সীতাকুণ্ড আ.লীগ এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ

মতবিনিময় সভায় উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বাকের ভূঁইয়া

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

শনিবার , ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ১২:২৬ অপরাহ্ণ
100

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গত রোববার রাতে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

এ ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্নস্থানে আনন্দ মিছিল করেন। এর আগে বিজয় দিবসে সীতাকুণ্ড সদরে বিশাল শোডাউন করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকের ভুঁইয়া।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সাংগঠনিক ব্যক্তি না হলে দলের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। এলাকার উন্নয়নেও ভাটা পড়ে। তাই সাংগঠনিক একজন ব্যক্তিকে সীতাকুণ্ড আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হলে সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আসবে।

এতে বাকের ভুঁইয়া বলেন, ১৯৯২সালের ১১ডিসেম্বর সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। সেই থেকে অদ্যাবধি তিনি দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে সততা, নিষ্ঠার সাথে এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাশেম মাস্টারের বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর তিনি স্থানীয় সাংসদকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার পাশাপাশি সংগঠনকে অধিকতর শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যান। তিনি আরো বলেন২০০১সালে বিএনপিজামায়াত জোট ক্ষমতায় আসলে দেশের অন্যান্য স্থানের মত সীতাকুণ্ডেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন শুরু হলে তিনি সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগের অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের মামলাহামলা প্রতিহত করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২০০৯ সালে সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী পাঁচ বছর সীতাকুণ্ডের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালনের কথা তুলে ধরেন তিনি। ২০১৩ সালে বিএনপিজামায়াত জোট আন্দোলনের নামে সীতাকুণ্ডে ব্যাপক সহিংসতা করে। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে তাদের সন্ত্রাস নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। সন্ত্রাস নৈরাজ্য প্রতিহত করে ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিদারুল আলমকে বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তিনি বলেন, ২৫ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। দলের নানা দু:সময়ে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে সংগঠনকে মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছি। আমার এলাকার আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা চান আগামী সংসদ নির্বাচনে আমি যেন দলীয় হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাই। আমাদের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেন, তাহলে আমার উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মাঠের দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া, ত্যাগী ও প্রকৃত রাজনীতিবিদদের মনোনয়ন দেবেন এটাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ অতীতের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দাবি করে তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে উপজেলার প্রতিটি ইউনিটের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে সকল দলীয় কর্মসূচি ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাকের ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন না দিলে দলের যাকেই দেবেন তার জন্য কাজ করে যাবো।

x