সার্কিট বেঞ্চ নয়, চট্টগ্রামে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের দাবি

ইউনিয়ন পরিক্রমা অনুষ্ঠান না বিজ্ঞাপন বোঝা দায়

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
80

৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় প্রচারিত হয় আইন ও অধিকার। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নিয়মিত এ অনুষ্ঠানটিতে এবার আলোচনার বিষয় ছিল চট্টগ্রামে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বেশ আলোচিত। সংবাদপত্রে এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন, সংবাদ এমনকি চট্টগ্রামে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের দাবিতে চলে আসা আন্দোলনের খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়টিকে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। যার ফলে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও চট্টগ্রামে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপিত হয়নি। অ্যাডভোকেট মিলি চৌধুরীর উপস্থাপনায় আলোচনা পর্বে অতিথি ছিলেন, সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল হাশেম, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক অঞ্জন শেখর দাস ও তরুণ আইনজীবী বিধান আচার্য। সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল হাশেম চট্টগ্রামে সার্কিট বেঞ্চের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এই দাবিতে আন্দোলন চলে আসছে।
সংবিধানেও লেখা আছে আইনের শাসন বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন করা যাবে। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে এ বিষয়ে আন্দোলন চলে আসলেও কোনো সরকারই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেননি। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত তাও বাস্তবায়িত হয়নি। এখন আর সার্কিট বেঞ্চ নয়, হাইকোর্টেও বেঞ্চ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়াই প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন আবুল হাশেম।
চিটাগাং চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, চট্টগ্রামকে আমরা বাণিজ্যিক রাজধানী বলি। কিন্তু আদতে এর কোনো কার্যক্রম নেই। আমদানি-রপ্তানির ৯২ ভাগ চট্টগ্রাম থেকে হয় অথচ এখানে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় নেই, কোনো ব্যাংকের এমডি ডিএমডি এখানে অফিস করেন না। ফলে বাণিজ্যিক রাজধানীর সুবিধা ভোগ করার কোনো সুযোগ নেই। অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সার্কিট বেঞ্চ না থাকায় নানা ধরণের জটিলতা তৈরি হয় ব্যবসায়ীদের, পেনাল্টির লক্ষ লক্ষ ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে, এতে করে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন না, দেশের অর্থনৈতিক খাতও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। চট্টগ্রামে হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চ না থাকায় তরুণ আইনজীবীদের প্র্যাকটিস করতে না পারার আক্ষেপও উঠে আসে আলোচনায়।
বিটিভি চট্টগ্রামের আরেকটি নিয়মিত অনুষ্ঠান ইউনিয়ন পরিক্রমা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিচিতি তুলে ধরা হয় এ অনুষ্ঠানে। এবারের পর্বে আনোয়ারা উপজেলার ৭নং সদর ইউনিয়নের পরিচিতি তুলে ধরা হয়। মূলত সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠান এটি। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বাররা নিজেদের গুণগান গাইতেই ব্যস্ত ছিলেন। ২০ মিনিটের অনুষ্ঠানে ৮/১০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তারা শুধু উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন কিন্তু এসব উন্নয়নের সুবিধাভোগি কারো কথা তুলে ধরা হয়নি। এ অনুষ্ঠানটিকে অনুষ্ঠান না বলে বিজ্ঞাপনও বলা যেতে পারে। একটা টিম ইউনিয়ন পরিক্রমা করবেন, কিন্তু সেই ইউনিয়ন ঘুরে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন না, সেখানকার কোনো সমস্যা নেই, শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন -এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন। আমিনুল হক শাহীনের উপস্থাপনায় সাক্ষাৎকার দেন ইউপি চেয়ারম্যান অসীম কুমার দেবসহ আরো অনেকেই। নুরুল আজম পবন আর হারেছ আহমেদ ভুঁইয়ার প্রযোজনায় প্রচারিত অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনার মান আর উপস্থাপকের গেটআপ নিয়ে কথা না বলাই শ্রেয়। এটা প্রযোজকের রুচির ব্যাপার। তবে সম্পাদনা নিয়ে কথা বলাই যায়। উপরের দুটি অনুষ্ঠানই ধারণ করা হয় ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগে। ফলে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান, প্রধানমন্ত্রীকে আবার নির্বাচিত করার আহবানের অংশগুলো বাদ দেয়া যেত, কারণ অনুষ্ঠান দুটো প্রচারের সময় সরকার গঠনও হয়ে গেছে। এ বিষয়টা দিয়েই কর্তৃপক্ষ সম্পাদনার মান নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন করতে পারেন।
পুরোনো সময়ের জনপ্রিয় গান নিয়ে প্রচারিত হয় স্বর্ণ যুগের গান। ছোটখাটো কিছু অসঙ্গতি বাদ দিলে বেশ ভালোই হয়েছে অনুষ্ঠানটি। হারিয়ে যাওয়া দিনের গান দর্শকের হৃদয়কে মোহিত করে নিঃসন্দেহে।
মাঝখানে পুনপ্রচার অনুষ্ঠান আর ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রচারের সংখ্যা কমেছিল। সেটা এখন আবার বেড়েছে। গত বুধবার প্রচারিত পরিবেশ বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রকৃতি ও জীবন চারদিন না যেতেই সোমবারে আবার প্রচার করা হয়। এটি একটি মাত্র উদাহরণ। এরকম আরো বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান একাধিকবার প্রচারিত হতে দেখা যায়। ঢাকা কেন্দ্রের বিজ্ঞাপন, গানের অনুষ্ঠানের প্রচারও আগের চেয়ে বেড়েছে। এতে করে মাত্র ছয়ঘণ্টার মধ্যে বিটিভির বাংলা, ইংরেজি সংবাদ, বিজ্ঞাপন, আর ঢাকা কেন্দ্রের পুরোনো অনুষ্ঠান প্রচারের পর নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচারের সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। বিষয়টি ভাবতে হবে কর্তৃপক্ষকে। নতুন অনুষ্ঠান প্রচার হলে দর্শকরাই উপকৃত হয়, কেন্দ্রের মানও বাড়ে।

x