সারভাইক্যাল পেইন

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ
281

নেইক বা সারভাইক্যাল পেইন আমাদের জীবনে এক কষ্টদায়ক ব্যথার রোগ। বেশিরভাগ মানুষই জীবনে কোনো না কোনো সময় ঘাড় ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন। ঘাড়ের সমস্যা পুরুষের তুলনায় নারীদের বেশি হয়। তবে ঘাড় ব্যথায় আক্রান্ত রোগীরা আজকাল প্রায়ই তরুণ-তরুণীরা চিকিৎসকের কাছে যান ঘাড় ব্যথা নিয়ে। এক সময় আমরা দেখতাম শুধুমাত্র বয়স্করাই এই রোগে ভুগতেন। কিন্তু বর্তমানে এখন উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের বেশি হচ্ছে দেখা যায়। তাঁদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৮-৩০ বছরের মধ্যে, এদের উপসর্গ হলো ঘাড়ে ব্যথা। ব্যথার কারণে ঘাড় ঘোরাতে পারেন না বেশিরভাগ মানুষই। আসলে এই ব্যথার উপত্তি ঘাড়ের হাড় থেকে, মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশকে মেডিক্যাল ভাষায় সারভাইক্যাল স্পাইন বলে। মেরুদণ্ডের ওপরের সাতটি কশেরুকা ও দুই কশেরুকার মাঝখানের ডিস্ক, পেশি ও লিগামেন্ট নিয়ে সারভাইক্যাল স্পাইন বা ঘাড় গঠিত। মাথার হাড় (স্কাল) থেকে মেরুদন্ডের সপ্তম কশেরুকা পর্যন্ত ঘাড় বিস্তৃত। আট জোড়া স্পাইন নার্ভ (স্নায়ু) ঘাড়, কাঁধ, বাহু, নিচু বাহু এবং হাত ও আঙ্গুলের চামড়ার অনুভূতি ও পেশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এমনকি ব্যথা পিঠের উপরের অংশ বা কারো কারো হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে হাত ঝিম ঝিম বা অবশ অবশ অনুভূত হয় এবং বেশিক্ষণ ধরে কোনো কিছু ধরে রাখতে পারে না। অর্থাৎ হাতে শক্তি কম পান।

কি কি কারণে ঘাড়ে
ব্যথা হতে পারে?

১। দীর্ঘ সময় চেয়ারে বসে কাজ করেন এমন পেশার যে-কেউ (চাকুরীজীবী, ট্রেইলার, কম্পিউটার ম্যান, ব্যবসায়ী)।
২। আবার দীর্ঘ সময় সামনে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে কাজ করেন এমন পেশার।
৩। গাড়ি চালক, ছাত্র-ছাত্রী যারা দীর্ঘসময় মাথা নিচুঁ করে পড়াশুনা করেন।
৪। ঘাড়ের ঝাঁকুনি হয় এমন পেশায় যারা থাকেন।
৫। নৃর্ত্য শিল্পী, মোটরসাইকেল বা সাইকেল চলাচল করে এমন পেশা।
৬। ঘাড়ের আঘাতের ইতিহাস আছে এমন।
৭। মাথা নিচু করে মোবাইল ব্যবহার করলে।
৮। অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে নিদ্রা বা অনিদ্রা।
৯। সামনে বা পাশে কাৎ হয়ে ভারী কিছু না উঠানো।
১০। ঘুমের সময় উঁচু বা শক্ত বালিশ ব্যবহার করলে।
১১। গৃহিনীরা মাথা নিচু করে কাজ করলে।
১২। বিউটি পার্লারে বা সেলুনে মাথা-ঘাড় ম্যাসাজ বা ফুটালে।
১৩। জিমে কোন ভুল ব্যায়াম, সঠিক ভঙ্গিও কারণে বা উল্টোপাল্টা ব্যায়ামের কারণে।

x