সাধ্যের মধ্যে সখের ফ্ল্যাট

সবুর শুভ

রবিবার , ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
2654

সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কম দামে রোজগারের টাকা দিয়ে প্লট বা ফ্ল্যাট কিনতে ক্রেতাদের সবসময় আগ্রহ দেখা যায়। আবার সেই সঙ্গে যদি কিস্তি সুবিধা থাকে তবেতো পোয়াবারো। এ কথা বলতেই হয় মন্দা কাটিয়ে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে আবাসন খাতে। কয়েক বছর ধরে অবিক্রিত থাকা ফ্ল্যাটের বিক্রিও বেড়েছে। ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমে আসায় ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হচ্ছে ক্রেতারা। এর আগে গৃহঋণে ব্যাংক সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা স্থবির ছিল ফ্ল্যাট-প্লট বেচাকেনা। তবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে বাজার পরিস্থিতি। ফলে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরাও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছেন। এ জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ মেয়াদে ও এক অংকের সুদে গৃহঋণ, ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ কমানো ও বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চান আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা।
আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা জানান, ২০১২ সাল থেকে আবাসন ব্যবসার মন্দার শুরু হয়। ২০১৪ সালের হিসাবে, চট্টগ্রামে রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ১০ হাজার ফ্ল্যাটের মধ্যে অবিক্রিত পড়েছিল প্রায় পাঁচহাজার ফ্ল্যাট। সে সময় অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের হাতে ছিল এ বাজার। বিশেষ করে মন্দা শুরু হওয়ার পর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ গ্রাহকদের প্লট বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে সটকে পড়েন। মন্দার কারণে বেচাকেনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগ আটকে যায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদেরও। তখন থেকে আবাসন খাতে নতুন প্রকল্পের সংখ্যা কমে আসে। চলমান প্রকল্পগুলোয় গ্রাহকের সাড়া কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শেষ করার সময় পিছিয়ে দেয়। এসবের ফলে গ্রাহকদের আস্থায় ভাটা পড়ে। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও ছিল এ অবস্থা। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যবসায়ীরা গত কয়েক বছর বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে ঝুঁকে পড়েন। তবে মন্দার ধাক্কা সত্বেও যেসব প্রতিষ্ঠান বাজারে টিকে ছিল, তারাই এখন গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখেছে।
কয়েক বছরের মন্দার পর ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে স্থবিরতা কাটতে শুরু করে আবাসন খাতে। গত চার বছরে কয়েক হাজার অবিক্রিত ফ্ল্যাট বিক্রি হয়েছে। ফ্ল্যাটের দামও যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। নতুন বিনিয়োগের জন্য এখন জমি খুঁজছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। অবিক্রিত ফ্ল্যাটের বিক্রি বাড়ায় খুশি তারা। ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও আস্থা অর্জনে জোর দিচ্ছে অধিকাংশ আবাসন প্রতিষ্ঠান।
শাহীন খান ও রোজিনা বেগম দম্পতির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নগরীতে একটি স্থায়ী আবাসের। দাম সাধ্যের মধ্যে থাকলেও এলাকা পছন্দ হচ্ছে না। সাধ ও সাধ্যের এ টানাপড়েনের মধ্যেও রেডি ফ্ল্যাট কিনতে চান তারা। শুধু এ দম্পতি নন, বেশিরভাগ মানুষ এখন রেডি ফ্ল্যাট খুঁজছে। বেশি দিন অপেক্ষার বদলে এখনই বসবাস করা যাবে- এমন ফ্ল্যাটের দিকেই ঝোঁক বেশি তাদের। প্লট কিনে বাড়ি বানানোর ঝক্কি এড়াতেই ব্যস্ত চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীরা রেডি ফ্ল্যাটে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
চান্দগাঁওয়ের আরিফুল ইসলাম। থাকেন ভাড়া বাসায়। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা নিজের একটা ফ্ল্যাট কেনার। কিন্তু সে সুযোগ হয়নি। এবার ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা হওয়ায় ফ্ল্যাটের খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছেন। আরিফ বলেন, সাধ আছে কিন্তু বড় ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য নেই। তাই খোঁজ খবর করছি। মধ্যম আকারের একটা ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছে আছে।
জিয়াউদ্দিন আহমেদ আগ্রাবাদ থাকেন। তিনি বলেন, আমাদের পরিবার ছোট, আয়ও সীমাবদ্ধ। তাই ছোট ও কম দামের একটি ফ্ল্যাট খুঁজছি।

x