সুপার ওভারে সুপার জয় চিটাগাং ভাইকিংসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রবিবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
44

অনেক নাটকীয়তা, উত্থান পতন আর পেন্ডুলামের ঘোড়ার মতো দুলতে থাকা ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাই হলো। আর প্রথমবারের মত সুপার ওভারে গড়াল বিপিএলের এ যাবতকালের কোন ম্যাচ। আর তাতেই ইতিহাস গড়ল চিটাগাং ভাইকিংস। দলটির দক্ষিণ আফ্রিকার রিক্রুট রবি ফ্রাইলিংকের অসাধারণ নৈপূন্যে বিপিএলের এবারের আসরে দ্বিতীয় জয় পেল চিটাগাং ভাইকিংস। এই ফ্রাইলিংকের কল্যাণে ম্যাচ টাই হয়েছিল। আবার সে ফ্রাইলিংকের চিটাগাং ভাইকিংস পেল অসাধারণ এবং ঐতিহাসিক এক জয়। সুপার ওভারে ব্যাট হাতে ৪ রান করার পাশাপাশি বল হাতে দারুন ভাবে খুলনা টাইটান্সের ব্যাটসম্যানদের রুখে দিয়ে ১ রানের শ্বাসরূদ্ধকর এক জয় তুলে নেয় চিটাগাং ভাইকিংস। জয় দিয়ে এবারের বিপিএল শুরু করা চিটাগাং ভাইকিংস দ্বিতীয় জয় তুলে নিল। আর এই ম্যাচের নায়ক রবি ফ্রাইলিঙ্ক সুপার ওভারেও ব্যাটে-বলে দেখালেন বীরোচিত পারফরম্যান্স। বিপিএল ইতিহাসের প্রথম সুপার ওভারে রোমাঞ্চকর জয় পেল চিটাগাং ভাইকিংস। অপরদিকে চার ম্যাচ খেলেও জয়শূন্য খুলনা টাইটানস। অথচ মূল ম্যাচের শেষ ওভারের আগে খুলনা ছিল জয়ের খুব কাছে। জিততে হলে চিটাগাং ভাইকিংসের প্রয়োজন ছিল শেষ ওভারে ১৯ রান। মূল বোলারদের ওভার শেষ হওয়ায় মাহমুদউল্লাহ বল তুলে দেন আরিফুল হকের হাতে। তার প্রথম বলে রান নিতে পারেননি নাঈম ইসলাম। পরের বলে লং অন দিয়ে নাঈম মারলেন ছক্কা। তৃতীয় বলে আরিফুল পাল্টা জবাব দেন নাঈমকে ফিরিয়ে। কিন্তু ফ্রাইলিঙ্ক হাল ছাড়েননি তখনও। ৩ বলে যখন ১৩ রান দরকার তখন ফ্রাইলিঙ্ক টানা দুই বলে মেরে দেন দুটি ছক্কা। তবে শেষ বলে আরিফুলের শর্ট বলে ছোঁয়াতে পারেননি ব্যাট। দৌড়ে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে হয়ে যান রান আউট। বিপিএলের ছয় আসরে প্রথমবার ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
সুপার ওভারেও খুলনার সামনে সেই ফ্রাইলিঙ্ক। প্রথম বলে যদিও জুনাইদ খানকে বাউন্ডারি মারেন ক্যামেরন দেলপোর্ট। তৃতীয় বলে চার আসে ফ্রাইলিঙ্কের ব্যাট থেকে। পরের বলেই দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড ফ্রাইলিঙ্ক।
শেষ দুই বল থেকে আসে দুটি সিঙ্গেল। ১১ রানের পুঁজিতে বল হাতেও চিটাগংয়ের ভরসা ফ্রাইলিঙ্ক। দ্বিতীয় বলে ফুল টস করে চার হজম করেছিলেন ডেভিড মালানের ব্যাটে। কিন্তু তার পর দারুণ বোলিংয়ে আর সুযোগ দেননি খুলনাকে। শেষ বলে দরকার ছিল ৩ রান। রাউন্ড দ্যা উইকেটে করা ফূল লেংথ বলে পল স্টার্লিং ব্যাটেই লাগাতে পারেননি। বাই থেকে খুলনা পায় ১ রান। চিটাগাং ম্যাচটি জিতে নেয় ১ রানে।
