সুমি সৈয়দা (ফেসবুক ও বইমেলা)

বুধবার , ১৩ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
27

একটা হলো উদ্দীপনা অন্যটা প্রাণের উচ্ছলতা। মানে ফেসবুক হলো মোহ, মুগ্ধতা, নেশা আর বইয়ের বিশাল সমাহার বা মেলা হলো মন, প্রাণ জুড়ানো আনন্দ। ফেসবুকের পজিটিভ নেগেটিভ দুটো সাইডই আছে যে যেভাবে এটাকে কাজে লাগায় বা ব্যবহার করতে পারে। তবে বর্তমান প্রজন্ম এর যাদুকরী মোহে পড়ে নিজের কৃষ্টি, কালচার, আচরণ, নিজস্ব সৃজনশীল গুণগুলো ভুলে গিয়ে একপ্রকার অসামাজিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রকাশিত করছে। বই হলো জ্ঞান, সমৃদ্ধি আর নিজের ভেতরের সুকুমার বৃত্তি প্রস্ফুটিত করার অপূর্ব বন্ধু। বই পড়ে শুধু শিক্ষিত নয় বরং নিজের জগতকে প্রসারিত করার দারুণ অবলম্বন বা জানার পরিধি গড়ে ওঠে। মন আকাশের মত উদার হয়, মায়া মমতা বাড়ে, আবেগ গড়ে ওঠে বইয়ের মাধ্যমে।
বইমেলা মানেই প্রাণের মেলা। একাত্ম হওয়ার সুযোগ। দেশ বিদেশের নানা রঙের নানা ধরনের কত কত রকম বইয়ের সাজানো অঙ্গন বইমেলা। আজকাল বইমেলাতে বই কিনতে যাওয়া হয় না। যে পরিমাণ মানুষের ভীড় সে তুলনায় কম মানুষ বা তরুণ তরুণীরা বই কেনে বা পড়ে। সেজেগুজে, ফুল মাথায় লাগিয়ে নানা রঙে, ঢঙে ফটো বা সেল্ফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেয়াই মূল লক্ষ্য। তবে এক্ষেত্রে ফেসবুকের সুবিধাটুকুও বলা ভালো। ফেসবুকের কল্যাণে আমরা স্টলের এবং নানান বইয়ের প্রচার, প্রচারণা, কবির সাথে পরিচিতি এবং বুক রিভিউটুকুও সবার সামনে খুব সহজেই আনতে পারছি বা জানতে পারছি। তবে বইয়ের উপরে কথা থাকতে পারে না। যতই ডিজিটাল সমাজ বা দেশ গড়ে উঠুক, বই থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলা যাবে না। ফেসবুক বা আরো নানান ধরনের আধুনিক বা নতুন নতুন অ্যাপসের মোহমায়ায় গা ভাসিয়ে দিয়ে বই থেকে মুখ ফেরালে রোবট মানুষ হওয়া ছাড়া প্রজন্ম কিছু শিখতে পারবেনা, মানুষের মত মানুষ হতে পারবে না।
প্রতিবছর বইমেলা হোক প্রাণের মেলা, বইয়ের সাথে বন্ধনের মেলা। বেশি বেশি বই কিনবো, পড়বো প্রয়োজনে ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে বন্ধুদের জানাবো, বই পড়তে আগ্রহান্বিত করবো। ফেসবুক নেশা থেকে বেরিয়ে বইয়ের নেশায় নিজেকে ডুবাবো, এ প্রত্যয় গড়ে তুলবো নিজেদের মধ্যে, প্রত্যেকে আমরা।

- Advertistment -