সাবেক অধ্যক্ষের বিদায়, নতুন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে বরণ

সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ

বৃহস্পতিবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
52

জাতীয় পাঠ্যক্রমের ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যক্ষের বিদায় এবং নতুন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে বরণ করে নেয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে স্কুল মিলনায়তনে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিদায়ী অধ্যক্ষ হলেন এ জে এম শহীদুল্লাহ। এছাড়া বরণ করে নেয়া হয়েছে নতুন অধ্যক্ষ এএইচ হারুণ এবং উপাধ্যক্ষ সেলিনা ইসলামকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাউথপয়েন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন বলেন, শিক্ষকতা অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পেশা। সম্মান ও টাকা পয়সা কখনো একসাথে পাওয়া যায় না। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। তাই সমাজের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাও বেশি। যারা শিক্ষকতা করে টাকা পয়সা আয়ের কথা ভাবছেন, আমি মনে করি এই পেশা তাদের জন্য নয়। আপনি অন্য কোনো পেশাতে চলে যেতে পারেন। সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজকে আমরা সবাই মিলে একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষকরা যদি এই প্রতিষ্ঠানকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারেন, আমরা আরো বেশি বিনিয়োগে যাবো। প্রতিটি বিনিয়োগের পেছনের অনুপ্রেরণা থাকে। আমি মনে করি, আপনাদের প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়ানো উচিত। এই স্কুল যদি চট্টগ্রামের অন্যদের চেয়ে ভালো করে তাহলে আপনারা গর্ব করে বলতে পারবেন, আমি সাউথপয়েন্টে শিক্ষকতা করি। এছাড়া গত বছর যেই পরিমাণ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এ বছর যেন ২০ শতাংশ বেশি ভর্তি হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সব কিছু আমরা করবো।
অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, শিক্ষকতা পেশায় অর্থকড়ি পাওয়া যায় না। শিক্ষকদের চাওয়া পাওয়াও বেশি থাকে না। যে স্বপ্ন নিয়ে অধ্যাপক ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন আপনাদেরকে তাঁর সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যেতে হবে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নির্ভর করে শিক্ষকদের ওপর। শিক্ষক আন্তরিক না হলে কখনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগোবে না।
অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আজাদীর বার্তা সম্পাদক এ কে এম জহুরুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী সাউথপয়েন্টে অনিবার্য পুরুষ ছিলেন। তাঁর শ্রম ও প্রজ্ঞা দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পর অনেকে বলাবলি করেছেন, সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেই চিন্তা থেকে কর্তৃপক্ষ আজ একজন নতুন অধ্যক্ষ ও আরেকজন উপাধ্যক্ষকে নিয়োগ দিয়েছে। আমি আশা করি নতুন এই দু’জন সাউথপয়েন্ট চট্টগ্রামের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। এছাড়া বিদায়ী অধ্যক্ষের প্রতি আমার শুভকামনা রইলো।
স্বাগত বক্তব্যে স্কুলের নির্বাহী পরিচালক নার্গিস আকতার বলেন, সাউথ পয়েন্ট স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে। সেই থেকে আজ অবধি এই স্কুল অত্যন্ত সুনামের সাথে পাঠদান করে আসছে। সবগুলো পাবলিক পরীক্ষায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট খুব ভালো। আমরা শিক্ষক বাছাইয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করি না। যারা প্রকৃত মেধাবী তাদেরই এখানে শিক্ষক হিসেবে নেয়া হয়। যার ফলও হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে। সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবিষ্যতে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করছি।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী অধ্যক্ষ এজেএম শহীদুল্লাহ বলেন, ২০১০ সালে আমি সাউথপয়েন্টে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিই। সেই হিসেবে প্রায় ৮ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কোনো কিছুর সাথে আপোষ করিনি। সাউথপয়েন্টের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত অধ্যাপক ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী আমাকে বলেছিলেন-আপনার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আপনি কাজ চালিয়ে যান। তাঁর নির্দেশনা মেনেই আমি সততার সাথে কাজ করে গেছি। আমি প্রতিষ্ঠানে এখন অফিশিয়ালি না থাকলেও যে কোনো প্রয়োজনে আপনাদের পাশে থাকবো।
নতুন অধ্যক্ষ এএইচএম হারুণ বলেন, আমি দীর্ঘ সময় ক্যাডেট কলেজে শিক্ষকতা করেছি। তাই বাইরের স্কুলগুলোর ওপর আমার খুব বেশি জ্ঞান নেই। এখনো ক্যাডেট কলেজের শিক্ষাটাই আমার ভেতরে আছে। আপনারা জানেন, ক্যাডেট কলেজ মানেই হচ্ছে-নিয়ম শৃঙ্খলা। আমি সাউথপয়েন্ট কর্তৃপক্ষকে কথা দিয়েছি- সাউথপয়েন্টকে আমি শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো বাংলাদেশে অন্যতম একটি সেরা স্কুলে পরিণত করবো। সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন-সাউথপয়েন্ট ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান গুলজার বেগম, নতুন উপাধ্যক্ষ সেলিনা আকতার প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

x