থাকা ২৬ শতাংশ জায়গা (১৩ গণ্ডা) উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ১২টায় শুরু হয়েছে। অভিযানে ৪৫জন পুলিশ, ১৫জন আরএনবি এবং ৮ জনের মতো র‌্যাব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযানের ব্যাপারে
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান আজাদীকে জানান, এখন আর আগের মতো উচ্ছেদ করে আমরা ফেলে রেখে যাব না। উচ্ছেদের পর নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হবে। সরকার চাচ্ছে রেলের সকল জমি নিরাপদে থাকুক। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সেই জমি যেন আবার দখল হয়ে না যায়। উচ্ছেদ অভিযানকালে বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল) বোরহান উদ্দিন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. আনসার আলী, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব), রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

x