সাড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে আগস্টেই ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার

চলছে প্রত্যাবাসন বিরোধী অপপ্রচার, গোপনে ফিরছে কেউ কেউ

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

মঙ্গলবার , ১৩ আগস্ট, ২০১৯ at ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
175

সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের আশ্রয় ক্যাম্প থেকে চলতি আগস্টেই ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার।

গত সপ্তাহে ২১ জন রোহিঙ্গা নিজ উদ্যেগে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রাখাইন ফিরে গেছে বলে খবর পাওয়া যায়।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সরকারের উদ্যোগ বানচাল করতে প্রকাশ্যে প্রত্যাবাসন বিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে কয়েকটি মহল।

গত শনিবার মিয়ানমারের নেপিডোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে মিয়ানমার ৩,৪৫০ জন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর যাচাইকৃত তালিকা হস্তান্তর করেছে করেছে বলে জানা যায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে প্রদান করা হয়েছে।

মিয়ানমারের একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে গত ১০ আগস্ট দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে ৩,৪৫০ জন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর যাচাইকৃত ছাড়পত্র হস্তান্তর করেছে।

এসময় মিয়ানমারের পক্ষ থেকে চলতি আগস্ট মাসেই এসব রোহিঙ্গাদের দুই ব্যচে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা আছে বলেও জানানো হয়।

এদিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অমানবিক নিপীড়নের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম গত প্রায় দুই বছরেও শুরু করা সম্ভব হয়নি।

রোহিঙ্গা ফেরত দেয়া-নেয়া কর্মকান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু রোহিঙ্গা নিজ উদ্যেগে ইতিমধ্যে রাখাইন ফিরে গেছে।

গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) উখিয়া ও টেকনাফের একাধিক আশ্রয় ক্যাম্প থেকে পাঁচ পরিবারের ২১ জন রোহিঙ্গা গোপনে মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নাফ নদী পেরিয়ে রাখাইন ফেরত যাওয়া এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ইমিগ্রেশন পুলিশ, সীমান্ত রক্ষী বিজিপি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রহণ করে। উভয় দেশের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রত্যাবাসন ঘাট নাফ নদীর ওপারের নাগাখুইয়ে অভ্যর্থনা কেন্দ্র হয়ে রোহিঙ্গারা ফিরে যায় বলে জানা যায়।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে গত ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়।

ঢাকা-নেপিডোর মধ্যে সই হওয়া ওই চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার। চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অনেকে রাখাইনে ফেরত যেতে আগ্রহী কিন্তু দেশী-বিদেশী কিছু স্বার্থাম্বেষী মহলের প্ররোচনায় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থীরা প্রকাশ্যে সরকারের উদ্যেগ বানচাল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।উক্ত রোহিঙ্গা চক্রের অপহরণ, গুম, খুন, নির্যাতন, নারীর শ্লীলতাহানি, চাঁদাবাজি সহ গুরুতর অপরাধের মুখে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ নিরাপত্তাহীনতায় নিজ উদ্যেগে রাখাইন ফিরে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিনশনার মো. আবুল কালাম এনডিসি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে যে তালিকা দেয়া আছে সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ছাড়পত্র দিচ্ছে। এটি নিয়মিত দিয়ে থাকে।’ চলতি মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি রয়েছে। স্বউদ্যোগে গত সপ্তাহে কিছু রোহিঙ্গা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত না হলেও রাতের অন্ধকারে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার যাতায়াত রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চৌকিতে কথিত হামলার ধোঁয়া তুলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এরপর হত্যা-ধর্ষণ-নিপীড়ন থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে আট লক্ষের মতো রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশের একাধিক শিবিরে আগে থেকে থাকা ও নতুনভাবে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গারা মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

x