সিআইইউ মার্কেটিং বিভাগের জমজমাট পিকনিক

বুধবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৮ at ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
245

কিছু স্বপ্নে দেখা, কিছু গল্পে শোনা, ছিল কল্পনা জাল, এই প্রাণে বোনা…….আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাবো, হারিয়ে যাবো আমি তোমার সাথে। সত্যিই দিনটি ছিল হারিয়ে যাওয়ার। আনন্দে মেতে ওঠার।

বছরজুড়ে ক্লাস-পরীক্ষা। দলবেধে সবাই মিলে তাই হই-হুল্লোড় করে সময়টুকু ক্যালেন্ডারের পাতায় স্মৃতি করে রাখতে ভেতরে ছিল শুধুই অপেক্ষা। চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি(সিআইইউ)-এর মার্কেটিং বিভাগে অনুষ্ঠিত হলো ২০১৮ সালের জমজমাট পিকনিক।

নাচ, গান কিংবা আড্ডাবাজি। সবই ছিল পুরো আয়োজনে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের কেইপিজেড, মেরিন একাডেমি ও পারকি বিচ ঘুরে আসলেন বিভাগটির একঝাঁক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। সবাই মিলে আড্ডা দিলেন প্রাণখুলে। কেউবা হারিয়ে গেলেন আপন ভুবনে। ছবি তুলে দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে দেখা গেল আবার অনেককে। ‘আজ দুঃখ ভোলার দিন/আজ মন হবে যে রঙিন/আজ প্রাণ খুলে শুধু গান হবে/সুখ হবে সীমাহীন।’ ছেলে মেয়েরা গাইতে লাগলেন ক্লাস-পরীক্ষার টেনশন ভুলে।

শুধু কি তারা? বয়স ভুলে তাদের সঙ্গে এসে শামিল হলেন বিজনেস স্কুলের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. রোবাকা শামশের, এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর কামরুদ্দিন পারভেজ, লেকচারার আশিকুল মাহমুদ ইরফান, অতিথি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, তামান্না জামানসহ অনেকেই।

সকালে সিআইইউ’র জামালখান ক্যাম্পাস থেকে বাস ছাড়ে। বাস চলে যায় কেইপিজেডের গল্ফ ক্লাবে। সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে দুপুরের কিছু আগে গাড়ি পৌঁছে যায় মেরিন একাডেমিতে। সিআইইউ’র শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান কমান্ড্যান্ট নৌপ্রকৌ. ড. সাজিদ হোসেন। তিনি সবাইকে সবকিছু ঘুরিয়ে দেখান।

সেখানকার মিউজিয়াম আর লেকের সৌন্দর্য্য-দুটোই মুগ্ধ করে পিকনিকের অতিথিদের। পরে তার হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। দুপুরের আহারের পর প্রত্যেকে ছুটলেন পার্কি বিচে। সাগরের ছোট ছোট ঢেউ আর বালুকণা যেন বাড়ি ফিরতে গিয়েও আটকে দিচ্ছিল মনটাকে।

দূরের ঝাউবাগানের শো শো বাতাসের সঙ্গে মনটাও যেন দুলছিল। এসোসিয়েট প্রফেসর ড. রোবাকা শামশের বলেন, ‘পড়ালেখার বাইরে এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে অনেক বেশি অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর কামরুদ্দিন পারভেজ বলেন, ‘পিকনিক মানেই কেবল আনন্দ নয়। এখান থেকেও জীবনের নানা কিছু শেখার আছে।’

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। সূূর্য ডুবতে শুরু করেছে। সিআইইউ’র শিক্ষার্থীদের বাস ততক্ষণে শহরে ফিরতে রওনা করেছে। সবাই তখন একসঙ্গে গেয়ে উঠলেন ‘চলো না ঘুরি আসি অজানাতে, যেখানে নদী এসে থেমে গেছে।’

x