(সুদিন আসবেই)

রূপম চক্রবর্তী

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ
30

: আমি গ্রামের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছি। আমার এক মেয়ে এক ছেলে। বাড়িতে ৮ কাঠার মত জায়গা ছিল। বড় মেয়েকে এমবিএ করানোর পরে ভাল একটা পাত্র দেখে বিয়ে দিলাম। বিয়ের সময় দাবী ছিল সব অনুষ্ঠান ক্লাবে করতে হবে। যেহেতু গরমের দিন সেহেতু ক্লাবগুলোতে অবশ্যই এসি থাকতে হবে। আমার জামাই বাবাজীর বাড়ি থেকে আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের খাবার কি হবে তার একটি তালিকা পাঠানো হল। তালিকাতে লিখা আছে পাত্র পক্ষের ৩০০ জন মানুষের জন্য মোরগ পোলাও, চিংড়ী মাছ, রুপচাঁদা, খাসি, চিকেন ফ্রাই এর ব্যবস্থা করতে হবে। চট্টগ্রামের আতিথেয়তার অংশ হিসেবে আমার পক্ষের ১৫০ জন সহ মোট ৪৫০ জনের আয়োজন করলাম। পাত্র পক্ষ থেকে ১৮০ জন মানুষ এসেছিল। আমার পুরো আয়োজনে ১৭০ জন মানুষের খাবার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অথচ ১৯৮৮ সালে আমি যখন বিয়ে করছিলাম আমার বাবা কাকা মিলে মোট ৭ জন ব্যক্তি আমার শ্বশুর বাড়িতে মেয়েকে আশীর্বাদ করতে গিয়েছিলেন। আমার বিয়েতে বরযাত্রী গিয়েছিলেন ১০০ জন। বস্ত্রালংকারে গিয়েছিলেন ৮ জন আর জামাইভাতাতে গিয়েছিলাম ২৫ জন। যাই হোক আমার মেয়ের বস্ত্রালংকারে পাত্র পক্ষের ৪০ জন, বিয়েতে ৭০০ জন এবং জামাইভাতাতে ২৫০ জনের আয়োজন করেছিলাম। পাত্র পক্ষ যৌতুক চাইনি। কিন্তু তাদের কয়েকজন আত্মীয় আমাকে বলে আপনার মেয়েকে আপনারা সাজিয়ে দেবেন। আমি ফুল সেট ফার্ণিচার, ফ্রিজ, এলইডি টিভি, মেয়ের জন্য বেশ কয়েক ভরি অলংকার, আরো অনেক কিছু দিয়েছিলাম। এতগুলো অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আমাকে ৬ কাঠা জায়গা বিক্রয় করতে হয়েছে। ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি ৩ লক্ষ টাকা। এত টাকা খরচ করে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি শুধুমাত্র আমার মেয়ের সুখের আশায়। জানি না মেয়ের ভাগ্যে কি আছে। একদিন আমার ছেলে আমাকে অদ্ভুত প্রশ্ন করে বসেছে। ছেলে বলে বাবা তুমি দিদিকে বিয়ে দিতে অনেক জায়গা বিক্রয় করেছ। যদি ভবিষ্যতে আমার মেয়ে হয় আমি কিভাবে মেয়ের বিয়ে দেব? আমার জন্য তো আর জায়গা রইল না। আমি ছেলেকে বললাম, তুই চিন্তা করিসনা বাবা। চট্টগ্রামের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোর চিন্তার পরিবর্তন হবে। সুদিন আসবেই।

x