সাত বছরে সাড়ে ৬ লাখ এমআরপি পাসপোর্ট

পাঁচলাইশ অফিসের রাজস্ব আয় ১৭৪ কোটি টাকা

সবুর শুভ

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:০০ পূর্বাহ্ণ
20

চট্টগ্রামের ৭ উপজেলা ও নগরীর ৬ থানার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষের হাতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)। পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে গত সাত বছরে ইস্যূ করা এসব পাসপোর্ট থেকে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা হয়েছে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা। সারাদেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ইস্যু থেকে ৮ বছরে সরকারের রাজস্ব ভান্ডারে যোগ হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উক্ত ১৭৪ কোটি টাকা উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসাথে এমআরপি পাসপোর্টধারী সাড়ে ৬ লাখ মানুষের বিদেশযাত্রা স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হয়েছে। এঅবস্থায় আগামী জানুয়ারি থেকে এমআরপি পাসপোর্টের পাশাপাশি ইপাসপোর্ট যুগে যুক্ত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের মানুষ।

ম্যানুয়েল পাসপোর্টের তুলনায় এমআরপিতে হয়রানি কমেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। যেটুকু আছে তা পুলিশ ভ্যারিফিকেশনে। ইপাসপোর্টের বেলায় আরো হয়রানি কমবে। এতে ঝামেলামুক্ত পাসপোর্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা জানান, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালী এবং নগরীর কোতোয়ালি, কর্ণফুলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও চকবাজার (পাচঁলাইশ ও কোতোয়ালির অংশ) এলাকার ৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯ জন মানুষের হাতে রয়েছে পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে ইস্যু করা পাসপোর্ট। যাদের বড় অংশ প্রবাসী।

জানা গেছে, দেশে ২০১০ সালের এপ্রিলে এমআরপি পাসপোর্ট প্রদান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ৩ মে পাঁচলাইশ অফিস থেকে শুরু হয় এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু। গত ৩০ জুন পর্যন্ত এখান থেকে ইস্যু করা উল্লেখিত পাসপোর্ট থেকে সরকারের রাজস্ব ভান্ডারে যোগ হয়েছে ১৭৩ কোটি ৯৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫১ টাকা। এর মধ্যে পাসপোর্টের আবেদন পড়েছিল ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৩টি। আর ইস্যু করা হয়েছে ৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পাসপোর্ট।

সারাদেশে এমআরপি পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর ৮ বছরে ইস্যূ হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৯টি। দেশের মোট ৬৯ টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এবং বিভাগীয় ভিসা ও পাসপোর্ট অফিস থেকে এ সংখ্যক এমআরপি পাসপোর্ট বই ইস্যু করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এমআরপি পাসপোর্ট প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছিল সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট হচ্ছে এমন একটি পাসপোর্ট, যাতে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জলছাপের মাধ্যমে ছবির নিচে লুক্বায়িত থাকে। ২০১০ সালে ইমিগ্রেশন ও পাসর্পোট অধিদপ্তরে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (আই সি এ ও) এর গাইডলাইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। সেই থেকে এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু ও বিতরণ চলছে। এদিকে ১১৯তম দেশ হিসেবে সম্প্রতি ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (পাসপোর্ট) যুগে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। জি টু জি ভিত্তিতে জার্মানির ভেরিডোস জিএমবিএইচ’র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দেশে ইপাসপোর্ট চালুর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকার এ চুক্তি সম্পাদন করেছে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ ১০ বছর। সামনের জানুয়ারি থেকে ইপাসপোর্ট বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পাচঁলাইশ পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা। এদিকে এমআরপি ও ইপাসপোর্ট সম্পর্কে বলতে গিয়ে মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা জানান, ম্যানুয়েল পাসেেপার্টে প্রতিটি পদে পদে ঝামেলা ছিল। এমআরপি পাসপোর্ট ব্যবস্থা অনেক স্বচ্ছ ও ঝামেলাহীন। পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ ভ্যারিফিকেশনে এখন মূল ঝামেলাটা হয়।

x