সার্ভারে ত্রুটি, শুল্কায়ন ও খালাস বাধাগ্রস্ত

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস

জাহেদুল কবির

বুধবার , ৩ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
59

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সার্ভার ত্রুটির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পণ্যের শুল্কায়ন ও খালাস কার্যক্রম। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বারবার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। ব্যবসায়ীরা জানান, গত চার সপ্তাহ ধরে সার্ভারের এই সমস্যা চলমান আছে। তবে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবারে এটি চরম আকার ধারণ করে। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে তারা আজ ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার একই সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্ভারের সমস্যার কারণে ঠিক সময়ে বন্দর থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হয়। ফলে আমদানিকারকদের প্রতিনিয়ত ডেমারেজ (লোকসান) হচ্ছে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে দেশের সব শুল্ক বন্দরে সংযোগ দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরাও প্রায় সময় সার্ভারে ধীরগতির অভিযোগটি করে থাকেন। বর্তমান সার্ভারটি অনেক পুরনো। নতুন সার্ভার কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সার্ভার সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে বলে জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা। আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে অটোমেশনের যাত্রা শুরু হয়। একসময় অ্যাসাইকুডা প্লাস প্লাস ভার্সন থাকলেও গত ২০১৩ সাল থেকে কাস্টমসে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড পদ্ধতি চালু হয়। এই পদ্ধতিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের প্রায় সবকিছুই অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝে সার্ভারের গতি কমে যাওয়া কিংবা বিকল হয়ে যাওয়ার ফলে আমদানিকারকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কাস্টমস হাউসকে আরো ডিজিটালাইজড করার অংশ হিসেবে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় কাগজের ব্যবহার একদম তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই জায়গায় দুরবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রাব্বানি দৈনিক আজাদীকে বলেন, গত চার সপ্তাহ ধরে সার্ভারের ত্রুটির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সপ্তাহের রোববার-সোমবার এবং মঙ্গলবার সার্ভার মোটামুটি সচল থাকে। বিপত্তি ঘটে বুধবার ও বৃহস্পতিবার এলে। গত চার সপ্তাহ ধরে নিয়ম করে সপ্তাহের এই দুই দিন সার্ভারের গতি কমে যায়। দেখা যায়, একটি বিল এন্ট্রি দাখিল হতে যেখানে দুই সেকেন্ড লাগার কথা, সেখানে ক্ষেত্র বিশেষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিয়েছে। আবার গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার এক প্রকার কাজই হয়নি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনামতে, বর্তমানে কাস্টমস হাউস সপ্তাহের সাত দিন খোলা রাখা হলেও সাধারণত ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার তেমন কাজ হয় না। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য বুধ ও বৃহস্পতিবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই দিনগুলোতে অন্য দিনগুলোর তুলনায় কাজ হয় মাত্র ১০ ভাগের এক ভাগ। তাই আমাদের আশঙ্কা, আগামীকাল (আজ) বুধবারও সার্ভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরো বলেন, সার্ভারের সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করতে পারে এমন দক্ষ কেউ আবার চট্টগ্রাম কাস্টমসে নেই। যারা আছেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা অনেকে সময় বিটিসিএলের ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যার কথা বলেন। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের শুল্কায়ন করতে পারেন না।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান দৈনিক আজাদীকে বলেন, বুধ ও বৃহস্পতিবারের সাথে সার্ভারের ত্রুটি দেখা দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মূল বিষয় হচ্ছে, আমাদের এই সার্ভারটি অনেক পুরাতন। প্রযুক্তিগত কারণে এটি কিছুটা জটিল। অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এনবিআরে শিগগিরই আরো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন সার্ভার স্থাপন করা হবে। এটি স্থাপিত হলে তখন যে কাজ করতে এখন ১০ ঘণ্টা লাগে তা এক ঘণ্টায় করা যাবে। কাজের গতিও বহু গুণ বেড়ে যাবে। তবে গত বুধবার সার্ভারে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। কারণ হচ্ছে, সার্ভারের অকশন মডিউল চালু করলে সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। বিকেলে সার্ভার মেইনটেনেন্স শেষে আমরা রাত ১২ টার আগ পর্যন্ত সার্ভার চালু রাখি।

x