সাত বছরে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

সবুর শুভ

বৃহস্পতিবার , ১৮ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ
718

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় এবার রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে পাসের হার কিছুটা কমেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৬০ জন পরীক্ষার্থী। গত ৭ বছরে এটা সর্বোচ্চ। গতবারের তুলনায় একলাফে জিপিএ-৫ বেড়েছে ১ হাজার ২৪৭। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬১৩।
এবার জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২ হাজার ২৫৮ জন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে, ৪৭৩ জন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবং ১২৯ জন মানবিক বিভাগ থেকে। শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ৯৯ হাজার ৭৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও অংশ নেয় ৯৮ হাজার ৯২৬ জন পরীক্ষার্থী। পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। গত বছর পাস করেছিল ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ফলে পাসের হার কমেছে দশমিক ৫৪ শতাংশ। তবে এবছর ফেল করেছে ৩৭ দশমিক ৮১ শতাংশ শিক্ষার্থী। গতবারের ফেল করা শিক্ষার্থী ছিল ৩৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। এক্ষেত্রে ফেলের হার বেড়েছে দশমিক ৫৪ শতাংশ।
২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ। এটা ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ছিল। তবে সেই তুলনায় ২০১৮ সালের ফলাফলে পাসের হার বেড়েছিল ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১৭ সালের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই কমেছিল। ২০১৮ সালে সামান্য হলেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছিল।
তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ২০১৫ সালে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দু’টোই কমেছিল। ২০১৬ সালে আবার দু’টোই বেড়েছিল। ২০১৭ সালে দু’টোই কমেছিল। গতবার সামান্য বেড়েছিল দুইক্ষেত্রে। চট্টগ্রামে গতবার জিপিএ-৫ পায় মোট এক হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৩৯১ জন। এবারের ফলাফলে গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৬০ জিপিএ-৫ আসল।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে গতবারের চেয়ে পাসের হার এবার সামান্য কমলেও সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক জিপিএ-৫ প্রাপ্তি মানসম্মত শিক্ষার বিষয়টিরই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু এ ফলাফল সন্তোষজনক কিংবা আশানুরূপ নয়। এটা মন ভাল হওয়ার মতো ফলাফল নয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানান, পাসের হার গতবছরের চেয়ে সামান্য কমলেও আমরা জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে অনেক এগিয়ে গেছি। এটা শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকেই ইঙ্গিত করে।
গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডসহ সারাদেশের শিক্ষাবোর্ডগুলোতে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বোর্ড কার্যালয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল উন্মুক্ত করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর শওকত আলম, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক, উপ-পরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) নারায়ণ চন্দ্র নাথ ও সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানসহ অন্যান্যরা। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে সরবরাহ করা ফলাফলে দেখা গেছে, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাস করা মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬১ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র পাস করেছে ২৯ হাজার ৯ জন। আর ছাত্রী পাস করেছে ৩২ হাজার ৫১৪ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ পাসের হারের মধ্যে ছাত্রদের হার ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাসের হার ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এবারের পরীক্ষায় মোট ৯৯ হাজার ৭৯৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শেষতক অংশ গ্রহণ করে ৯৮ হাজার ৯২৬ জন।
মোট জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ৮৬০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৫৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ২৪২ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ১৬ জন। এ বিভাগ থেকে ১২ হাজার ৬৩০ জন ছাত্র এবং ৯ হাজার ৯৭১ জন ছাত্রী মিলে মোট ২২ হাজার ৬০১ শিক্ষার্থী এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এ বিভাগে পাসের হার ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর মেয়েদের পাসের হার ৮২ দশমিক ৫২ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাস করেছে মোট ১৮ হাজার ১০১ জন।
মানবিক বিভাগ থেকে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৩ ও ছাত্রী সংখ্যা ৭৬ জন। এ বিভাগ থেকে অংশ নেয়া মোট ৩৭ হাজার ৫৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রদের সংখ্যা হচ্ছে ১৫ হাজার ২৮০ ও ছাত্রীদের সংখ্যা ২২ হাজার ২৯৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৮ হাজার ২৮০ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫২ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবার ৩৮ হাজার ৭৫২ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৫ হাজার ১৪২ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৩ জন। এর মধ্যে ১৫৩ ছাত্র এবং ৩২০ জন ছাত্রী। এদিকে মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৪৪৮ ও ছাত্রী ১ হাজার ৪১২ জন।
এদিকে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাত্রদের পাসের হার গতবারের তুলনায় এবার বেড়েছে। গতবার যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ সেখানে এবারের হার হচ্ছে ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে ছাত্রীদের পাসের হার এবার কমে গেছে। পাসের হার ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ। গতবার ছিল ৬৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার বেড়ে হয়েছে ৮০ দশমিক ০৯ শতাংশ। গতবার ছিল ৭৩ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে মানবিকে হয়েছে উল্টোটা। মানবিকে গতবার যেখানে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬৯ শতাংশ সেখানে এবার কমে হয়েছে ৪৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার কমে হয়েছে ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। গতবার ছিল ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ।
এবার নগরে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগেরবার ছিল ৭৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জেলায় পাসের হার কমে হয়েছে ৫৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। যা আগের বার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিন পাবর্ত্য জেলা ও কঙবাজারে নেতিবাচক ফলাফলের প্রভাব পড়ে বোর্ডের সার্বিক ফলাফলের উপর।
কঙবাজার জেলায় এবার পাসের হার কমে হয়েছে ৫৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগেরবার ছিল ৬১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। রাঙামাটি জেলায় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৫০ শতাংশে। অথচ গতবার যা ছিল ৪৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
খাগড়াছড়ি জেলায় খানিকটা ব্যতিক্রম হয়েছে। এখানে পাসের হার বেড়ে হয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গতবার ছিল ৩৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। বান্দরবান জেলায় পাসের হার সামান্য কমে হয়েছে ৫৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। গতবার যা ছিল ৬২ দশমিক ৩১ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, এবার ১০৩টি কেন্দ্রে ২৬০টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষার জন্য বসে। ঘোষিত ফলাফলে ১ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। এবার বহিস্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ জন। পাসের হার শূন্য এমন কলেজের সংখ্যা এবার ১টি। শতভাগ পাসের হার এমন কলেজের সংখ্যা এবার ১টি কমে হয়েছে ৪টি।
এদিকে পাস করা মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-২ থেকে ৩ পর্যন্ত পেয়েছে ২২ হাজার ৬৩৭ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১১ হাজার ১৮ এবং ছাত্রী ১১ হাজার ৫১৯ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানান, প্রকাশিত ফলাফলে কোন ভুলক্রটি বা অসঙ্গতি থাকলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তা সংশোধন করার অধিকার সংরক্ষণ করে। তবে এক্ষেত্রে ফল প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বরাবর আবেদন করতে হবে।
তিনি আরো জানান, ১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।

x