‘সীমা ছাড়ালে’ তুরস্কের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি ট্রাম্পের

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
54

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় অভিযানের নামে তুরস্ক ‘সীমার বাইরে’ কিছু করলে তাদের অর্থনীতি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার একের পর এক টুইটে তিনি সিরিয়ার ওই এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের ফলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা আঙ্কারার সাঁড়াশি আক্রমণের শিকার হতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ের মিত্র কুর্দিদের পাশ থেকে সরে এসে এভাবে তাদের ওপর আক্রমণের পথ করে দেয়ায় ট্রাম্প প্রভাবশালী রিপাবলিকানদেরও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সিদ্ধান্ত বদলাতেও অনুরোধ জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।
সিরিয়াজুড়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের যে হাজারখানেক সৈন্য আছে তার মধ্যে তুরস্কের সীমান্ত এলাকা থেকে মাত্র দুই ডজন সেনা প্রত্যাহার হয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। কুর্দি নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পুনরুত্থান ঘটতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে, বলছেন তারা। সিরিয়ার কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদেরকে তুরস্ক তাদের দেশে নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সহযোগী মনে করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিরীয় সীমান্তে ‘অভিযানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে’ বলে টুইটারে জানায়। ট্রাম্প পরে টুইটারে সতর্ক করে বলেন, ‘সীমার বাইরে’ কিছু করলে তিনি তুরস্কের অর্থনীতি ‘পুরোপুরি ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন’ করে দেবেন। ন্যাটো সদস্য এই দুই দেশ একসময় একে অপরের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও সামপ্রতিক বছরগুলোতে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। কূটনৈতিক ওই টানাপোড়েনের সূত্র ধরেই গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল অনেক কর্মকর্তার ওপর। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদেয়ান সমপ্রতি বলেছেন, কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তার অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সীমান্তে ২০ লাখ সিরীয় শরণার্থীর জন্য একটি ‘নিরাপদ এলাকা’ প্রতিষ্ঠা। ৮ বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া ৩৬ লাখেরও বেশি শরণার্থী এখন তুরস্কে অবস্থান করছে বলে ধারণা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার। সোমবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জনাথন হফম্যানও সিরিয়ায় অভিযানের ব্যাপারে আঙ্কারাকে সতর্ক করেছেন। উত্তর সিরিয়ায় তুর্কি অভিযানকে যে আমরা সমর্থন করছি না, প্রেসিডেন্টের মতো মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও তা সুস্পষ্ট ভাষায় জানাতে চায়- বলেছেন তিনি। মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা মিচ ম্যাককনেলও উত্তরপূর্ব সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কড়া সমালোচনা করেছেন। এভাবে সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ফলে রাশিয়া, ইরান ও আসাদের লাভ হবে, মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী রিপাবলিকান লিন্ডসে গ্রাহামও প্রেসিডেন্টের সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন; ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করতে সিনেটে প্রস্তাব আনবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি কুর্দিদেরকে এভাবে ‘মৃত্যুর মুখে ছেড়ে আসাকে ভুল’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি প্রেসিডেন্টকে তার এই ‘বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত’ বদলাতে অনুরোধ করেছেন।

x