যদিও ভাইকিংসদের জয়টা আসতে পারতো আরও আগেই। ১৫২ রান তাড়া করতে নেমে একসময় দলকে পথে রেখেছিলেন ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটির সময় ম্যাচ ছিল তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। মোহাম্মদ আশরাফুলের জায়গায় সুযোগ পেয়ে দারুণ ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নেন চট্টগ্রামের ছেলে ইয়াসির। মুশফিকুর রহিমও শুরু থেকে খেলেছেন স্বচ্ছন্দে। কিন্তু ৩৪ বলে ৪১ রান করা ইয়াসিরকে ফিরিয়ে খুলনার ম্যাচে ফেরার শুরু। এরপর মোসাদ্দেক ব্যর্থ হলেন আবারো। ভাইকিংসদের ভলসা হয়ে তখনো টিকে ছিলেন মুশফিক। কিন্তু ২ ছক্কায় ২৬ বলে ৩৪ করে তিনি আউট হন অপ্রয়োজনীয় এক স্কুপ শট খেলতে গিয়ে। মুশফিকের আউটের পর যেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রন চলে যায় খুলনা টাইটান্সের হাতে। কিন্তু সেই ম্যাচ আবার প্রতিপক্ষের মুঠো থেকে বের করে আনেন ফ্রাইলিঙ্ক। আরও অনেক নাটকের পর শেষ হাসিও ফ্রাইলিঙ্ক ও চিটাগংয়েরই। ১৩ বলে একটি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ২৩ রান করেছিলেন ফ্রাইলিংক।
যদিও টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের শুরুটা বেশ ভাল করেছিল খুলনা টাইটান্স। দলকে বিস্ফোরক সূচনা এনে দেন পল স্টার্লিং ও জুনায়েদ সিদ্দিক। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলার ফ্রাইলিঙ্কের প্রথম ওভারে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন স্টার্লিং। পরের ওভারে সানজামুল ইসলামকে পরপর ছক্কা ও চার মারেন জুনায়েদ। প্রথম ২ ওভারেই খুলনা তোলে নেয় ৩০ রান। তৃতীয় ওভারে অফ স্পিনার নাঈম হাসান আক্রমণে এসে ফিরিয়ে দেন ১০ বলে ১৮ রান করা স্টার্লিংকে। এরপর ১৫ বলে ২০ রান করে জুনায়েদ ফেরেন চিটাগাং এর সফল বোলার ফ্রাইলিঙ্কের শিকার হয়ে। তৃতীয় উইকেটে ডেভিড মালান ও মাহমুদউল্লাহ গড়েন আরো ৭৭ রানের জুটি। তাতে খুলনা পায় শেষ দিকে ঝড় তোলার মঞ্চ। কিন্তু সেই ঝড় ওঠেনি। ৪৩ বলে ৪৫ করে আউট হয়ে যান ডেভিড মালান। আর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ৩৩ রান । ব্যাক্তিগত ১ রানে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন খালেদ আহমেদ। এরপর ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। কিন্তু পারেননি তিনিও। ৫ বলে ১২ করে আউট হয়ে যান এই ক্যারিবীয়ান। শেষ ৩ ওভারে খুলনা করতে পারে কেবল ২০ রান। আর তাতেই খুলনার সংগ্রহ গিয়ে দাড়ায় ১৫১ রানে। আর খুলনার ১৫১ রানের পুঁজিতে ম্যাচের ভাগ্য হাতবদল হলো অসংখ্যবার। নাটকীয়তার নানা ধাপ পেরিয়ে নায়ক হয়ে উঠলেন ফ্রাইলিঙ্ক। মিরপুর স্বাক্ষী হলো বিপিএলের ইতিহাসের অন্যতম শ্বাসরূদ্ধকর এক ম্যাচের। যা নিস্পত্তি হয়েছে সেই বহু প্রতিক্ষিত সুপার ওভারে। অণুমিত ভাবেই ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন সেই রবি ফ্রাইলিঙ্ক।

x