সিমন দ্য ব্যোভওয়া : মুক্তিকামী নারীর অনুপ্রেরণা

মঙ্গলবার , ৯ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
72

সিমন দ্য ব্যোভওয়া খ্যাতিমান ফরাসি দার্শনিক, সাহিত্যিক ও নারীবাদী তাত্ত্বিক। তাঁর দার্শনিক চিন্তা ও ধ্যানধারণার যুক্তিবাদী প্রকাশ বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিকামী নারীদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। এ যুগেও তিনি আধুনিক নারীবাদের মুক্তির মডেল হিসেবে স্বীকৃত। আজ তাঁর ১১০তম জন্মবার্ষিকী।

সিমন দ্য ব্যোভওয়ার জন্ম ১৯০৮ সালের ৯ই জানুয়ারি ফ্রান্সের এক বুর্জোয়া পরিবারে। কিন্তু বুর্জোয়া সমাজের প্রথাবদ্ধ জীবনের প্রতি তিনি বরাবরই ছিলেন বিরূপ। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয় ছিল দর্শন। একুশ বছর বয়সে ব্যোভওয়া দর্শনশাস্ত্রে অধ্যাপনায় নিযুক্ত হন। এ সময় বিখ্যাত ফরাসি সাহিত্যস্রষ্টা ও দার্শনিক জা পল সার্ত্রের সান্নিধ্য লাভ করেন তিনি। সার্ত্রের মধ্যে নিজের ধ্যানধারণার অদ্ভুত মিল খুঁজে পান ব্যোভওয়া। সার্ত্রের সান্নিধ্য তাঁকে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে যুক্তিবাদী বিশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে অধ্যাপনা ছেড়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে সাহিত্য সাধনায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। ব্যোভওয়া উপন্যাস, স্মৃতিকথা, দার্শনিক নিবন্ধ, নাটক প্রভৃতি রচনা করেছেন। তবে তিনি বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত ও বিখ্যাত হন তাঁর নারীবাদী রচনাগুলোর জন্যে। এ ধরনের লেখায় দৃঢ়ভাবে, বৈজ্ঞানিকভিত্তিতে সমাজে নারীর মর্যাদা ও স্থান প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন তিনি। ব্যোভওয়া বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, নারীপুরুষের মধ্যে ভেদাভেদ এবং তথাকথিত ‘নারীত্ব’ ধারণা নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যাপার। তাঁর মতে, বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থায় নারীর স্বাধীনতা বিকশিত হওয়া সম্ভব নয়। ব্যোভওয়ার রচনাগুলোর মধ্যে ‘আমন্ত্রিতা’, ‘অন্যের রক্ত’, ‘সমস্ত মানুষ নশ্বর’, ‘সুন্দর চিত্রগুলি’, ‘বুদ্ধিজীবীরা’, ‘নারীজাতি’, তিন খন্ডে রচিত ‘স্মৃতিকথা’, অস্তিত্ববাদী নাটক ‘অকেজো মুখ’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ‘বুদ্ধিজীবীরা’ উপন্যাসের জন্য তিনি গোকুর পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালের ১৪ই এপ্রিল ব্যোভওয়া প্রয়াত হন।

x