সিকানদার আবু জাফর: যুগযন্ত্রণায় বিদগ্ধ এক বিপ্লবী প্রাণ

রবিবার , ৫ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ
37

সিকানদার আবু জাফর একাধারে কবি, সাংবাদিক, সংগীত রচয়িতা ও নাট্যকার হিসেবে খ্যাতিমান। উদার, প্রগতিপন্থী এই শিল্পীর রচনা স্বদেশচিন্তা ও সমাজভাবনা আশ্রিত, ত্যাগের বেদনা আর সংগ্রামের উত্তাপে প্রাণিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রুদের উদ্দেশ্যে এক প্রত্যক্ষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। যা সব সময় সমকালীন। আজ তাঁর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

সিকানদার আবু জাফরের জন্ম ১৯১৯ সালের ৩০ মার্চ খুলনা জেলার তেতুঁলিয়া গ্রামে। ১৯৩৬ সালে স্থানীয় স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে কিছুকাল কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজে লেখাপড়া করেন। পরবর্তী সময়ে পুরোপুরি জড়িয়ে পড়েন সাংবাদিকতায়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা। দেশবিভাগের পর ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এরপর নানা সময়ে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’, ‘দৈনিক মিল্লাত’, সাহিত্য পত্রিকা ‘মাসিক সমকাল’ প্রভৃতিতে কাজ করেছেন। মাসিক সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে এই পত্রিকাটির ভূমিকা ছিল অনন্য। ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল মুদ্রায়ণ’ নামে একটি ছাপাখানা এবং ‘সমকাল প্রকাশনী’ নামে একটি প্রকাশনালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতির একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক সিকানদার আবু জাফর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন। তাঁর রচিত উদ্দীপনামূলক বেশ কিছু গান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানুষকে উজ্জীবিত ও অণুপ্রাণিত করেছিল। এর মধ্যে ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য। সিকানদার আবু জাফরের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে: ‘বৈরী বৃষ্টিতে’, ‘প্রসন্ন প্রহর’, ‘শকুন্ত উপাখ্যান’, ‘মহাকবি আলাওল’, ‘পূরবী’, ‘নতুন সকাল’, ‘মাটি আর অশ্রু’, ‘জয়ের পথে’, ‘নবী কাহিনি’ প্রভৃতি। অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সেন্ট লুইয়ের সেতু’ এবং ‘বারনাড মালামুডের জাদুর কলস’। তাঁর অধিকাংশ রচনায় তিক্তপ্রাণ এক বিপ্লবী ও যুগযন্ত্রণায় বিদগ্ধ স্বাধীনতা প্রত্যাশী মনের পরিচয় মেলে। সাহিত্যকৃতীর স্বীকৃতি হিসেবে সিকানদার আবু জাফর বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি প্রয়াত হন।

x