সুস্থ থাকুন শীতের দিনে

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
160

হিম হিম কুয়াশা নিয়ে প্রকৃতিতে শীত জাঁকিয়ে বসেছে। শীতের শুরুতে প্রকৃতিতে তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে নানারকম ভাইরাস জনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। শীত যেমন আরামের, কথা আছে তেমনি রোগেরও। এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের নিয়মিত ব্যায়াম বা খেলাধূলা করতে হবে। আর এই শীতে আপনারা প্রাণোচ্ছল হাসিখুশি সুস্থস্বাভাবিক থাকতে প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন আর সচেতনতা। প্রকৃতপক্ষে শীতকালে অনন্য সময়ের চেয়ে এই সময়ে আমরা বেশি শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতায় ভোগে থাকি। তাই আপনাকে সুস্থ থাকতে এই শীতে কিভাবে ব্যায়াম চর্চা করবেন তা নিয়োজিত। এখন ব্যায়াম চর্চা দিনে দিনে জনপ্রিয়তা পাওয়ায় বছরের সব সময় যেভাবে করেন, কিন্তু শীতকালে ব্যায়াম চর্চা করতে চাইলে আপনাকে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে। আপনি ব্যায়াম কোথায় করবেন তা আপনার বিষয়জিমে, খোলা মাঠেময়দানে, বাসায় বা বারান্দায় আপনি আপনার ইচ্ছোনুযায়ী করতে পারেন। তবে জিমে বা বাসায় ব্যায়াম করতে চাইলে আপনি গরমের দিনে যেভাবে হালকা বা পাতলা কাপড় পড়ে ব্যায়াম করেন, তবে এই সময়ে মোটা কাপড়ের জামা, প্যান্টা এবং অবশ্যই কেড্‌স পড়তে হবে। যদি আপনি ঘরের বাইরে (খোলামাঠ বা বারান্দায়) ব্যায়াম করতে চান তাহলে এই শীতকালের সামান্য আলাদাভাবে করতে হবে আপনার সুর ার জন্য। কারন শীতকালে আমরা অন্যন্যা সময়ের চেয়ে বেশি রোগে ভোগে থাকি আমরা। প্রকৃতপক্ষে শীতকালে আমাদের সুরক্ষার জন্য ব্যায়াম গরমের দিনের চেয়ে বেশি ব্যায়াম করা উচিত কিন্তু আমরা করি তার উল্টো দিক। শীতের কারণে আমরা ঘর থেকে তেমন একটা বেরও হয় না। গরম কাপড় পড়ে বাইরে হতে চাই না। এই সময়ে গ্রামে আগুন জ্বালিয়ে সবাই ফোহাতে থাকে। আর ব্যায়ামাগার গুলোতে শীতকালে তেমন ব্যায়াম শিক্ষার্থী দেখা যায় না।

শীতকালে ব্যায়ামের শুরুতে কি করতে হবে : শীতকালে আপনি ব্যায়াম করতে চাইলে প্রধাণত পোশাকে ব্যপক পরিবর্তন আনতে হবে। আর ব্যায়ামে গরমের চেয়ে সময় কমপক্ষে ৩০৪০ মিনিট বেশি বাড়াতে হবে। গরমকালে যদি ১ ঘন্টা ব্যায়াম করেন তাহলে এর সাথে ৩০৪০ মিনিট যোগ করতে হবে। যারা ডায়াবেটিস রোগী তারাও এ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া শীতকালে আপনি গরমের দিনের চেয়ে অনেক সময় ধরে ব্যায়াম করতে পারবেন, শীতকালে শরীরে প্রচুর শক্তি বলবত থাকে। গরমের দিনে তা বেশিক্ষণ থাকে না। এ সময়ে তাপমাত্রা কম থাকার কারনে এমনটি করতে হবে, না হয় আপনি ব্যায়াম করতে আরামবোধ করবেন না। আমরা সাধারণত ব্যায়াম করি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হবার জন্য ্‌এগুলো ঘাম আকারে আমাদের শরীর থেকে বের হয়। এটি গরমের সময় আনায়েসে শরীর থেকে বের হয়। কিন্তু শীতকালে এটি একদম ব্যতিক্রম। শীতকালে গরমের আবাস লাগার জন্য মোটা কাপড় না পরে ব্যায়াম করতে ভুল করবেন না। ব্যায়ামের শুরুতে আপনাকে মোটা কাপড়ের ফুল হাতা গেনজি (টিশার্ট) এবং ট্রাউজার পরতে হবে। এ ধরনের পোশাক জিমে অথবা বাসায় করতে চাইলে। এছাড়া বাইরের জন্য মোটা কাপড়ের জাম্পার বা গেনজি, মোটা কাপড়ের টাওজার এবং অবশ্যই কেড্‌স পড়ে ব্যায়াম শুরু করতে হবে। শীতে শরীর গরম রেখে ব্যায়ামের উপযোগী রাখবে এগুলো। ব্যায়ামাগারে আসার পূর্বে শরীরে অলিভ অয়েল বা সরিষার তৈল মেখে নিলে শরীর গরম হবে তাড়াতাড়ি। সঙ্গে পানির বোতল আর তোয়ালে। শীতের দিনে পানি পানের চাহিদা না থাকলে বা পানি পান করতে না চাইলেও এবং সর্বোপরি আমরা সাধারণত শীতে পানি পান করতে তেমন চাই না বললেই চলে কিন্তু ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আমাদের পানি অবশ্যই পান করা উচিত। যারা বাইরে রানিং করতে জান তারা রানিং শেষ করে কমপক্ষে ৪৬ গ্লাস পানি পান করা উচিত। বোতলে অল্প চিনি মিশিয়ে নিতে পারেন। ব্যায়ামে শারীরিক পরিশ্রমে শরীর থেকে যে ক্যালরি হারাবে, তার খানিকটা পুষিয়ে দেবে চিনি। আর ব্যায়ামের ক্ষেত্রে আপনি যে যে ব্যায়াম করেন গরমের দিনে ঠিক সেসব ব্যায়াম তালিকায় রেখে ব্যায়াম করুন, আর এই শীতকালে নিজেকে রাখুন একদম ফিট এবং প্রানবন্ত।

x