সেই শিশুটির খোঁজ নেই

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
62

নগরীতে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ একটি বাসার ভেতর থেকে লাপাত্তা হওয়া চার বছরের শিশু সাইদুরের খোঁজ এখনো মিলেনি। এ ঘটনায় পারিবারিক একটি বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গত ১১ মার্চ সকালে বাকলিয়ার রসুলবাগ আবাসিক এলাকার শিরিন মঞ্জিলে তালাবদ্ধ একটি বাসার ভেতর থেকে রহস্যজনকভাবে সাইদুর রহমান নিখোঁজ হয়। সে সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ রূপকানিয়ার আল আমিন পাড়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে। দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে বাকলিয়ার ওই আবাসিকের একটি ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন মিজানুর রহমান। এ ঘটনার পর পরিবারের সব সদস্যই বাড়িতে অবস্থান করছে।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) প্রণব চৌধুরী আজাদী বলেন, বাচ্চাটির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ তার খোঁজ করছে।
ওসি প্রণব বলেন, ‘বাচ্চাটির নিখোঁজ সংক্রান্তে দুটো বিষয় নিয়ে পুলিশ সামনে এগুচ্ছে। শিশুটির বাবা মিজানের চাচাত ভাইয়ের সাথে তার স্ত্রী’র ছোট বোনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের বিয়ে শিশুটির বাবা-মা কেউ মানতে রাজি নয়। কিন্তু উভয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এ বিয়েতে রাজি আছে। বিয়ে যাতে ভাঙতে না পারে সেজন্য হয়তো তার ছেলেকে জিম্মি করে লুকিয়ে রাখা হতে পারে। এখন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে যদি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয় সে ক্ষেত্রে পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে বলে জানান ওসি।
এদিকে শিশুটির বাবা মিজানুর রহমানও একই দাবি করছেন। তার ছেলে সাইদুর নিখোঁজের পরদিন সাতকানিয়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরিবারের সাথে কথা বলে তার ছেলেটি উদ্ধার হয় কিনা সে উদ্দেশ্যে তিনি বাড়িতে গেছেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ে সংক্রান্ত পারিবারিক বিষয় নিয়ে আমার ছেলে চুরির ঘটনা ঘটতে পারে। মিজান জানান, তার বাসার তালাটির চাবি তার চাচাতো ভাইয়ের কাছেও ছিল। একমাত্র সে-ই এ কাজটি করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। তার অন্য কোন শত্রুও নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী’র ছোট বোনকে বিয়ে করা নিয়ে আমার চাচাত ভাই শিশুপুত্র সাইদুরকে চুরি করেছে বলে ধারণা করছি। আমি এ বিয়েতে কোনোভাবেই রাজি ছিলাম না। আমাকে বাধা দেওয়ার জন্য হয়ত সে এ কাজটি করে থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার তাদের বিয়ে হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, যদি তারা বাচ্চাটিকে নিয়েও থাকে, এখন তো তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছে। আমার ছেলে যেন সুস্থভাবে ফিরে পাই। সেটাই এখন কামনা করছি।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ছোট ছেলে ঘুমিয়ে থাকায় বাইরে থেকে বাসায় তালা মেরে বড় ছেলেটিকে স্কুলে দিয়ে আসে তার মা। সেখান থেকে ফেরার পথে বাসার তালা ঠিক থাকলেও সেটা খুলে ভেতরে থাকা ছোট বাচ্চাটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ওই আবাসিকে তিনবেডের একটি ফ্ল্যাট বাসায় মিজানুর রহমান পরিবার নিয়ে ৯ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন। বাসার চাবি নিজেদের কাছেই থাকে। মাঝখানে ওই বাসায় যখন তার চাচাত ভাই ছিলেন। সে সময় তার কাছেও একটা চাবি থাকত। গত ডিসেম্বরে সে বাসা ছেড়ে চলে আসে। এ ঘটনার ব্যাপারে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

x