সাক্ষী না আসায় পেছালো সাক্ষ্যগ্রহণ

কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থ আত্মসাৎ

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১১ জুন, ২০১৯ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
12

১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নামে ভুয়া চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ২৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৫ টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার মামলায় বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। গতকাল সোমবার আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সাক্ষী না আসায় মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দেয়া হয়। বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আগামী ৩০ জুলাই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ মুছা জানান, আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন। কিন্তু সাক্ষী না আসাতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়নি। এ কারনে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুলাই। এর আগে এপ্রিল মাসে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কঙবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলমসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ও চট্টগ্রামের জেলা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন আসামিদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছিলেন।
প্রসঙ্গত: র্দীঘদিন ধরে এ আদালতে নিয়মিত বিচারক না থাকায় জেলা ও দায়রা জজ ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ৩৬ আসামি হলেন- কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলম, সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সার্ভেয়ার টিএম বাদশা মিয়া, এলএ শাখার কর্মচারী মো. আবুল কাশেম মজুমদার, কানুনগো মো. আবদুল কাদের ভুঁইয়া, রফিকুল ইসলাম, মো. জমির উদ্দিন, জিএম ছমিউদ্দিন, আমিনুল ইসলাম, রিদোয়ান, আশরাফ আলী, মো. সেলিম উদ্দিন, মো. হারুন, মো. দানু মিয়া, মীর কাশেম, মো. সেলিম, এরফান, ছখি আলম, মহিবুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, আহসান উল্লাহ বাচ্চু, অ্যাডভোকেট নূর মোহাম্মদ সিকদার, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আবুল বশর, মো. রুহুল আমীন, সালেহ আহমদ সামাদ, এস্তেকাজুল হক, বশির আহমদ, মো. মশিউর রহমান, আনোয়ারুল ইসলাম, আশরাফ আলী, মো. আনিস, নূরুল আবছার, মো. ইলিয়াছ রহমান এবং মো. রাজীবুল আলম।
আদালতের আদেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিংড়ি খাতের ক্ষতিপূরণ প্রকল্পে ভুয়া লোকজনের নামে প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রুহুল আমিন, জাফর আলমসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে মামলা দায়ের হয়। পরে তদন্ত শেষে সাবেক ডিসি রুহুল আমিন ও এডিসি জাফর আলমসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ছিলেন রুহুল আমিন। ওই সময় মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মহেশখালী উপজেলায় ১ হাজার ৪১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পে তখন ২৫টি ভুয়া চিংড়িঘেরের তথ্য দিয়ে ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। ২০টি চেকের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ ও ৫টি চেকের মাধ্যমে ২৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৫ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন আসামিরা। এ কারণে ৩৬ আসামিকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। অভিযোগ গঠন উপলক্ষে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হন। শুনানিতে অংশ নিয়ে তাদের আইনজীবী আসামিদেরকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন। আদালতের বিচারক সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এদিকে অভিযোগ গঠনের সময় আসামি মোহাম্মদ আনিস, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও মোহাম্মদ রাজিবুল আলম পলাতক থাকায় বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

x