সাড়ে চার বছরেও শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ

সোহেল মারমা

মঙ্গলবার , ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
285

চট্টগ্রামে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩’শ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টিলের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার এবং খাদ্যশস্য পরীক্ষাগার নির্মাণ কাজ সাড়ে চার বছরেও শুরু করতে পারেনি খাদ্য অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদও প্রায় শেষ হতে চলছে। কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। অবশ্য আরও একটি প্রকল্পের অধীনে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় ৫০০ মেট্রিক টনের ৫টি খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রসঙ্গতঃ দেশে খাদ্যের মওজুদ বাড়ানোর জন্য গুদামের সংখ্যা ও ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে জোর দিচ্ছে সরকার। এ জন্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন গুদাম নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কাঠামো নির্মাণের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাংলাদেশ মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রজেক্ট এর আওতায় চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আটটি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খাদ্য অধিদপ্তর। ৬টি চালের এবং দুইটি গমের সংরক্ষণাগার নির্মাণ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামেও একটি আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার (গমের) নির্মাণের কথা রয়েছে। বর্তমানে পতেঙ্গায় অবস্থিত সাইলোর পাশেই স্টিলের এ সাইলোটি নির্মাণ হবার কথা। একই প্রকল্পের অধীনে নগরীর হালিশহরেও একটি খাদ্য শস্য পরীক্ষাগার নির্মাণের কথা রয়েছে।২০১৪ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরেও নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারেনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম বলেন, পতেঙ্গায় একটি মডার্ন ফুড স্টোরেজ ও হালিশহরে একটি খাদ্য শস্য পরীক্ষাগার নির্মাণ করার কথা জানি। কিন্তু বিস্তারিত জানি না। প্রকল্পটি ঢাকা থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে ওই প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন।

তবে গত ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিষয়ক এক আলোচনা সভার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাংকের ঋণে প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে তিনটি প্যাকেজের মধ্যে ১টি প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। ১টির দরপত্র আহবান করা হয়েছে, আরও একটি কাজের দরপত্র আহবান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, বিশ্বব্যাংক প্রথম পর্যায়ে বলেছিল দুই দফায় ১৪টি গুদাম নির্মাণ করতে সহায়তা দেবে। পরে তারা জানায়, আটটির জন্য টাকা দেবে। ফলে বাধ্য হয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিবর্তন করা হয়। এতে সময়ক্ষেপণও হয়। ২০১৪ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও চলতি বছর এপ্রিল মাসে একটি প্যাকেজের জন্য ঠিকাদার মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন ও ফ্রেইম জেভির সাথে চুক্তি হয় । একই প্রকল্পের অধীনে খাদ্যশস্যের মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামসহ ৬টি বিভাগীয় শহরে ৬টি খাদ্য পরীক্ষাগার নির্মাণের লক্ষ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ইতিমধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এদিকে পৃথক আরেকটি প্রকল্পে প্রায় ৫’শ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ১৫৮টি খাদ্য গুদাম নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ২০১৬ সাল কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও পরবর্তীতে চলতি বছর জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু এরপরও প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত হয়নি। তবে প্রকল্প কাজ শেষের পথে আছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক মশিউর রহমান গতকাল আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় ৫০০ মেট্টিকটনের ৫টি গুদাম নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এসব গুদামগুলো শুধু হস্তান্তর করার কাজটা বাকি আছে। তিনি আরও বলেন, এরমধ্যে দেওয়াহাটে ৩টি, বাঁশখালী ও পটিয়ায় ১টি করে ৫০০ মেট্টিকটনের মোট ৫টি গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। তবে রাউজান উপজেলায় নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণের কাজ করা যায়নি।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামে খাদ্য মজুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, আমাদের ফুড ক্রাইসিস একমুখী না। যেমন উত্তরবঙ্গের দিকে ফুড ক্রাইসিস হল, সে সময় ইন্টারন্যাল প্রকিউরম্যান্টগুলো রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগে হয়ে থাকে। তখন চট্টগ্রাম বিভাগ ফাঁকা থাকে। গত বছর চালের সংকট চলাকালীন যে আমদানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তাতে ওইদিকে মোটামুটি স্বাভাবিক হলেও চট্টগ্রামে একেবারেই ফাঁকা ছিল।

খাদ্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জনসংখ্যার সাথে উৎপাদনের যে ফারাক রয়েছে তাতে যেকোন সময় বিপদে পড়ে যাই। একটু এদিকসেদিক হলে আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হয়। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে খাদ্য গুদামগুলোর ক্যাপাসিটি বাড়ানোর দরকার। এজন্য আমরা যে কোন ফাঁকা জায়গা পেলে সেখানে গুদাম নির্মাণ করছি।

x