সুচিত্রা মিত্র – শিল্পী ও সহযোদ্ধা

বৃহস্পতিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
33

সুচিত্রা মিত্র – রবীন্দ্র সংগীতের প্রবাদপ্রতীম শিল্পী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল নিবিড়। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রথম রেকর্ডটি হয় সুচিত্রা মিত্রের কণ্ঠে ১৯৪৮ সালে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রায় প্রতিটি প্রশিক্ষণ শিবিরে সুচিত্রা মিত্রের কণ্ঠের গানটি গাওয়া হতো। সেই উত্তাল সময়ে এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরও সুচিত্রা ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। আজ শিল্পীর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী।
সুচিত্রা মিত্রের জন্ম ১৯২৪ সালে। সংগীতে হাতেখড়ি মা সুবর্ণলতা দেবীর কাছে। ১৯৪১ সালে বৃত্তি নিয়ে শান্তিনিকেতনে যান এবং এখানে সংগীতে শিক্ষা নেন। পাশাপাশি অর্জন করেন অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি। ১৯৬৩ সালে সুচিত্রা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রিডার পদে যোগ দেন। এখানেই তিনি রবীন্দ্র সংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে সর্বশেষ কাজ করেছেন। চাকরিরত অবস্থায় প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে এম.এ পাস করেন তিনি। সুচিত্রা মিত্রের অস্তিত্ব জুড়ে ছিল রবীন্দ্র সংগীত। সাধারণের কাছে তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠানের মতো, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল রবীন্দ্রনাথের গান। শুদ্ধভাবে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়ার ব্যাপারে সুচিত্রা মিত্র ছিলেন সচেতন ও একান্ত নিবেদিতপ্রাণ। তিনি গণনাট্য সংস্থার শিল্পী ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে কলকাতার রাজপথে সেখানকার বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিসেবীরা যে মিছিল বের করে তার অগ্রভাগে ছিলেন সুচিত্রা মিত্র। শরণার্থীদের তহবিল সংগ্রহের জন্যও বহু অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন তিনি। ১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর সফরকালে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বঙ্গবন্ধুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুচিত্রা মিত্রের নেতৃত্বে শত শত শিল্পী গেয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি। বহুবার শিল্পী বাংলাদেশে এসেছেন। ২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি প্রয়াত হন শিল্পী ও সহযোদ্ধা সুচিত্রা মিত্র।

x