সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথধামকে জাতীয় তীর্থ ঘোষণার দাবি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
14

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান মহাতীর্থ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক পুণ্যময় তীর্থস্থান। অথচ এই তীর্থ রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলিত। বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এইস্থানকে জাতীয় তীর্থকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণার আশ্বাস দিলেও সনাতনী সমপ্রদায়ের এই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। গত শুক্রবার সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির উদ্যোগে স্রাইন স্টেট এনজি সাহা যাত্রী নিবাস প্রাঙ্গণে ‘চন্দ্রনাথ মহাতীর্থসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত সমন্বয় উদ্যোগ” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা একথা বলেন। বক্তারা আরো বলেন, দেশের সনাতন সমপ্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ধর্মীয় এ তীর্থস্থানটিকে জাতীয় তীর্থ ঘোষণা করা। অথচ চন্দ্রনাথধামকে জাতীয় তীর্থের আওতায় এনে কোটি কোটি টাকা আয়ের সমূহ সম্ভাবনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামিদউল্লা হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার নাথ এবং মধ্যম মহাদেবপুর ভোলাগিরী পূজা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি তপন চক্রবর্তী।
অধ্যাপক সুনিল বন্ধু নাথের সভাপতিত্বে এবং সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) পলাশ চৌধুরী সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অতিথি হিসেবে মতামত উপস্থাপন করেন সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন দাশ, সীতাকুণ্ড জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল পালিত, সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব, চট্টগ্রাম সনাতন বিদ্যার্থী সংঘের প্রধান উপদেষ্টা মিলন শর্মা, ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি(অপারেশন) রাজিবুল ইসলাম, চট্টগ্রামস্থ সীতাকুণ্ড সমিতির সভাপতি লায়ন গিয়াস উদ্দিন, বাড়বকুণ্ড ইউপি চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী, সীতাকুণ্ড পৌর ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, সাবেক সম্পাদক রেজাউল করিম বাহার, সীতাকুণ্ড উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বিমল নাথ। বক্তব্য রাখেন প্রেমতোষ দাশ, দুলাল চন্দ্র দে, সজল কুমার শীল, বিশ্বজিত পাল প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় বিশিষ্টজনেরা কয়েকটি সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন, তা হলো- সীতাকুণ্ডে ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে প্রায় ৩০-৪০টি সংগঠন নিজ নিজ স্বকীয়তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করছে। এই সকল প্রতিষ্ঠান সমূহকে সীতাকুণ্ডের মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামের উন্নয়নে ব্যক্তি স্বার্থের সম্পূর্ণ উর্ধ্বে উঠে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মহাতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামের অধীনস্থ সকল মন্দিরের পরিচালনা, সম্পত্তিসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ, সার্বিক ব্যবস্থাপনা করার আইনসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি। স্রাইন কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠিত সকল ধর্মীয় মন্দিরে পূজা অর্চনা সম্পাদন এবং সকল ধর্মীয় সম্পত্তি উদ্ধার করার জরুরি পদক্ষেপ নেয়া।

x