সীতাকুণ্ডের জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
11

ইলিশের নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৫ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ রেখেছেন সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকার চার হাজার জেলে। জেলেদের সচেতন করতে উপজেলা মৎস্য বিভাগ ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। এতে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৎস্য বিভাগ ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে তিন বছর আগে উপকূলীয় এলাকায় ১০ দিন ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করে। সচেতনতা সৃষ্টি না করায় এবং এ ব্যাপারে প্রচারণার উদ্যোগ সীমিত থাকায় প্রজননের ভরা মৌসুমেও সীতাকুণ্ড থেকে মীরসরাই পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার এলাকায় গত তিন বছর শিকার নিষিদ্ধ থাকার সময়েও ইলিশ ধরা বন্ধ থাকেনি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা জানান, এবার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য তারা জেলেদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং উপকূলীয় কোস্ট গার্ড এ কাজে সহায়তা করছে। জেলেরা নির্দিষ্ট সময় থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ রেখেছে। শুরু থেকে মৎস্য বিভাগ এসব এলাকায় নজরদারির ব্যবস্থা করেছে।
এবার মৎস্য বিভাগের প্রচারে অনেক জেলে সচেতন হয়ে এ সময়ে সাগরে ইলিশ ধরা বন্ধ রেখেছেন। এদের একজন কুমিরা ঘাটঘর এলাকার রবীন্দ্র জলদাস (৩৮)। তিনি বলেন, স্থানীয় জেলে সমিতির কাছ থেকে ইলিশ ধরা বন্ধের খবর পেয়ে তিনি মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। আগামীতে প্রচুর ইলিশ পাওয়ার আশায় তিনি এখন কষ্ট করতে রাজি। তবে সীতাকুণ্ড উপকুলীয় এলাকার প্রায় তিন হাজার জেলে পরিবার এ সময় কষ্টে দিন যাপন করছেন। এ সময়ের জন্য জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। উপজেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরি দাস জানান, এখানকার ২৫টি আড়ত থেকে সপ্তাহে ৩০ হাজার মণ ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ থাকায় সব আড়ত বন্ধ রয়েছে।

x