সুষ্ঠু নির্বাচনই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

রবিবার , ৭ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
15

আমরা চাই জাতীয় নির্বাচন যেন উৎসবে পরিণত হয়। খুশী মনে মানুষ ভোট প্রদান করবে, তারা স্বাধীন চিন্তা নিয়ে মনের মত প্রার্থীদের, বিষয়টি ঠিক এমন-আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশী তাকে দেব। কিন্তু পরিতাপের বিষয় জনগণ সেই ভোট উৎসব থেকে বঞ্চিত। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে করণীয় কাজ হবে সরকার তথা রাজনৈতিক দলের মানুষের জন্য কল্যাণের ব্রত নিয়ে রাজনীতি করা। তাই অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা ইসিকেই করতে হবে। আমাদের দেশের নির্বাচনী ইতিহাস খুব গৌরবজনক নয়। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বারবার আন্দোলন সংগ্রাম সংঘাত সংঘর্ষ যেন অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট স্বাধীন ও শক্তিশালী একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধান প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালীন সরকার ও প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। কাজেই নির্বাচন কমিশন যথাযথ ভূমিকা পালন করলে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন নিয়ে সরকারের সংগে সংলাপে বসার কোনো প্রয়োজন থাকে না। নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে লেভেল প্লেয়িং কিন্তু তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি যদি কোনো রকম বাধার সম্মুখীন হন, তাহলে কমিশনকেই সেই বাধা দূর করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্যদের কোনো সুযোগ-সুবিধা বা ক্ষমতা থাকবে না। অন্য প্রার্থীদের মতোই তাঁরা ও প্রচারণা চালাতে পারবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরাও সরকারি সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচন বানচাল বা নির্বাচনী পরিবেশকে বিনষ্ট করতে বিভিন্ন মহল থেকে প্রচারণা, গুজব ও অপপ্রচার চালানো হতে পারে। এ ব্যাপারে ও কমিশনকে সজাগ সচেতন থাকতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারে আগে থেকে তা নিশ্চিত করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হলে তা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সংবিধান লংঘনের সমতুল্যই হবে এবং এই ব্যর্থতার জন্য কমিশনকে জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x