সাহাবুদ্দিনের বলী খেলার শিরোপা বাদশা-শাহজাহানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
41

চট্টগ্রামের জব্বারের বলী খেলার ঐতিহ্য এখন বিশ্বজোড়া। নগরীতে প্রচলন হয়েছে আরো একটি বলী খেলার। গত বেশ কয়েক বছর ধরে সিআরবির সিরিশ তলায় বৈশাখের প্রথম দিনে আয়োজিত হয়ে আসছে সাহাবুদ্দিনের বলী খেলা। এই বলী খেলার এবারের আসরের নায়ক দুজন। ঠিক যেন কেউ কাহারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান। সিআরবিতে সাহাবুদ্দিনের বলী খেলার এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চকরিয়ার বাদশা বলী এবং কুমিল্লার শাহজাহান বলী । যদিও ফাইনালে শাহজাহান বলী একটি লাইফ লাইন পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ফাইনালের প্রায় ৮ মিনিটের লড়াইয়ে কেউ কাকে একবিন্দু ছাড় দেননি। শুরু থেকেই বাদশা ও শাহজাহান দুজনই দারুন কৌশল অবলম্বন করে খেলে যাচ্ছিলেন। যাতে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন দুজনই। যখনই সুযোগ আসবে তখনই সেটাকে কাজে লাগাবেন। কিন্তু সেটা আর হয়নি। একবারতো ডিসকোয়ালিফাই হয়ে গিয়েছিলেণ কুমিল্লার শাহজাহান বলী । প্রতিপক্ষ চকরিয়ার বাদশা বলীকে মাথা ঠুকে ও পা ধরে মাটিতে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন কুমিল্লার শাহজাহান বলী । রেফারি প্রথমে তাকে ডিসকোয়ালিফাই ঘোষণা করলেও পরে দর্শকদের চাপে আবারও দুজনকে খেলার সুযোগ দেন বিচারকরা। কিন্তু তাতেও নিস্পত্তি হচ্ছিলনা খেলা। ফলে দুজন রাজি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত খেলার প্রধান বিচারক এম এ মালেক দুজনকেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেন।
সাহাবুদ্দিনের বলী খেলার এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক বলী অংশ নেন। যাদের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল বা চ্যালেঞ্জ বাউটে অংশ নেয় ৮জন বলী। বাকিরা বিদায় নেয় প্রথম রাউন্ডে থেকেই। চ্যালেঞ্জ বাউট থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় চারজন। তারা হলেন শফিক বলী, বাদশা বলী, শাহজাহান বলী এবং মো. হোসেন বলী। আর প্রথম সেমিফাইনালে শফিক বলীকে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেয় চকরিয়ার বাদশা বলী । মাত্র তিন মিনিটেই শফিককে পরাভুত করেন বাদশা। অপর সেমিফাইনালে শাহজাহান ও মো. হোসেন যেন কেউ কাউকে ছাড়তে চাইছলনা। প্রায় ১১ মিনিট চলে দুজনের লড়াই। কিন্তু রেফারী শেষ পর্যন্ত ফাউল ধরে কুমিল্লার শাহজাহান বলীকে বিজয়ী ঘোষণা করলে ফাইনালে জায়গা করে নেন তিনি। এবারের আসরে নানা বয়সের বলীরা অংশ নেন। যাদের মধ্যে হাটহাজারীর মো. মফিজ উল্লাহ বলী ও পতেঙ্গার খাজা আহমেদ বলী ছিলেন উল্লেখযোগ্য। এ দুজনের বয়স প্রায় ৭০ এর কাছাকাছি। এ দুজন অবশ্য জব্বারের বলী খেলারও নিয়মিত অতিথি। দুজনই প্রতিবছর আসেন নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিতে। তবে তারা যতটানা জয়ের জন্য খেলেন তার চাইতে বেশি খেলেন দর্শকদের আনন্দ দিতে। পাশাপাশি বেশ কিছু তরুণ বলীও অংশ নেন এবারের আসরে। অনেক শিক্ষিত তরুণও অংশ নেন এই বলী খেলার আসরে। তবে বাংলার ঐতিহ্য এই বলী খেলা দেখতে ভীড় করে বিপুল দর্শক। যদিও খেলা দেখে তাদের মন ভরেনি।

x