সীতাকুণ্ডে সবজি ক্ষেত ও মৎস্য খামারের ক্ষতি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

শনিবার , ২০ জুলাই, ২০১৯ at ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
41

সীতাকুণ্ডে টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সবজি ও মৎস্য খামার। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাগরের সাথে সংযুক্ত খাল ও ছড়াগুলো মাটিতে ভরাট হয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার মৌসুমে কৃষকদের সবজি ক্ষেতে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে পানিতে তলিয়ে যায় কৃষকদের অতি পরিশ্রমের ফসল এবং পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য।
মুরাদপুরের কৃষকরা জানান, সদ্য রোপণ করা আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত বর্তমানে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। চলতি বছরের জুন মাসের ১০/১১ তারিখে সদ্য আউশ জাতের ধান রাজকুমার হাইব্রীড রোপণ করেছে ১৬০ শতকে। এছাড়া ২০০ শতকে বরবটি ও ৩৪ শতকে লাউ এর আবাদ করা হয়েছে। আবাদ অনুযায়ী জমিতে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক প্রতিদিন নাস্তাসহ ৫০০টাকা মুজুরিতে কাজ করছেন। বিগত ২০১৭ সাল থেকে স্লুইস গেট ধসে পড়ায় এখানকার কৃষকদের সব রকম সবজি ক্ষেত পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। তাই চলতি বছরেও অনেক ঝুঁকি নিয়ে কৃষকরা ধান চাষসহ বিভিন্ন রকম সবজির আবাদ করলেও মুরাদপুর গুলিয়াখালী স্লুইস গেটটি সংস্কার না হওয়ায় এখানকার কৃষকদের রোপণ করা হাজার হাজার একর জমির ধানের চারা ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়।
উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকায় দেখা গেছে, সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত অধিকাংশ খাল ও গুলিয়াখালী স্লুইস গেট ধসে পড়ায় পাহাড়ি ঢলের পানি কৃষকদের আবাদি জমিতে ঢুকে পড়ে। ফলে অসংখ্য কৃষক এখন জমিতে চাষাবাদ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
মুরাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদ হোসেন নিজামী বলেন, ২০১৭ সালে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গুলিয়াখালী স্লুইস গেটটি ধসে গিয়েছিল। ফলে চলতি বর্ষায় কৃষকদের জমির আউশ ধান ও সবজি তলিয়ে গিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আমার নিজের পুকুর সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের অন্তত ২শ’ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গিয়ে আরো ২কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি সড়ক পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে একাকার হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, খাল ও স্লুইস গেট সংস্কার বিষয়ে একটি ফাইল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। তবে খাল ও স্লুইস গেট দ্রুত সংস্কার করা না গেলে প্রতি বর্ষার মৌসুমে কৃষক ও মৎস্য চাষীরা বার বার ক্ষতির শিকার হবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাফকাত রিয়াদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বেড়িবাঁধের মাটি এসে স্লুইস গেটের উপর পড়লে স্লুইস গেটটি ধসে পড়ে যায়। এটি সংস্কার করা হলে পাহাড়ি ঢলের পানি কৃষকদের জমিতে তেমন প্রবেশ করতে পারবে না।

x