সীতাকুণ্ড রুটে ভাড়া নৈরাজ্য

প্রতিদিন যাত্রী-চালক বাকবিতণ্ডা

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
123

সীতাকুণ্ডবাসী যাত্রীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা বন্ধ হওয়ার পর পরিবহন সংকটের কারণে সীতাকুণ্ডবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সেই সুযোগে অন্যান্য গণপরিবহনে চলে নৈরাজ্য। তাদের লাগামহীন নৈরাজ্য টেনে ধরারও যেন কেউ নেই। পরবর্তীতে এ রুটে চার চাকার অনেক পরিবহন নামে মহাসড়কে। এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু পরিবহন ব্যবসায়ী একজোট হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। সরকারের কোন নির্দেশনা না থাকায় যার যার খুশিমত ভাড়া আদায় করছে তারা। ইচ্ছেমত ভাড়া আদায়ের কারণে প্রতিদিনই ভাড়া নিয়ে যাত্রী-পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা লেগেই আছে।
অলংকার-সীতাকুণ্ড ও মীরসরাই রুটে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে-এক যাত্রীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার বিকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন চট্টগ্রাম ডিভিশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল হকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রুট পারমিট না থাকা, ড্রাইভার লাইসেন্স না থাকার অপরাধে এ রুটের কয়েকটি পরিবহনকে সর্বমোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল হক বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সীতাকুণ্ডে যাত্রীদের জন্য ১০০টির উপর লেগুনা, সেইফ লাইন, নাভানা ইত্যাদি নামে বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করছে। যেখানে আগে একটি গাড়ির জন্য মানুষ ১০ থেকে ১৫ মিনিটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত সেখানে কয়েক মিনিট পর পর এখন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহন সংকট না থাকলেও এসব গাড়ির ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতি নেই। যে যেভাবে পারছে যাত্রীদের কাজ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। নির্দিষ্ট পরিমাণে যাত্রী নেয়া সিএনজি অটোরিকশার চেয়ে অধিক পরিমাণে যাত্রী পরিবহন করলেও তারা সিএনজি অটোরিকশার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। এই নিয়ে যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত বাকবিতণ্ডা হয় গাড়ি চালকদের সাথে।
পরিবহণ সেক্টরের নৈরাজ্য ঠেকাতে কোন মহল এগিয়ে না আশায় এটি যেন এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। পরিবহন চালকরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের পকেট থেকে এক প্রকার টাকা কেড়ে নিচ্ছে। কখনো তেলের দাম বৃদ্ধি, কখনো মালিকের খরচ বেশি ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাজ থেকে ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। সীতাকুণ্ড থেকে বাঁশবাড়িয়া, সুলতানা মন্দির সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া ১০-১৫ টাকা সেখানে সেইফ লাইন, লেগুনা নামের সার্ভিসগুলো ভাড়া নিচ্ছে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। এই পরিবহনগুলো সীতাকুণ্ড থেকে অলংকার পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে ৪০-৫০ টাকা আবার একই গাড়ি সীতাকুণ্ড থেকে ভাটিয়ারি পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে ৪০ টাকা। এতে করে যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা নিয়মিত যাত্রী জসিম উদ্দিন বলেন, সীতাকুণ্ডে গণপরিবহনে নৈরাজ্য বিগত কয়েক বছর ধরে চলে আসছে। তাদের সীমাহীন নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রশাসন এগিয়ে আসছে না। এতে করে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে পকেট থেকে টাকা কেড়ে নিচ্ছে এক প্রকার।
ভাটিয়ারি বিজয় স্মরণী কলেজের ছাত্র রিফাত বলেন, সীতাকুণ্ডে পরিবহন সার্ভিসের অবস্থা নাজুক। পরিবহন সার্ভিসগুলোর কোন সুনির্দিষ্ট ভাড়া নীতি নেই। অন্যান্য রুটে যে নীতিতে পরিবহন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সীতাকুণ্ডে ভাড়া আদায়ের কোন নিয়ম নীতি নেই। বরং অন্যান্য জায়গার তুলনায় সীতাকুণ্ডে ভাড়া দুই থেকে তিন গুণ বেশি বলে দাবি করেন তিনি। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে সীতাকুণ্ডের পরিবহণ সেক্টরে ভয়াবহ নৈরাজ্য ধারণ করবে।
এই বিষয়ে সেইফ লাইনের চালক মো. করিম উদ্দিন বলেন, ভাড়ার বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা পর্যন্ত মালিককে দিতে হয়। তাছাড়া গাড়ির ভাড়া আদায়ে সরকারের কোন চার্ট বা দিক নির্দেশনা নেই। তাই তাদের বাড়তি ভাড়া আদায় করতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বাস হিউম্যান হলার সীতাকুণ্ড আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ বলেন, তারা কোন বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন না। যাত্রীরা মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

x