সুদূরের পিয়াসী তোরসা

ঋত্বিক নয়ন

রবিবার , ১৩ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
624

বীর প্রসবিনী চট্টগ্রামকে আবারো বিশ্বের সামনে পরিচিতি এনে দিলেন এক তরুণী; রাফাহ নানজীবা তোরসা। ৩৭ হাজারের বেশি প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট অর্জন করেন তিনি। প্রতিভার বিকাশ সেই ছোট থেকেই। কখনো নৃত্যের ছন্দে মোহময়, কখনো আবার আবৃত্তিতে দৃপ্ত প্রতিবাদী, কখনো অভিনয় শৈলীতে দীপ্তিমান, কখনো আবার রঙ তুলির আঁচড়ে সৃষ্টিশীল। সাথে লেখাপড়ায় রেখে চলেছেন মেধার স্বাক্ষর। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হওয়ার পর টেলিফোনে আজাদীর কাছে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত ছিলেন না। বাইরে থেকে চঞ্চল মেয়েটির চিন্তাভাবনায় পরিপক্কতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। জানালেন, মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবো; পাশাপাশি এ দেশের মানুষের জন্য বিশেষত: শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে পারবো। এটা আমার কাছে বিশাল পাওয়া।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের দ্বীপ কন্যা কুতুবদিয়ার কথাসাহিত্যিক ও সংগীত শিল্পী প্রয়াত অ্যাডভোকেট শেখ মোরশেদ আহমেদ ও শারমিন আকতারের মেয়ে রাফাহ নানজীবা তোরসা সত্যিই অলরাউন্ডার। আবৃত্তি, নৃত্য, অভিনয়, বিতর্ক সবকিছুতেই অনবদ্য তোরসা। বেড়ে উঠেছেন পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। স্বভাবে দারুণ চঞ্চল, প্রাণবন্ত, সাহসী ও বিদ্রোহী। দারুণ আড্ডাবাজ, অন্তত মায়ের তা-ই মত। খুব সহজেই আপন করে নিতে পারেন মানুষকে। নাচে হাতেখড়ি তার সাড়ে তিন বছর বয়সেই। বছর খানেক পর আবৃত্তি ও ছবি আঁকাতে তার মুগ্ধতা। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মায়ের উৎসাহটাই তার মূল প্রেরণা। ২০০৮ সালে ভারতের দিল্লীতে ইল্ডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ড্রামা ফেস্টিভেলে মূকাভিনয় ‘কাকতাড়ুয়া’র মাধ্যমে মঞ্চ মাতান। ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতায় লোকনৃত্যে শ্রেষ্ঠত্বের পুরষ্কার নেন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে। ২০১০ সালে জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতায় ভরত নাট্যমে স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই বছর মার্কস অলরাউন্ডার প্রতিযোগিতায় নিম্ন মাধ্যমিকে দ্বিতীয় রানার আপ হয়ে পরিচিতি পান।
অভিনয় শিল্পে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধি হয়ে সরকারি অনুদানে জাপানে সফর করতে গিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম হন। ২০১৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে আবৃত্তিতে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তৌকির আহমেদ পরিচালিত হালদা চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।
চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে সাফল্যের সঙ্গে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ক্যাম্পাসের প্রিয় মুখ স্বভাবতই তোরসা। জীবনে কখনোই সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করেননি তোরসা। স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দের সাথেই সবকিছু করে থাকেন, সে লেখাপড়া হোক কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তোরসা বলেন, এটি একটি চ্যারিটি শো। দেখতে সুন্দর হলেই সে সুন্দর নয়, যদি না তার ভেতরকার মানুষটা সুন্দর না হয়। মানুষের ভেতরে মানুষের জন্য কিছু করার তাড়না থাকতে হবে। এ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নশিপ আমাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। বর্তমান সময়কার সামাজিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ তোরসা বলেন, সামাজিক অস্থিরতা দূর করতে হলে অন্যকে সম্মান দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের স্নেহ ভালোবাসাও জরুরি। লক্ষ্য কতোটা জানতে চাইলে বলেন, ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চাই। জীবনে কেউ পরিপূর্ণ নয়। আমার মাঝেও ভুল ত্রুটি আছে। আজ যতোটা করেছি, কাল আরো ভালো করতে চাই। একজন ভালো মানুষ হতে চাই।

x