সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমির মিশন বাংলাদেশের নারীদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
20

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েদের খুব বেশি সাফল্য নেই। ভারতই এখানে সেরা। তবে এবারে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু করছে বাংলাদেশের নারীরা সেমিফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে। আর শুরুতেই সে দলটির সামনে শামসুননাহার, মারিয়া, মনিকারা যে দলটির বিপক্ষে রয়েছে সবচেয়ে বড় জয়ের অভিজ্ঞতা। ২০১০ সালের প্রথম আসরে কক্সবাজারে গ্রুপ পর্বে ভুটানের বিপক্ষে ৯-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। নেপালের বিরাটনগরে এবার সেই ভুটানকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য আজ বাংলাদেশের। বিরাটনগরের রাংসালা স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হবে গত আসরের রানার্সআপ বাংলাদেশ। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমি-ফাইনালে ওঠার কাজ কিছুটা সহজ করে দিয়েছে স্বাগতিক নেপাল। তিন দলের গ্রুপে তাই শুরুটা জয় দিয়ে হলে শেষ চারের টিকেট নিশ্চিত হয়ে যাবে গোলাম রব্বানী ছোটনের দলের।
আর সে লক্ষ্য পূরণের জন্য গতকাল বুধবার সকালে দলবল নিয়ে স্টেডিয়ামের সবুজ আঙিনাতে শেষ মুহূর্তের অনুশীলন সেরেছে বাংলাদেশ। সতীর্থদের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলন করতে পারেননি কেবল কৃষ্ণা রানী সরকার। দিন পাঁচেক আগে পাওয়া হাঁটুর হালকা ইনজুরির কারণে দল ছুট হয়ে হালকা অনুশীলন সারতে হয়েছে এই ফরোয়ার্ডকে। কৃষ্ণা ছাড়া বাকিদের নিয়ে দুর্ভাবনা নেই রব্বানীর। রূপনা চাকমা, আঁখি খাতুন, মাসুরা পারভীন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, মিশরাত জাহান মৌসুমী, সাবিনা খাতুন, সানজিদা আক্তার ও সিরাত জাহান স্বপ্নাকে নিয়ে আলাদা অনুশীলন করে কোচ যেন ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন ভুটান ম্যাচের সম্ভাব্য একাদশের।
অবশ্য কৃষ্ণার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষার কথাও বললেন রব্বানী। কৃষ্ণাকে হালকা স্ট্রেচিং করানো হয়েছে। এখনও ২৪ ঘণ্টা সময় আছে। তারপর ওকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিব।
যদিও বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানীর চিন্তার আরেকটি জায়গাও আছে। সেটা হচ্ছে অসমান মাঠ। ঘাসের মাঠে খেলা হবে দেখে দেশে বাফুফের টার্ফ ছেড়ে মেয়েদের বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নিয়েছিলেন কোচ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোচ জানালেন পরিস্থিতি যাই হোক, লড়তে হবে পেশাদারদের মতো। টুর্নামেন্ট ফিক্সড হয়ে গেছে। এখন আমাদের এ মাঠেই খেলতে হবে। এ নিয়ে আর বাড়তি চিন্তা করার কিছু নেই। মেয়েরা পেশাদার খেলোয়াড়। এ বছর তারা অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। অভিজ্ঞতা হয়েছে। তারা যেহেতু পেশাদার খেলোয়াড়, যখন যে অবস্থাই থাকবে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।
বাংলাদেশ কোচ বলেন ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই জানি কাল আমরা জিতলে সেমি-ফাইনালে উঠব।
এ জন্য আমাদের মূল ফোকাস কালকের ম্যাচ নিয়ে। শতভাগ দেওয়ার জন্যই আমরা মাঠে নামব। শুধু জয় নয়, সেমি-ফাইনালে ভারত বাধা এড়াতে বড় ব্যবধানের জয়ও দরকার বাংলাদেশের। ভুটানকে চার গোলের ব্যবধানে হারাতে পারলে নেপালের সঙ্গে পরের ম্যাচে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেরা চারে অন্য গ্রুপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন শিরোপাধারী ভারতকে এড়াতে পারবে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ এশিয়ান মেয়েদের ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় ভুটানের কাছে কখনই হারেনি বাংলাদেশ। কক্সবাজারের সেই বিশাল জয়ের পর ২০১২ সালে কলম্বোর আসরে দল জিতেছিল ১-০ তে। প্রায় সাত বছর পর ভুটানকে সামনে পেয়ে রব্বানী যাচ্ছেন না হিসেবের মারপ্যাচে। সব সমীকরণ মেলাতে মেয়েদেরকে শুধু নিজেদের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ তার।
ভুটানের প্রথম ম্যাচ দেখেছি। মেয়েদেরও দেখিয়েছি। আসলে আমাদের লক্ষ্য নিজেদের খেলায় থাকা, নিজেদের পারফরম্যান্স করা। আশা করি, সুযোগ আসবে এবং সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আমরা জিতব।

x