সায়াটিকা নার্ভ পেইন

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
83

সায়াটিকা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। কোমরে বা পিঠে ব্যথা হলেই অনেকে ধরে নেন তিনি সায়াটিকায় আক্রান্ত হয়েছে। অনেকে রোগটিকে বাতের ব্যথা বলে থাকেন। বেশিরভাগ রোগি প্রথম অবস্থায় ডাক্তারের কাছে আসেন না, যখন নিতম্বে ও পায়ের নিচের দিকে ব্যথা বাড়তে থাকে তখন রোগিরা হতাশাগ্রস্থ ও নিরুপায় হয়ে ডাক্তার বা থেরাপি সেন্টারে আসেন। প্রথম অবস্থায় যদি রোগটি নির্ণয় করা যায় তবে এ ব্যথা দ্রুত সাড়ানো যায়। কিন্তু রোগিরা যত দেরি করেন ব্যথা সাড়াতে তত দেরি হয়। তবে আমার পরিসংখ্যানে বলতে পারি, আমাদের দেশে যত ব্যথার রোগি আছে তারমধ্যে এরোগে আক্রান্ত রোগির সংখ্যায় বেশি। আমার বডি রিহ্যাব ফিজিওথেরাপি সেন্টারে বেশিরভাগ পুরুষ-মহিলারা এই রোগে আক্‌্রান্ত দেখা যাচ্ছে। তবে এ রোগে পুরুষদের চেয়ে মহিলারাই আক্‌্রান্ত হয় বেশি।
সায়াটিকা আসলে কী : আমাদের শরীরে সায়াটিক নামে একটি নার্ভ বা স্নায়ু রয়েছে, যা আমাদের মেরুদন্ডের লাম্বার স্পাইনের শেষ দিকের কশেরুকা বা ভাটিব্রারা এল ৩, ৪, ৫ এবং সেকরাল স্পাইনের এস ১ কশেরুকা বা ভাটিব্রারা থেকে ঊরুর পেছন দিকে দিয়ে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্য দিয়ে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত বিস্তুৃত। যখন কোনো কারণে এই নার্ভ বা স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে তখন এই নার্ভ বা স্নায়ুর বিস্তৃতি অনুযায়ী ব্যথা কোমর থেকে পায়ের নিচে ও পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এটাকে ডাক্তারি পরিভাষায় সায়াটিকা বলা হয়। একে আবার নিতম্ব ব্যথা বা পায়ের ব্যথাও বলে থাকে।
সায়াটিকার লক্ষণ সমূহ :
১। প্রথমে কোমরে ব্যথা হতে থাকে।
২। ব্যথা কোমর থেকে পায়ের নিচের দিকে ছড়িয়ে যায়।
৩। অনেকের ক্ষেত্রে কোমরে ব্যথা থাকে না কিন্তু ঊরুর পেছনের দিক থেকে শুরু করে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্য বেশি ব্যথা অনুভব করে।
৪। বিশ্রামে থাকলে বা শুয়ে থাকলে ব্যথা কম থাকে, কিন্তু খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা হাঁটলে ব্যথা বেড়ে যায়।
৫। এমনকি কিছুক্ষণ হ্‌াটলে আর হাঁটার ক্ষমতা থাকে না। কিছুটা বিশ্রাম নিলে আবার কিছুটা হাঁটতে পারে।
৬। আক্রান্ত পা ঝিনঝিন বা অবশ ভাব হয়।
৭। পায়ের আঙ্গুল অবশ বা ঝিনঝিন করা।
রোগ নির্ণয় : রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগের ইতিহাস, উপসর্গ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি লাম্বো-সেকরাল স্পাইনের (মেরুদন্ডের নিচের অংশ) এঙ-রে, এমআরআই করার প্রয়োজন পড়ে।
চিকিৎসা : পরিপূর্ণ বিশ্রাম, মাসল রিলাঙান্ট জাতীয় ঔষধ আর সঠিক ফিজিওথেরাপি বা ব্যায়ামের মাধ্যমে রোগী ধীরে ধীরে সুন্থ হয়ে ওঠে। মনে রাখা প্রয়োজন এ জাতীয় রোগে শরীরে রাখার জায়গায় মালিশ করা চলবে না। এতে হিতে বিপরীতের আশঙ্কা বেশি।
পরামর্শ : সামনের দিকে ঝুঁকে ভারি কিছু উঠাবেন না।
শক্ত বিছানায় ঘুমাবেন।
ভ্রমণ বা কাজ করার সময় কোমরে বেল্ট ব্যবহার করবেন।
ব্যথার ঔষধ এবং মাসল রিলাঙ্যান্ট জাতীয় ঔষধ ডাক্তারের নিদের্শ অনুযায়ী সেবন করবেন।
ফিজিওথেরাপিষ্টের নিদের্শিত ব্যায়াম সমূহ করবেন।
উপরের উল্লেখিত ব্যায়ামটি অনুশীলন করবেন।

x