সুপার ব্লাড মুন

রেজাউল করিম

বুধবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
162

চাঁদকে নিয়ে সাহিত্য জগতে সৃষ্টির শেষ নেই। শিশুকে নিয়ে মা ঘুম পাড়িয়ে দেন চাঁদের ছড়া বলে। ‘আয় আয় চাঁদ মামা/ টিপ দিয়ে যা/ চাঁদের কপালে চাঁদ/ টিপ দিয়ে যা/ মাছ কাঁটলে মুড়ো দিব/ ধান ভাংলে কুড়ো দিব/ কালো গরুর দুধ দিব/ দুধ খাবার বাটি দিব/ চাঁদের কপালে চাঁদ/ টিপ দিয়ে যা।’ এই চাঁদে নাকি বুড়ি থাকে। যে শুধু চরকা কাটে। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। অথচ জ্যোস্না রাতে সবাই যায় বনে। ‘চাঁদ জঙ্গলে বাঘসিংহের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়/ পাহাড়ের গায়ে গায়ে হাওয়া দেয়/ মরুভূমির বুকে মরুবিজয়ের কেতন ওড়ায়।’
চাঁদ রং বদলায়। খ্রিস্টীয় বছরের শুরুতেই এবার দেখা যাবে ‘সুপার ব্লাড মুন’। সব দিক ঠিক থাকলে জানুয়ারির ২০ অথবা ২১ তারিখেই দেখা যাবে ‘সুপার ব্লাড মুন’। তবে কোনদিন দেখা যাবে পুরোপুরি নির্ভর করছে টাইমজোনের উপর। আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ এবং আফ্রিকা থেকেই দেখা যাবে এই ‘সুপার ব্লাড মুন’। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময়েই দেখা যাবে ‘সুপার ব্লাড মুন’। ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই শেষ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। এবার হওয়ায় কথা চলতি জানুয়ারিতে। এর পর আবার ২০২১ সালের ২৬ জুন দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদে একটি লাল আভা দেখা যাবে। পৃথিবী থেকে প্রতিসারিত আলো চাঁদের অন্ধকার জায়গায় গিয়ে পড়ার জন্যই এমনটা হবে বলে ধারণা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের। নীল এবং বেগুনি বর্ণেও তুলনায় লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য যেহেতু বেশি পরিমাণে ছড়িয়ে যেতে পারে, তাই চাঁদের রং ওই দিন একটু লালচে দেখাবে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৪১ নাগাদ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে। টানা ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ধরে চলবে পুরো চন্দ্রগ্রহণ তার মধ্যে ৬২ মিনিট ধরে চলবে এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।
এমনিতেই চাঁদ দেখতে সবাই ভালোবাসে। আর সেই চাঁদ যদি দেয় বাড়তি কিছু তাহলে তো কথাই থাকে না। এরআগে সুপার মুন অনেক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ববাসী। এ বছরও সেই সুযোগ পাবে বিশ্ববাসী আর একবার। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। তারপরও চাঁদকে নিয়ে গান-ছড়া-কবিতা লেখা হয়েছে অসংখ্য। ‘বাঁশবাগানের মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে ঐ…।’ চাঁদ কি বাঁশবাগানে থাকে! না মোটেও নয়।‘চাঁদের হাসির বাঁধ ভেঙেছে।’ চাঁদ হাসেও না।‘চাঁদের খবর বলছি শোনো/ চাঁদেও আছে পানি/ মানুষ চাঁদে ঘর বাঁধবে বলেছে বিজ্ঞানী/ কিন্তু চাঁদের বুড়ি/ চড়কা দিয়ে সুতো কাটে এবং ওড়ায় ঘুড়ি/ সেই বুড়িটির খবর কি ভাই? আছে তোমার জানা?/ তার ঠিকানায় বিজ্ঞানীরা দিয়েছে কি হানা/ ছেলে ভুলানো গল্প ওসব, সত্যি কিছুই নয়/ দত্যি দানো পেত্নি বুড়ি রূপকথাতে হয়/ চাঁদে কোনো গাছপালা নেই/ নেই কোনো এক বুড়ি/ মিথ্যে কথা মিথ্যে কথা/ শুনবো না ধুত্তুরি/ চাঁদে আছে চড়কা বুড়ি এবং পরী/ পরীর ডানায় চড়কা বুড়ি রোজ মেখে দেয় জড়ি/ দাদু জানে মামা জানে আরো সবাই জানে/ বিজ্ঞানীরা শুধু শুধু মিথ্যে খবর আনে/ চাঁদে আছে চড়কা বুড়ি খুঁজলে পাবে ঠিক/ বিজ্ঞানীদের সাথে যদি পাঠায় সাংবাদিক।’ কবি-সাহিত্যিকরা জোছনাবিলাসী। তাঁদের প্রায় সৃষ্টিতে চাঁদকে নানাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চাঁদকে নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে অবতরণ করছেন ১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই। চাঁদে অবতরণ বলতে চাঁদের বুকে কোন মহাকাশযানের আগমন বা অবতরণ বোঝায়। মহাকাশযানটি মনুষ্যবাহী অথবা মনুষ্যবিহীন উভয়ই হতে পারে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের লুনা ২ মিশন হচ্ছে চাঁদে অবতরণকারী মনুষ্যনির্মিত প্রথম বস্তু যা ১৯৫৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁদে অবতরণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো ১১ মিশন চাঁদে মানুষের প্রথম সফল অবতরণ। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ এর মধ্যে চাঁদের বুকে ছয়বার মানুষের অবতরণ ঘটে এবং অসংখ্যবার মনুষ্যবিহীন অবতরণ ঘটে। এখন তো চাঁদে বসবাসের চিন্তাভাবনাও চলছে। সুপার ব্লাড মুনের জন্য এখন অপেক্ষা বিশ্ববাসীর।

x