সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর শাহ আমানত চালু

শাহ আমানতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ: পাইলটের দক্ষতায় বাঁচল ১৭১ প্রাণ

আজাদী অনলাইন

বুধবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ১০:৩২ অপরাহ্ণ
422

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণের কারণে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ‍শুরু হয়েছে।

আজ বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টা ২০ মিনিটে থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত রানওয়ে বন্ধ থাকায় এ বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটের তিনটি এবং অভ্যন্তরীণ রুটের তিনটি ফ্লাইটের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিডিনিউজ

বিমানবন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জাহান বলেন, ‘ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি সরিয়ে নেয়ার পর বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে রানওয়ে ক্লিয়ার হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’

এদিকে ইউএস-বাংলার দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অভ বাংলাদেশ-এর প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এম রহমতুল্লাহর নেতৃত্বে এ তদন্ত চলবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঢাকা থেকে ১৬৪ জন যাত্রী এবং ৭ জন ক্রু নিয়ে রওনা হওয়া ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস ১৪১ কক্সবাজারে নামতে না পেরে চট্টগ্রামে এসে জরুরি অবতরণ করে।

স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) জাকারিয়া

নোজ গিয়ার বা সামনের চাকা না খোলায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটির দেড়শ’র বেশি আরোহীর প্রাণ বেঁচেছে বৈমানিকের দক্ষতায়।

মারাত্মক দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকলেও ইউএস-বাংলার বোয়িং ৭৩৭-এইটকিউএইট উড়োজাহাজের বৈমানিক স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) জাকারিয়া দক্ষতার সাথে নোজ গিয়ার ছাড়াই শুধু পেছনের চাকায় ভর করেই অবতরণে সক্ষম হন।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর ইউএস-বাংলার ফ্লাইট থেকে নিরাপদে বের হয়ে আসেন যাত্রীরা

সারোয়ার ই জাহান বলেন, ‘বোয়িং ৭৩৭-এইটকিউএইট উড়োজাহাজটির নোজ গিয়ার অর্থাৎ সামনের চাকা আটকে যাওয়ায় এবং কক্সবাজারে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় পাইলট বিমানটি চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। নোজ গিয়ার না নামিয়েই এখানে নিরাপদে ল্যান্ড করেছে উড়োজাহাজটি। আরোহীরা সবাই নিরাপদে আছেন।‘

তিনি আরো বলেন, ‘নোজ গিয়ার দুইভাবে খোলা যায়-হাইড্রলিক ও ম্যানুয়াল। কোনোটাই কাজ না করায় জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এটা টেকনিক্যাল ল্যান্ডিং। এভাবে সামনের চাকা ছাড়া অবতরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। এটা একটা টেকনিক্যাল ফল্ট। পাইলট অত্যন্ত দক্ষ। তিনি গতি একদম কমিয়ে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছেন বলেই বড় কোনো বিপদ হয়নি।’

জরুরি অবতরণ করা উড়োজাহাজটি রানওয়েতে আটকে থাকায় বেলা ১টা ২০ মিনিটের পর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে না যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

এ সময় রিজেন্ট এয়ারের কলকাতা ফ্লাইট, ইউএস-বাংলার কলকাতা ফ্লাইট এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দোহা ফ্লাইটের যাত্রা বিলম্বিত হয়। অন্যদিকে নভোএয়ারের দুটি এবং ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা বিলম্বিত হয়।

বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে রানওয়ে থেকে বিএস ১৪১ সরিয়ে নেয়ার এক ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে আসা ইউএস-বাংলার আরেকটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণ পর নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট অবতরণ করে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মশিউল হক জানান, তার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ভারতের ফ্লাইট ধরার কথা ছিল। সেটা বাতিল করে তিনি রাত ৯টা ২০মিনিটের ফ্লাইটের টিকেট বুকিং দিয়েছেন। ভারতীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এমওইউ স্বাক্ষরের জন্য তার সেখানে যাওয়ার কথা।

বেসামরিক বিমানপরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন বলেন, ‘ইউএস-বাংলার জরুরি অবতরণের ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এম রহমতুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত এ তদন্ত কমিটিকে সার্বিক বিষয় তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেডের জিএম-মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পাবলিক রিলেশনস মো. কামরুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আজ ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-১৪১ ফ্লাইটটি কক্সবাজার এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পূর্বমূহূর্তে পাইলট টেকনিক্যাল কারণে জরুরি অবতরনের প্রয়োজন অনুভব করেন কিন্তু কক্সবাজার এয়ারপোর্টে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটি অবতরণ করলে ফ্লাইটের সকল যাত্রী, কেবিন ক্রু ও পাইলট সকলে নিরাপদে এয়ারক্রাফট থেকে বের হয়ে আসেন। যাত্রী ও ক্রুসহ বিমানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।

x