সীতাকুণ্ডে আমনের ভালো ফলন

কৃষকের মুখে হাসি

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

শুক্রবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
10

সীতাকুণ্ডে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। হেমন্তের পাকা ধানে ভরপুর সোনালি মাঠে পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান কাটার কাজ। আমন ধানের ম-ম গন্ধে ভরে উঠেছে কৃষকের ঘর। মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধান কাটার উৎসব। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক ধানের জমিতে চিটা থাকা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়ায় আশানুরূপ ফলন নিয়ে ঘরে ফিরেছেন কৃষকরা।
ইতিমধ্যে আমন ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে জলবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি হলেও রোপা আমনের ভালো ফলনে এ বছর কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার সীতাকুণ্ডের ১৬ হাজার ৬শ ৫০ জন কৃষক ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে উফশী এবং ৯৫০ হেক্টর জমিতে কালো জিরা, বিন্নি, মোডলসহ স্থানীয় জাতের আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এবার উফশীতে প্রতি হেক্টরে ফলন মিলেছে ২.৭৫ মেট্রিক টন। এছাড়া স্থানীয় জাতের আমন ধানে প্রতি হেক্টরে ফলন মিলেছে ১.৮০ মেট্রিক টন; যা গতবারের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত ও রোগবালাই কম হওয়ায় আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলেছে।
এতে গতবারের তুলনায় এবার বাম্পার ফলনে উপজেলার সব কৃষকই লাভবান। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে অধিকাংশ ফসলি জমি তলিয়ে যায়। তাতে রোপা আমন নষ্টের পাশাপাশি বীজতলার ক্ষতি সাধিত হয়। তবে চাষাবাদে আগ্রহী উপজেলার কৃষকরা দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে পুনরায় বীজতলা তৈরির মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় রোপা আমন চাষ করেন। এতে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলতা লাভের পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমনের ফলন হয়েছে। মাহামুদাবাদ এলাকার চাষি মো. এরশাদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমনের ফলন বেশি হয়েছে। পাশাপাশি ধান ও খড়ের চাহিদা থাকায় দামও বেশি। এবার নতুন বাজারে তোলা আমন ধান বস্তা প্রতি ১২৮০-১৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা গতবারের তুলায় ৩০০/৪০০ টাকা বেশি। ভাটিয়ারী খাদেমপাড়া এলাকার কৃষক মো. দেলোয়ার জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসলি জমির ক্ষতি হলেও দ্বিতীয় দফায় রোপা আমনের চাষে কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলেছে। ধানে চিটা দেখা গেলেও তা স্বভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া এবার ধানের বাজার দর বেশি থাকায় গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা দৈনিক আজাদীকে বলেন, এবার সীতাকুণ্ডের পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার প্রতিটি এলাকায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে এবার লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে।

x