সুফল আসছে হালদা প্যারালাল খালে

কেশব কুমার বড়ুয়া, হাটহাজারী

রবিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
55

মৌসুমে চাষাবাদের সুবিধার্থে হালদা প্যারালাল খালে পানি দেওয়া হয়েছে। এতে করে কৃষকদের চাষাবাদের সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
জানা যায়, আশির দশকের শেষ দিকে উত্তর হাটহাজারীতে শুস্ক মৌসুমে চাষাবাদের সুবিধা এবং বর্ষাকালে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিস্কাশনের জন্য হালদা প্যারালাল খাল খনন করা হয়। বর্তমান সাংসদ ও তৎকালীণ পানি, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী থাকা কালে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে হালদা প্যারালাল ( সমান্তরাল) খাল খনন করেন।
উত্তর মেখল থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত লো-লেভেল ক্যানেল এবং সেখান থেকে ধলই ইউনিয়নের গোলারপাড়া পর্যন্ত হাই লেভেল ক্যানেল। লো-লেভেল ক্যানেলের হালদা নদীর সংযোগস্থল থেকে পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করে হাই লেভেল ক্যানেলের মুখ পর্যন্ত এনে সেখান থেকে পুনরায় পাওয়ার পাম্প দিয়ে হাইলেভেল ক্যানেলে পানি সরবরাহ করে জমিতে চাষাবাদের সুবিধার্থে প্যারালাল খাল খনন করা হয়েছিল। মূল হালদা নদীর উত্তর মেখল হালদার নদীর সংযোগস্থল থেকে প্যারালাল খালটি মোহাম্মদপুর ,পূর্ব আলমপুর, পশ্চিম আলমপুর, মুরাদপুর, চারিয়া, পশ্চিম মির্জাপুর, হাসিম নগর, পশ্চিম এনায়েতপুর, শফিনগর হয়ে পশ্চিম ধলই গোলারপাড়া দীর্ঘ ১২ কিলোমিটার এ খাল। খননের পর ১৯৯১ সালে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্যারালাল খালটি পুণরায় সংস্কার ও উন্নয়ন করে চালু করা হয়। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর আবারো প্যারালাল খালের প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসলে আবার প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ২০১৪ সালে নির্বাচনের পর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী হলে প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হয়। সে সময় প্যারালাল খাল প্রকল্পের উন্নয়ন সংস্কার করে খালের দুইপাড় ও তলা আরসিসি ঢালায় দিয়ে পানি যাতে অপচয় না হয় এ ব্যবস্থা করা হয়। চাষাবাদের সুবিধার্থে শুস্ক মৌসুমে খালে পানি দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও মৌসুমের শুরুতে প্যারালাল খালে পানি দেওয়া হলে কৃষকেরা দুইপাশে ইরি/বোরো ধানের চাষাবাদ শুরু করেন। হাই লেভেল ক্যানেল এলাকায় মৌসুমী তরিতরকারি ও শাকসবজি খেত করা হয়। খালে মৌসুমের সময় পানি পেয়ে কৃষকেরা মহা খুশি।
স্থানীয় কৃষক মো: সুলতানুল আলম চৌধুরী জানান খালে পানি পাওয়ায় দুইপাশে লো-লেভেল ক্যানেল অংশে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি/বোরো ধানের আবাদ হবে। ইতিমধ্যে জমিতে কৃষকেরা ধানের চাষ শুরু করেছে।
পানি সুবিধা পাওয়ায় উপজেলা কৃষি বিভাগ স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদে আগ্রহী করে তোলার কারণে তারা জমিতে মৌসুমে পুরাদমে চাষাবাদ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে উত্তর মেখল এলাকা থেকে চারিয়া এলাকা পর্যন্ত দুই পাশের বিপুল পরিমাণ জমিতে রোপা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। যদি প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হয় তাহলে জমিতে ফলন ভাল হবে বলে কৃষিবিভাগ প্রত্যাশা করেন। জমিতে ফসল উৎপাদন হলে উপজেলায় খাদ্যেও চাহিদা পুরণে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেন।

x