সুদীপ্ত হত্যায় আরো দুই আসামি গ্রেফতার

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১১ জুলাই, ২০১৮ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
46

নগরীর লালখানবাজার এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় জড়িত আরো দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গত সোমবার রাতে লালখানবাজারের বাঘঘোনা একে খান স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুইজন হলেন রাজীবুল ইসলাম রাজীব (২১) ও মামুনুর রহমান রাব্বী (২০)। রাজীব ও রাব্বীসহ সুদীপ্ত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার বাকি পাঁচজন হলেন সালাউদ্দিন, মোক্তার, ফয়সাল আহমেদ পাপ্পু, খাইরুল নূর ইসলাম ওরফে খায়ের, আমির হোসেন ওরফে বাবু এবং রুবেল দে ওরফে চশমা রুবেল। নগর গোয়েন্দা শাখার সহকারী পরিচালক (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দিন আজাদীকে জানান, সুদীপ্ত হত্যা মামলায় গত বছর ২১ অক্টোবর রাতে দেওয়ানহাট ২ নং রেল গেট থেকে পাপ্পুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়া ফয়সাল নূর পাপ্পুর জবানবন্দিতে নাম এসেছে রাজীব ও রাব্বীর।

সুদীপ্ত হত্যা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র আজাদীকে জানিয়েছে, এই পাপ্পু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন বড়ভাই টিপুর আহ্বানে তিনি ঐ ঘটনায় অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিন বৈঠকে নিপু পুরো পরিকল্পনা তাদের বুঝিয়ে দেন। এছাড়া সুদীপ্তর উপর হামলার ঘটনায় টিপু, মোক্তার, রাব্বী, হানিফ, বাপ্পী, রাজিব, জিহাদসহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম বলেছিলেন পাপ্পু।

প্রসঙ্গত: গত বছর ৬ অক্টোবর সকাল সোয়া ৭টার দিকে নগরীর সদরঘাট থানা এলাকায় সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। সুদীপ্তদের বাসা নগরের দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায়। সকাল সাতটার দিকে দুই যুবক বাসায় এসে সুদীপ্তকে জানান, তার এক বন্ধুর বাবা মারা গেছেন। খবরটি শুনেই তাদের সঙ্গে বেরিয়ে যান তিনি। এর ১০ মিনিট পর চিৎকার শুনে তার মা টিনের ঘরের বাসা থেকে বেরিয়ে গলির মুখে যান। সেখানে ছেলেকে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল বলে জানান চিকিৎসকেরা। কোন্দলের রাজনীতির জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার পিতা বাবুল বিশ্বাস বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে সদরঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

x