সীতাকুণ্ডে ২ খুনের ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
18

সীতাকুণ্ডে সম্প্রতি দুটি খুনের ঘটনায় এখনও কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে খুনীরা। এসব কারণে একদিকে যেমন অপরাধ বাড়ছে তেমনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উপজেলা জনসাধারণের। তবে পুলিশ বলছে, খুনিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সীতাকুণ্ডে শিশুসহ ৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় খুনীকে এলাকাবাসী হাতে নাতে ধরে পুলিশে দিয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর পৌরসদরের ভোলাগিরি সড়ক এলাকায় ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দাউদ সম্রাটকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে খুন করে। ঘটনার দুইদিন পর সম্রাটের মা জেবুন্নেছা বেগম বাদী হয়ে শহীদুল ইসলাম শহীদসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এ ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে, গত ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছোটকুমিরা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিঙ্গুরী পাড়ায় দলিল লেখক সফির বাড়ির দুলাল হোসেনের শিশু পুত্র মো. নিহাদ হাসান (৬)কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারই সৎ মা। এলাকাবাসী ঘটনা টের পেয়ে সৎ মা শামীনাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে তুলে দেয়। এঘটনায় নিহতের মা ছবুরা খাতুন বাদী হয়ে সৎ মা ছামিনা বেগমকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। অবশ্য নিহাদ হত্যার ঘটনায় তাঁর সৎ মা ছামিনা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবার রাতে বাড়বকুণ্ড রেলওয়ে কলোনিতে মো. ইমরান হোসেন রিয়াদ নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের বড় ভাই ফরহাদ হোসেন ও বোন শামীমার আক্তারের অভিযোগ, ডাকাতি করতে এসে বাধা পেয়ে তারা রিয়াদকে কুপিয়ে ফেলে যায়। পরে সে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের হয়েছে। এতে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। যুবলীগ নেতা দাউদ সম্রাট খুনের সাথে জড়িত শহীদ বা তার বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে তাঁর পরিবার অভিযোগ করছে। এ প্রসঙ্গে সম্রাট হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সীতাকুণ্ড থানার এসআই মো. আমির হামজা বলেন, শহীদ ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চারটি টিম কাজ করছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন বলেন, শহীদ পুলিশের তালিকাভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে দাউদ সম্রাট খুনসহ ১২টি মামলা রয়েছে। আমরা সব ঘটনাকেই গুরুত্বের সাথে দেখছি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

x