সাক্ষরতার হার বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে

রবিবার , ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
31

দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৩.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৭২.৯ শতাংশ। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এ তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় এ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকারের সময় সাক্ষরতার হার ৫৩.৫ শতাংশ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ১৯৬৫ সালের ১৭ই নভেম্বর ৮ই সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তার পরের বছর থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রতিটি সমাজে সাক্ষরতা তথা শিক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরার জন্য এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রতি বছর এ দিনটিতে ইউনেস্কো বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বের প্রাপ্ত বয়স্কদের সাক্ষরতার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারাবিশ্বে প্রায় একশ কোটি লোকেরও বেশি নিরক্ষর। আর এই একশ কোটি লোকের মধ্যে প্রায় সাতষট্টি কোটি লোকের বাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। আমাদের বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘সবার জন্য শিক্ষা’- এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট লোকেরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং গণশিক্ষার কার্যক্রম চালু হয়েছে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শ্রীলংকায় বর্তমানে শতভাগ লোক শিক্ষিত। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের প্রতিবেশী দেশ যেভাবে এগিয়ে গেছে, ঠিক সেভাবে আমাদের দেশও এগিয়ে যাবে- এ আশাটা আমরা রাখতে পারি।
সাক্ষরতার সঙ্গে যেমন উন্নয়নের সম্পর্ক আছে, তেমনি আছে দারিদ্র্যের সঙ্গেও। যে দেশের মানুষ নিয়মিত তিন বেলা তিন মুঠো খাবার পায় না, তাদের জন্য বিদ্যালয়ে যাওয়া দুষ্কর; অসুখ-বিসুখ অভিশাপ। বিশ্বব্যাপী হাজারো সমস্যা এই বিশ্বে সুবিধাভোগী আর সুবিধাবঞ্চিত দুটি ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি তৈরি করে বৈষম্যের বেড়াজাল তৈরি করছে। এসব সমস্যা এককভাবে কোন ব্যক্তি, দেশ বা সংস্থার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু সাক্ষরতা এমন একটা সমস্যা, যেটা দূর করার জন্য সবচেয়ে প্রথম আসতে হবে সমাজের ক্ষুদ্র পর্যায় থেকে। আর তা হলো একজন শিক্ষিত ব্যক্তি যিনি তার আশেপাশের নিরক্ষর মানুষদের নিজ উদ্যোগে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূরীকরণ অভিযানে প্রথম একাত্ম হবে নিঃস্বার্থভাবে।
আসলে নিরক্ষরতা দূরীকরণের কাজটি ব্যাপক। দেশের অধিকাংশ মানুষকে অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করে তুলতে হলে আরো বেশি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তবে সাক্ষরতার হার বাড়ানোর জন্য সরকারের পাশাপাশি সচেতন সকল নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। সকল শিশুকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হলে একই স্কুলে একাধিক পর্যায়ে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। নতুবা বিদ্যমান স্কুলে একাধিক শিফট চালু করতে হবে।
নিরক্ষর ব্যক্তিরা যাতে স্বেচ্ছায় সাক্ষর হবার জন্যে উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসে, সে জন্যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একথা বলা অনস্বীকার্য যে, পৃথিবীতে যে দেশে যত বেশি শিক্ষিত সে দেশ তত বেশি উন্নত। শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমেই পাশ্চাত্যের দেশগুলো উন্নতির শিখরে উঠেছে। আমাদের দেশেও শিক্ষার হার বাড়লে উন্নতি অবশ্যাম্ভাবী।
এখানে উল্লেখ্য, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে অক্ষর জ্ঞান দান, অব্যাহত ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরী ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, কর্মসংস্থান, আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশু-কিশোরদের শিক্ষার বিকল্প সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সরকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন ২০১৪ প্রণয়ন করেছে। সাক্ষরতার বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেশ কয়েকটি পরিকল্পনার কথা উপস্থাপন করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে: নতুন সাক্ষরতা অর্জনকারী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রাথমিকভাবে ৫০০টি আইটি বেইজড স্থায়ী কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার স্থাপন, ৬৪টি জেলায় জীবিকায়ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন প্রভৃতি। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সাক্ষরতার হার আরো বৃদ্ধি পাবে- তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমরা সাক্ষরতার ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা প্রত্যাশা করি।…….

x