সিইসির বক্তব্যে নানা আলোচনা সমালোচনা

ঢাকা ব্যুরো

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ
182

নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া বক্তব্যে চলছে নানা আলোচনা, হচ্ছে সমালোচনা। বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য সিইসিকে সাংবিধানিক এই পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিইসিকে ‘সংযত’ হয়ে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিইসির এ বক্তব্যের সাথে তার সহকর্মীরাও একমত নন বলে জানিয়েছেন। তবু সিইসি তার বক্তব্যে অটল রয়েছেন। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, তিনি সত্য কথা বলেছেন। বড় নির্বাচনে কোথাও অনিয়ম হবে না, এ কথা বলা হলে তা হবে মিথ্যা কথা।

গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, বড় বড় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সিইসির এ বক্তব্যের পর রাজনীতিতে চলছে আলোচনাসমালোচনা। এমন কী খোদ নির্বাচন কমিশনেও বিরাজ করছে ক্ষোভ। তার সহকর্মী কমিশনাররাও তার এ বক্তব্যের সাথে একমত নন। তারা বলছেন, এটা সিইসির ব্যক্তিগত অভিমত। সিইসির এ ধরনের বক্তব্য অনিয়মকারীদের উৎসাহ দেবে।

এ বিষয়ে কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। আমি কোনোভাবেই এই বক্তব্য সমর্থন করি না। যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম করতে চায়, এই ধরনের বক্তব্য তাদের উস্কে দেবে। অনিয়ম করার ব্যাপারে তারা অনেক উৎসাহ পাবে বলে আমি আশংকা করি।

কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। আমি ওভাবে মনে করি না। আমরা শপথ নিয়েছি একটা গ্রহণযোগ্য আইনানুগ নির্বাচন করার জন্য। এটার সঙ্গে এই বক্তব্যের কোনো মিল নেই। আমি ওটাকে কমিশনের অভিমত বলে মেনে নিতে পারি না।

নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করি। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্যই আমি শপথ নিয়েছি। এটা কমিশনের বক্তব্য বলেও আমি মনে করি না। আমরা যেহেতু জানি না কোন অনুষ্ঠানে তিনি এটা বলেছেন, সুতরাং এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি সিইসির বক্তব্যকে সমর্থন করি না। এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। কমিশনে এমন কোনো আলোচনা হয়নি। সংবিধানের আলোকে আমি শপথ নিয়েছি ভালো, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। আমি সেটাই ধারণ করি।

সিইসির অনিয়ম সম্পর্কিত এমন মন্তব্যের পর তাকে ‘সংযত’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়ত মনে করেছেন এটাই সত্যি। কিন্তু তার বক্তব্যে আরো সংযত হওয়া দরকার। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মূল দায়িত্বে তিনি আছেন। কথাবার্তা অবশ্য তিনি ভালোই বলেন, তবে স্লিপ হতেই পারে। আমি আশা করি তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেবেন না।

সিইসির মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, এই কথা বলার পর তার পদে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। অবিলম্বে আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।

এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সিইসিকে দেশের মানুষের ওপর ‘আস্থা রেখে’ একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাঙালি নির্বাচনে অনিয়ম করবে না।

গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী সিইসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন যে, উনি আশঙ্কা করছেন, আগামী নির্বাচনে একটু হাঙ্গামা বা অনিয়ম হতে পারে। আপনি (সিইসি) সুষ্ঠু নির্বাচন দেন। আপনার অর্গানাইজেশন ঠিক করে আপনি নির্বাচন দেন। আমার বাঙালি ভাইয়েরা, আমার বাঙালি বোনেরা কোনো অনিয়ম ছাড়াই ইনশাআল্লাহ ভোট দেবে। আমার বাঙালি ভাইয়েরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, আপনি ভয় পাইয়েন না। আমরা বাঙালিরা কখনো কোনো দিন অনিয়ম করি নাই। যদি অনিয়ম করে থাকে তাহলে কুচক্রী মহল অনিয়ম করেছে।

এতসব আলোচনাসমালোচনার পরও সিইসি তার বক্তব্যে অটল রয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে গতকাল একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে বলেছেন, সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্র, প্রায় ৩ লাখ ভোটকক্ষ। এত বড় নির্বাচনে কোথাও অনিয়ম হবে না, এমন কথা বললেও মিথ্যা কথা বলা হবে। আমি বাস্তবতার কথা বলছি; অনিয়ম হবে না এমন নিশ্চয়তা আমি তো দিতে পারি না।

আসছে ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির সামনে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করে। কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের কারণে প্রশংসা কুড়িয়েছিল কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সমপ্রতি অনুষ্ঠিত পাঁচ সিটি নির্বাচনে অনিয়মের কারণে ইসি সমালোচনার মুখে পড়ে। এর মধ্যে কয়েকটি সিটিতে কারচুপির অভিযোগ এনে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপি।

x