সাত দেশ থেকেই এসেছে রেমিট্যান্সের ৫৯ শতাংশ

আজাদী ডেস্ক

শনিবার , ১৭ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
608

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে নানা উদ্যোগে বৈধ পথে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছবে মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশ থেকে ৯৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড রেমিট্যান্স। একই সঙ্গে মোট রেমিট্যান্সের ৫৯ শতাংশই এসেছে আরবের এ দেশগুলো থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৯৬ শতাংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ওই সব দেশে থাকা প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৯৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ বা ১১১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। প্রবাসী আয় পাঠানোর শীর্ষে থাকা ১০ দেশের মধ্যে ৬টি হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বরাবরের মতো গেল অর্থবছরেও সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৩১১ কোটি ডলার। যা মোট আহরিত রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে অন্য দেশগুলো হচ্ছে আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৪ কোটি ডলার। তৃতীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৪ কোটি ২৮ লাখ ডলার। চতুর্থে থাকা কুয়েত থেকে এসেছে ১৪৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে পঠিয়েছে ১৭৫ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১১৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ওমান থেকে এসেছে ১০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, কাতার থেকে ১০২ কোটি ৩৯ লাখ ডলার, ইতালি থেকে ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার এবং বাহরাইন থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৭ কোটি ডলার। রেমিট্যান্সের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিল। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে গত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার। এরপরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীরা পাঠান এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আসে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
রেমিট্যান্স আহরণে এবারও নবম বাংলাদেশ : বিশ্বব্যাপী বেশি রেমিট্যান্স আসা দেশগুলোর মধ্যে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান নবম। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে এ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, দ্বিতীয় চীন ও তৃতীয় অবস্থানে আছে মেক্সিকো। সমপ্রতি বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড রেমিট্যান্স ইউনিট বিভাগ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের গতি প্রাণবন্ত ছিল। ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বিশ্বে প্রবাসী আয়ের দেশ হিসেবে অবস্থান বদলায়নি। কারণ এর আগের বছর ২০১৭ সালেও বাংলাদেশ একই অবস্থানে ছিল। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্সে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে ১৩১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৭ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী উত্থান ঘটেছে। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় রেমিট্যান্স আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০১৮ সালে ভারতে রেমিট্যান্স ১৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আলোচিত বছরে দেশটি সাত হাজার ৮৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। ভারতের পরে রয়েছে চীন, মেক্সিকো, ফিলিপাইন, মিসর, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ইউক্রেন ও ভিয়েতনাম। বিশ্বব্যাংকের ধারণা, ২০১৮ সালে চীনের রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছয় হাজার ৭৪০ কোটি ডলার, মেক্সিকোর তিন হাজার ৫৭০ কোটি, ফিলিপাইনের তিন হাজার ৩৮০ কোটি, মিসর দুই হাজার ৮৯০ কোটি, নাইজেরিয়ার দুই হাজার ৪৩০ কোটি, পাকিস্তান দুই হাজার ১০০ কোটি, ভিয়েতনাম এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার, বাংলাদেশ এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ইউক্রেন এক হাজার ৪৪০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করেছে।

x