সিন্ডিকেট কারসাজিতে দাম বৃদ্ধি গো-খাদ্যের

গমের চেয়ে ভূষির দাম বেশি বিপাকে খামারিরা

ইকবাল হোসেন

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ
55

বাজারে গম আর মটরের চেয়ে দাম বেশি ভূষির। প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে এসব গো-খাদ্যের দাম। এতে করে এসব ভূষির মূল ব্যবহারকারী ডেইরি খামারিরা বিপাকে পড়ছেন। খামারিদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে বাড়ানো হচ্ছে গো-খাদ্যের দাম। পাশাপাশি নিম্নমানের গো-খাদ্যে বাজার সয়লাব হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চট্টগ্রামের ডেইরি শিল্প।
খামারি ও গো-খাদ্য বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহানগরীসহ চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে প্রায় দেড় হাজার ডেইরি ফার্ম রয়েছে। এসব ফার্মে প্রায় লক্ষাধিক গরু রয়েছে। কিন্তু হালসময়ে গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে খামারে দুধ উৎপাদন ও গরু পালনে। এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে আগামীতে ফার্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে জানান খামারিরা।
নগরীর খুলশী ফার্মগেট এলাকার এম এস ডেইরি ফার্মের মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার খামারে ২৫টি গাভীসহ ৩৫টি গরু রয়েছে। এখন হু হু করে গো-খাদ্যের দাম বাড়ছে। একটি গাভীর জন্য প্রতিদিন ৩০০ টাকার খাবার লাগে। দুধ উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আবার একটি ষাঁড়ের জন্য কমপক্ষে দুইশ টাকার খাবারের প্রয়োজন। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ কর্ণফুলী এলাকার সুফিয়া ডেইরি ফার্মের মালিক জালাল উদ্দিন রুকন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমরা খাদ্য তৈরি করে খামারে ব্যবহার করি। গত বছর যেখানে এক কেজি খাবার তৈরিতে ২৫-২৬ টাকা খরচ পড়তো, সেখানে বর্তমানে খরচ পড়ে ৪২ টাকার বেশি। আমার খামারে ৬০টি গরু রয়েছে।’
এ খামারি বলেন, ‘কর্ণফুলী এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক গরুর খামার রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমার মতো অনেক ছোট খামারির পথে বসার উপক্রম হয়েছে।’
ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই এলাকার আড়তদার প্রতিষ্ঠান এমজি ট্রেডার্সের ম্যানেজার রানা বৈদ্য জানান, চাক্তাইয়ের পাইকারি বাজারে গমের চেয়ে ভূষির দাম বেশি। প্রতিমণ গম বিক্রি হচ্ছে ৮৫০-৮৬০ টাকা। অথচ ৩৫ কেজির গমের ভূষির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৩২০-১৩৩০ টাকায়। বাজারে মটর ভূষির দামও বেড়েছে। মটর ভূষি ১৮ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। এতে এক কেজি মটর ভূষির দাম পড়ছে ৩৯ টাকার মতো। কিন্তু পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি মটর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকায়।
দক্ষিণ জেলা ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও মিল্ক ভিটার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক নাজিম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘পুরো চট্টগ্রামে প্রায় দেড় হাজারের মতো ডেইরি ফার্ম রয়েছে। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তার উপর নিম্নমানের খাদ্যে বাজার সয়লাব। ইতোমধ্যে নিম্নমানের ভেজাল গো-খাদ্য খেয়ে অনেক খামারে গরু রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে। অনেক গরু মারাও গেছে। এতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এক লিটার দুধ উৎপাদনে ৪০-৪২ টাকা খরচ পড়ছে। অথচ চট্টগ্রামসহ দেশে পর্যাপ্ত গো-খাদ্য মজুদ রয়েছে। চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে লক্ষ লক্ষ টন গো-খাদ্য মজুদ করে রাখা হয়েছে। সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে গবাদি পশুর খাবারের দাম বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে ডেইরি খামারিরা পথে বসবে।’

x