সাত হাজার শ্রমিকের মানবেতর জীবনযাপন

পাঁচ পাটকলে ১০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ
26

সীতাকুণ্ডের বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচ পাটকলের অন্তত ৭ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী মজুরি ও বেতন পাচ্ছেন না। দেড় থেকে তিন মাস পর্যন্ত বেতন ও মজুরি বকেয়া রয়েছে। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০কোটি টাকা। পাওনা আদায়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এতে প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব কারখানার শ্রমিকরা বেতন ও মজুরি বকেয়া পাওনা আদায়ে দাবিতে ইতিমধ্যে কয়েকদফা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েও কোন সাড়া পাচ্ছে না।
সিবিএ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসির) নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি জুট মিল রয়েছে। হাফিজ জুল মিলের তিন হাজার শ্রমিকের ৫ কোটি ২০লাখ টাকা, গুল আহমদ জুট মিলের ১৭০০ শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বকেয়া পড়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, এমএম জুট মিলের ৩০০ শ্রমিক-কর্মচারীর ৫ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গালফ্রা হাবিব লি. এর ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আর আর টেক্সটাইলের সহস্রাধিক শ্রমিকের পিএফ-গ্র্যাচুইটি বকেয়া পড়েছে।
এসব কারখানার শ্রমিক ও সিবিএ নেতারা জানান, পাটকলগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মিলগুলো তাঁদের শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন ও মজুরি দিচ্ছে না। এভাবে প্রতিটি মিলেই শ্রমিকদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকায় শ্রমিকরা চরম দুর্দিন পার করছেন।
বার আউলিয়া হাফিজ জুট মিল সিবিএ সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম জানান, বর্তমানে হাফিজ জুট মিলের সাড়ে তিন হাজার স্থায়ী-অস্থায়ী শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছয় সপ্তাহের বেতন বকেয়া পড়েছে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া ৬-৭ বছর কোনো শ্রমিক পিএফ-গ্র্যাচুইটিও পাচ্ছেন না। বাস্তবায়ন হচ্ছে না মজুরি কমিশনও।
ইতোমধ্যে শ্রমিকদের ৮সপ্তাহের বকেয়া বেতন জমে গেছে। কর্মকর্তাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এখানে নিদারুন কষ্টে দিন কাটছে শ্রমিকদের। হাফিজ জুট মিলসকে ঘিরে কলোনী এলাকায় প্রায় ১৩৭টি বিভিন্ন দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিলে বেতন না দেয়ায় দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
গুল আহমদ জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তাহের জানান, ‘আমাদের পাঁচ মাসের মজুরি, কর্মকর্তাদের বেতন, অনেক শ্রমিকের পিএফ কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। বহু দেন দরবার করেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে বিভিন্ন মিলে আন্দোলন চলছে। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। ’
সিবিএ নেতারা বলেন, এখানে সব শ্রমিক প্রতিদিনের বেতনের ওপর নির্ভরশীল। তাঁরা দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকা বা এর চেয়েও কম মজুরি পান। মাসের পর মাস এই টাকাও না পাওয়ায় তাঁরা মুদি দোকানের বিল দিতে পারছেন না। তাই দোকানগুলোও আর বকেয়ায় কোন পণ্য দিচ্ছে না। একারণে হাজার হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

x