সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিভে গেল ২ প্রাণ

নাসিরাবাদে অক্সিজেন রিফুয়েলিংয়ের সময় দুর্ঘটনা

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ
796

নগরীর খুলশী থানাধীন নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার একটি কারখানায় অক্সিজেনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো এক শ্রমিক। গতকাল ভোর ছয়টার দিকে ইসলাম স্টিল মিলের ভেতরে সিরাজ আনো অক্সিজেন লিমিটেডের কারখানায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শ্রমিক হলেন, পবিত্র কুমার দাস (৩৫) ও মো. ছাবেদ (৩৫)। পবিত্র কুমারের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়। আর মো. ছাবেদের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর। এছাড়া এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ অপর শ্রমিক নূর ওসমান (৩০) আকবর শাহ থানাধীন উত্তর কাট্টলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এএসআই আলাউদ্দীন তালুকদার জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে দেড়টার দিকে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত অপর ব্যক্তি বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডা. মো. রফিক জানিয়েছেন, নূর ওসমানের শরীরের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া মাথায়ও ইনজুরি রয়েছে। আশঙ্কাজনক না হলেও তিনি পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয়। বিস্ফোরণে ২ জনের নিহতের তথ্য নিশ্চিত করে খুলশী থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, শফিকুর রহমান চৌধুরীর মালিকানাধীন কারখানাটিতে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা শিফটের ডিউটি করছিলেন শ্রমিকরা। সিলিন্ডারে অঙিজেন ভরতে গিয়ে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। এতে দুজন নিহত এবং আরো একজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে পাশের দুটি দেয়াল ধসে গেছে। ঘটনার পরপর ডিসি, এসিসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। তদন্তে মালিকের কোন ধরনের গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহত দুজনের পরিবারের পক্ষে পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক জসীম উদ্দীন জানান, অঙিজেন রিফুয়েলিংয়ের সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আনো অঙিজেন লিমিটেডের ঐ কারখানাটির ফায়ার সেফটি প্লান ছিলো না জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, তারা ফায়ার সার্ভিসের নিকট থেকে ৩ মাসের মধ্যে নিজেদের কারখানার ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করবে বলে আবেদন করে সময় নেয়। তবে গত ৯ মাসেও কারখানার ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে পারেনি। অপরদিকে শ্রমিকরা যে সিলিন্ডারগুলোতে অঙিজেন রিফুয়েল করছিলো সেগুলোর গুণগতমান ঠিক ছিলো না।
কারখানাটি নির্মাণে যথাযথ বিল্ডিং কোড মানা হয়নি যুক্ত করে জসীম উদ্দীন আরো বলেন, নিয়ম মাফিক কারখানটির দেয়াল আরসিসি পদ্ধতিতে করার কথা থাকলেও তারা সাধারণ ইট দিয়ে ভবনের দেয়াল তুলে দিয়েছে। ফলে বিস্ফোরণে ভবনের দেয়ালও ধ্বসে পড়েছে।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের পক্ষে একজন ফায়ার ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কারখানার সকল অনিয়মের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

x